বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, শীত প্রায় শেষের দিকে। আসছে বসন্তকাল। আর এই বসন্তের শুরুতে প্রকৃতি নতুন সাজে ‍সজ্জিত হয়। গাছে গাজে ফুল আসে আর এই ফুলের রেণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। বাতাসবাহিত এই রেণু আমাদের চোখ, নাক, ফুসফুসে প্রবেশ করে- যার ফলে ভয়াবহ এলার্জি, র‌্যাশ, ঘামাচি ইত্যাদি দেখা দেয়।

বসন্তের-শুরুতে-বাচ্চাদের-এলার্জি-ও-র‍্যাশ-প্রতিরোধের-উপায়

তাই আজকে আমাদের আর্টিকেলের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায়’

পেজ সূচিপত্রঃ বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায়

বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায়

আমরা জানি, প্রতি বছরই ঋতুর পালা বদলে শীতের শেষে আসে বসন্ত। আর এ সময় বাচ্চাদের এলার্জি ও র‌্যাশের মতো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, এই বসন্তের শুরুতে প্রকৃতি নতুন সাজে ‍সজ্জিত হয়। গাছে গাজে ফুল আসে আর এই ফুলের রেণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। বাতাসবাহিত এই রেণু আমাদের চোখ, নাক, ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফলে এর ফলে চোখে কনজাংটিভাইটিস, ফুসফুসে প্রদাহজনিত রোগ বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া অনেকের ত্বকেও নানা রকমের সমস্যা হয়।

এ সময় এলার্জি বেড়ে গিয়ে র‍্যাশ, ফুসকুড়ি বা চুলকানি হয়ে থাকে। এজন্য যেসব শিশুর এলার্জি আছে, তাদের ফুল থেকে দূরে রাখুন। আর বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই শিশুকে মাস্ক পরিয়ে নিন।

বসন্তের শুরুতে ফুলের রেণু আমাদের শরীরে ইমিউনো সেলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। কোষ থেকে হিস্টামিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক বের হয়। এ হিস্টামিনই নানা রকম এলার্জি, চোখের প্রদাহ ও ত্বকের রোগের জন্য দায়ী। হিস্টামিন মানুষের রক্ত থেকে ফ্লুইড বের করে দেয়। এর ফলে চোখ লাল হয়। বসন্তকালেই এলার্জিজনিত কারণে অ্যাজমা বা হাঁপানি বাড়ে। সিওপিডির রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী বলেন-

ফুলের রেণুতে এলার্জেন (যা এলার্জি সৃষ্টি করে) থাকে। যাদের এলার্জির সমস্যা আছে, তারা এলার্জেনের সংস্পর্শে এলে রক্তে আইজিইর মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং এই আইজিই নাকের ভেতরে থাকা মাস্ট সেল নামক কোষকে ভেঙে দেয়। ফলে এই কোষ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে নাকে প্রদাহ ঘটায়। এর ফলে নাক চুলকানো, একনাগাড়ে কয়েকটি হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গলা খুশখুশ করা, মাঝেমধ্যে এর সঙ্গে মাথাব্যথা দেখা দেয়।

অনেক সময় এসবের সঙ্গে কারও কারও চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। অনেক দিন ধরে এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীদের নাসারন্ধ্রের পার্শ্ববর্তী মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) ফুলে গিয়ে থলির মতো বড় এবং বিবর্ণ হয়ে যায়। কারও কারও আবার চোখের চারপাশে ফোলা ভাব দেখা দেয়। ডা. শাফী আরও বলেন, যাদের অ্যালার্জিজনিত হাঁপানির সমস্যা আছে, তারা এ সময় বেশি সমস্যায় পড়েন।

তাই আজকে আমরা বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো-

আরো পড়ুনঃ এলার্জি কি-কেন হয় এবং এর চিকিৎসা কি কি

বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি হওয়ার কারণ কি? জেনে নিন

শীতের শেষে বসন্তের শুরুতে আকস্মিক উষ্ণ আবহাওয়া এলার্জির উপসর্গ বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখে।মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতকালের অস্বাভাবিক উষ্ণতা হে ফিভার এবং অন্যান্য মৌসুমী এলার্জিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। এ নিয়ে 'ইউনিভার্সিটি রচেস্টার মেডিক্যাল সেন্টার' এর গবেষণামূলক নিবদ্ধ 'এই বছরের বসন্ত এলার্জি কেন এত খারাপ'-আমাদেরকে পরিবর্তিত আবহাওয়ার প্রভাবে বসন্তকালীন অ্যালার্জি ও তার লক্ষণগুলি সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা দেয়।

