আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি আতঙ্কের নাম হচ্ছে, ছোঁয়াচে রোগ- হাম। হাম হলো একটি অতি-সংক্রামক ও মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়।
উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং সারা শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি ওঠা এর প্রধান লক্ষণ। তাই আজকে আমাদের আর্টিকেলটিতে আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন’।
পেজ সূচিপত্রঃ আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
- আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
- শিশুর হাম রোগের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষণসমূহ সম্পর্কে জেনে নিন
- হাম শিশুর জন্য কতটা মারাত্মক তা জানা জরুরি
- হাম কি ছোঁয়াচে রোগ এবং কিভাবে ছড়ায়? জানুন
- হামে আক্রান্ত আপনার শিশুর যত্ন কিভাবে নিবেন জেনে নিন
- হামে কারা বেশি ঝুঁকিতে আছে? জানা জরুরি
- হাম রোগের প্রতিকারসমূহ জানুন
- শিশু হামে আক্রান্ত হলে বাবা-মা হিসেবে আপনাদের করণীয় কি? জেনে রাখা ভালো
- প্রশ্ন ও উত্তরঃ আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
- পোস্টের শেষ-কথাঃআপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
স্বাভাবিকভাবেই শিশুরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। যার মধ্যে হাম হল শ্বাসযন্ত্রের একটি ভাইরাস সংক্রমণ যা মিজলস ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রামিত লালা বা শ্লেষ্মা সংস্পর্শে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একজন আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তি তার আশে পাশের ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।
তবে একটি ক্লাসিক হামের উপসর্গ হল ত্বকে ফুসকুড়ি। হামের ফুসকুড়ি সাধারণত লাল, চুলকানি বাম্প যা সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাছাড়া হামের অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, চোখ লাল, মুখে সাদা দাগ।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ সিয়াম মোয়াজ্জেম বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকা নেয়নি, বিশেষ করে ১৫ মাসের কম বয়সী বা যারা এক বা দুই ডোজের কোনোটি নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু কিংবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তাছাড়া যেসব শিশু এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং পায় না বা যাদের পুষ্টিহীনতা রয়েছে, তাদের ইমিউনিটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে। ফলে তাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ডাঃ মোঃ সিয়াম এর মতে, যেহেতু এখন বিভিন্ন এলাকায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে (আউটব্রেক পরিস্থিতি), এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় কোনো বাচ্চা যদি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে নিশ্চিতভাবে এসে যায়, সেক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সী শিশুকেও বিশেষ বিবেচনায় টিকা দেয়া যেতে পারে।
আরো পড়ুনঃ শীতে শিশুর ঠান্ডাজনিত সমস্যা - বিস্তারিত আলোচনা
শিশুর হাম রোগের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষণসমূহ সম্পর্কে জেনে নিন
- উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর: শিশুর শরীরে প্রচণ্ড জ্বর অর্থাৎ ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চ জ্বর থাকতে পারে (যা সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে)।
- লাল ফুসকুড়ি: শিশুর শরীরে ছোট ছোট লাল লাল র্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠে। প্রথমে এটি মুখে দেখা দেয়, এরপর ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
- সর্দি ও কাশি: নাক দিয়ে একটানা পানি পড়া এবং খুসখুসে বা কফযুক্ত কাশি থাকে।
- মুখে সাদা সাদা দাগ: প্রাথমিক লক্ষণগুলির দুই থেকে তিন দিন পরে মুখে সাদা দাগ দেখা দেয়।
- ব্যথা অনুভূত হওয়া: পেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথা, পেটে ব্যথা, তাছাড়া ডায়রিয়া, অথবা বমিভাব হওয়া।
- চোখের সমস্যা: চোখ জবা ফুলের মতো লাল হয়ে যায় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
- দুর্বলতা: শিশুর খাওয়ার প্রতি চরম অনীহা তৈরি হয় এবং শিশু খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।
হাম শিশুর জন্য কতটা মারাত্মক তা জানা জরুরি
- তীব্র নিউমোনিয়া (শ্বাসকষ্ট)।
- মারাত্মক ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা।
- চরম অপুষ্টি।
- মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)।
- কিছু ক্ষেত্রে শিশুর অকাল মৃত্যু।
হাম কি ছোঁয়াচে রোগ এবং কিভাবে ছড়ায়? জানুন
হ্যাঁ, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। হাম বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সংক্রামক রোগগুলোর একটি। আপনার পরিবারে বা আশেপাশে কারো হাম হলে সুস্থ শিশুদের সাবধানে রাখা সবচেয়ে জরুরি।
👉হাম রোগটি যেভাবে ছড়ায়ঃ
- এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
- একজন আক্রান্ত রোগীর কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
- সুস্থ কোনো শিশু সেই বাতাসে শ্বাস নিলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি গেলে খুব দ্রুত এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়।
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি, হাঁচি বা কথা বলে তখন দূষিত ফোঁটা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