বসন্তের-শুরুতে-বাচ্চাদের-এলার্জি-হওয়ার-কারণ

সাধারণত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত এলার্জিগুলোর অবস্থান দেখা যায়। এই সময়ে বার্চ, ম্যাপেল এবং ওক গাছের পরাগ বাতাসে উড়ে বেড়ায়। সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হল, পরাগগুলো আমরা দেখতে পাই না। কারণ, এটি আমাদের তথা বাচ্চাদের নাক এবং ফুসফুসে প্রবেশ করার জন্য যথেষ্ট ছোট। গাছের পরাগ অত্যন্ত উচ্ছল, একশ মাইল পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারে। বেশিরভাগ বসন্তের এলার্জি সৃষ্টি করে এই পরাগ।

বসন্ত ঋতুতে তাপমাত্রার উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরাগ স্তর প্রভাবিত হয় যা এলার্জির লক্ষণগুলিকে প্রভাবিত করে। তাছাড়া পরাগ ঋতুর সময়কাল দীর্ঘ হচ্ছে, তাই বসন্তের এলার্জিও অতীতের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

সাধারণত যাদের এলার্জি থাকে, ছোটবেলা থেকেই তাদের উপসর্গ দেখা দেয়। সদ্যঃপ্রসূত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে গরম কাপড় থেকেও ত্বকে এলার্জি দেখা দিতে পারে। কিছুদিন পরপরই বাচ্চাদের ত্বকে ফুসকুড়ি, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, হাঁচি, কাশিজনিত সমস্যা হলে বুঝতে হবে বাচ্চাটি এলার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছে। অনেক বাচ্চার ধুলাবালু, পুরোনো কাপড়, বইয়ের সংস্পর্শে এলে এলার্জি দেখা দেয়।

আরো পড়ুনঃ জন্মের পর শিশুকে টিকাদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ- বিস্তারিত আলোচনা

বাচ্চাদের এলার্জির প্রকারভেদ সম্পর্কে জানুন

চিকিৎসাবিজ্ঞান এলার্জিগুলোকে কয়েকটিভাগে ভাগ করেছে। যেমন-

একজিমাঃ বাচ্চাদের হাত, গাল, মাথার ত্বক, পায়ে একজিমা হতে পারে। সাধারণত এটি একটি প্রদাহজনিত রোগ। বাচ্চাদের র‍্যাশ বা দানা, ফুসকুড়ি, চুলকানি হতে পারে।

বাচ্চাদের-এলার্জির-প্রকারভেদ

আর্টিক্যারিয়াঃ নানা রকমের খাবার, ধুলায় হঠাৎ আর্টিক্যারিয়া দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে বাচ্চার গায়ে লাল লাল চাকা দেখা দেয়। প্রচণ্ড চুলকানি হতে থাকে। অনেক সময় বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে।


মিলিয়ারিয়াঃ সাধারণত গরমে বাচ্চার র‍্যাশ হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্র এলার্জি বংশানুক্রমিকভাবে হয়ে থাকে যেমন- মা-বাবা থেকে অথবা বংশের কারও এলার্জি থাকলে। অপরদিকে, কিছু খাবার আছে যেমন- চিংড়ি মাছ, বেগুন, গরুর মাংস ইত্যাদিতে এলার্জি হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এসব খাবার ছাড়া অন্য খাবারেও এলার্জি হতে পারে।

বসন্তে বাচ্চাদের এলার্জির চিকিৎসা বা প্রতিরোধের উপায়

আমরা দেখতে পাই, মানবদেহে যেমন বিভিন্ন ধরনের রোগ হয় তেমনি এর চিকিৎসা বা প্রতিরোধের উপায়ও আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোন বাচ্চা এলার্জিজনিত সমস্যায় পড়ে তাহলে প্রথমেই ডাক্তারের সাথে কথা বলা দরকার। প্রয়োজন মতে ত্বক পরীক্ষার মাধ্যমে একজন এলার্জিস্টের সাথে দেখা করার পরামর্শ পেতে পারেন, যা আপনার বাচ্চার উপসর্গ সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট এলার্জেনগুলি সনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