- হামে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চুম্বন করলে।
- প্রসব, স্তন্যপান, অথবা গর্ভাবস্থায় মা থেকে শিশুর কাছে ছড়ায়।
- সংক্রামিত ব্যক্তির মিউকোসাল স্রাব দ্বারা দূষিত কোনও পৃষ্ঠ বা বস্তুর সংস্পর্শে আসলে।
- হামে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে হাত ধরা বা করমর্দন করলে।
হামে আক্রান্ত আপনার শিশুর যত্ন কিভাবে নিবেন জেনে নিন
হামের চিকিৎসা এখনও পাওয়া যায় না। হাম হলে শিশুর শরীর ভেতর থেকে প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় সঠিক খাবার ও যত্নই পারে তাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে আর তাই এই রোগের লক্ষণগুলি থেকে মুক্তি পেতে আপনি কিছু যত্নের টিপস অনুসরণ করতে পারেন।
- যেসব শিশু এখনো মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাদের কোনোভাবেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। বরং আগের চেয়ে বেশিবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
- একবার হাম ধরা পড়লে, পানিশূন্যতা রোধ করার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত তরল পান করার আপনার শিশুকে। শিশুকে জুস, স্যুপ, জল এবং দুধ খাওয়াতে পারেন। এমনকি ডাক্তার আপনাকে মৌখিক পুনঃহাইড্রেশন দ্রবণ গ্রহণের পরামর্শও দিতে পারেন কারণ এতে শরীরের তরল প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে চিনি, জল এবং লবণ থাকে।
- হামের ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে ভিটামিন-এ এর কোনো বিকল্প নেই। শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখুন: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, পাকা পেঁপে, পালং শাক ও অন্যান্য যেকোনো সবুজ শাকসবজি।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে দিন যাতে আপনার শিশুর শরীর দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরে শিথিল হতে পারে এবং তার কার্যকারিতা ফিরে পেতে পারে।
- যদি আপনার শিশু হামে আক্রান্ত হন, তাহলে এমন খাবার খাওয়াবেন না যা চিবানো কঠিন। শিশুকে আলু, ভাত, স্যুপ এবং ওটসের মতো নরম খাবার খাওয়াতে পারেন।
হামে কারা বেশি ঝুঁকিতে আছে? জানা জরুরি
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে, তবে টিকা না নেয়া যে কোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। এটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও অবহেলা ও টিকাদানের ঘাটতির কারণে এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিদ্যমান।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ যারা:
- যে ছোট শিশুরা এখনো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নেয়নি।
- বছরের কম বয়সী শিশু
- অপুষ্টিতে ভোগা শিশু (ভিটামিন এ ঘাটতি)
- দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি
- ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী।
শিশু হামে আক্রান্ত হলে বাবা-মা হিসেবে আপনাদের করণীয় কি? জেনে রাখা ভালো
যদি বুঝতে পারেন যে আপনার শিশুর হাম হয়েছে, তবে বিচলিত না হয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ
- আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন (Isolation): বাড়িতে অন্য সুস্থ শিশু থাকলে আক্রান্ত শিশুকে তাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরে রাখুন। এতে অন্য শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।
- দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান এবং একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- নিজে থেকে ওষুধ দেবেন না: সবচেয়ে বড় ভুল হলো ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ানো। ডাক্তারের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ (এমনকি জ্বরের সিরাপও) খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।
- মাস্ক ব্যবহার করুন: আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যার সময় নিজে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে এবং পরিবারের অন্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।
- সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন: শিশুকে স্পর্শ করার আগে ও পরে অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে দুই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
হাম রোগের প্রতিকারসমূহ জানুন
“প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম” - হামের ক্ষেত্রে কথাটি শতভাগ সত্য।হাম প্রতিরোধের একমাত্র ও সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো সময়মতো শিশুকে টিকা দেওয়া।
- বাংলাদেশে টিকা প্রধান কর্মসূচীতে (এমএমআর) টিকা দেওয়া হয়।
- ১ম ডোজ: শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ দিতে হবে।
- ২য় ডোজ: শিশুর বয়স ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
- এ টিকা শিশুদের হাম রোগ থেকে ৯৫-৯৯% সুরক্ষা প্রদান করে
প্রশ্ন ও উত্তরঃ আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
পোস্টের শেষ-কথাঃ আপনার শিশুর কি হাম হয়েছে? লক্ষণ, যত্ন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
তাছাড়া, হাম রোগ নির্ণয় এবং আরও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ভালোমানের হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
বি: দ্র: এই পোস্টটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আপনার সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আশা করি, উপকৃত হবেন। ভালো থাকবেন। আর ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।


গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url