এলার্জির ওষুধের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিনকার কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে নিজেদের সচেতন করার পরামর্শও দেন। যেমন-

বাচ্চাদের শোবার ঘরে ঢোকার সময় পোশাক পরিবর্তন করা, বাইরে থেকে ফিরে এসে আসলে গোসল করা, ঘরের বাইরে বের হলে সানগ্লাস পরা, স্যালাইন নাসাল রিন্স ব্যবহার করা, শরীরকে সবসময় হাইড্রেটেড রাখা, নিয়মিত আবাসস্থল ভ্যাকুয়াম করা, এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করা ইত্যাদি।

তাছাড়া যেসব খাবারের কারণে এলার্জি হতে পারে, তা না খাওয়া। ধুলা-বালু থেকে দূরে থাকা, ধুলায় গেলে মাস্ক পরিধান করা। পুরোনো জামাকাপড় পরার আগে আয়রন করা বা রোদে দিয়ে পরা। পোষা প্রাণী বাসায় না রাখাই ভালো। সুতির কাপড় পরিধান করানো। এলার্জি বেড়ে গেলে অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করানো, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষ করে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে যদি-
  • বাচ্চার শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে
  • মুখ বা চোখ ফুলে যায়
  • জ্বর আসে বা পুঁজ হয়
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের র‌্যাশ হওয়ার কারণ কি? জেনে নিন

বসন্তের শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাতাসে পরাগ রেণুর আধিক্য এবং ভাইরাসের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় বাচ্চাদের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। র‍্যাশের কারণে বাচ্চাদের প্রচুর অস্বস্তি এবং চুলকানি হয়। র‍্যাশ সাধারণত এমন সময়ে হয় যখন আবহাওয়া হঠাৎ করেই ঠাণ্ডা থেকে গরম হতে শুরু করে। বাচ্চাদের সাধারণত পেট, পিঠ, হাত ও ঘাড়ে হিট র‍্যাশ হতে দেখা যায়।

বাচ্চাদের র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়ার সাধারণ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন-

  • নোংরা ডায়াপার 
  • ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ 
  • খাবারে অ্যালার্জি
  • পোষা প্রাণী থেকে অ্যালার্জি
  • একটি গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু।
  • বাচ্চাদের এমন পোশাক যা থেকে তাপ সহজে বের হতে পারে না।
  • পুরু লোশন এবং ক্রিমের ব্যবহার।
  • একাধিক কাপড় পরিধান করার কারণে বাচ্চার শরীর অভারহিট হয়ে যাওয়া।

বাচ্চাদের র‍্যাশের বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে জানুন

যদি আপনার বাচ্চার র‍্যাশ হয় এবং ক্রমাগত কাঁদতে থাকে, তবে বাবা–মা হিসাবে আপনাকে কখন পেশাদারের সাহায্য সন্ধান করতে হবে এবং বিভিন্ন ধরণের র‍্যাশগুলি বোঝার চেষ্টা করা উচিত। বিভিন্ন ধরণের র‍্যাশ এবং সেগুলি কিভাবে ব্যবস্থা করা যায় তা বোঝার জন্য বাচ্চাদের কয়েকটি সাধারণ র‍্যাশ নিচে আলোচনা করা হলোঃ

  • স্ল্যাপড চিক সিন্ড্রোমঃ স্ল্যাপড চিক সিন্ড্রোম একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা এক বা উভয় গালে উজ্জ্বল লাল র‍্যাশ বিকাশের দিকে পরিচালিত করে। যদিও এই র‍্যাশ স্কুলে যাওয়ার বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়ম তবে এটি যে কোনো শিশুর হতে পারে। এই র‍্যাশ সাধারণত বেদনাদায়ক হয় না এবং এটি নিজে নিজেই অদৃশ্য হয়ে যায়।
  • ড্রিবল র‌্যাশঃ সাধারণত বাচ্চার মুখের আসেপাশে অঞ্চল জুড়ে দেখা যায়, গালে বা ঘাড়ের ওপারে, ড্রিবল র‍্যাশ হয়। যদি লালা ঘন ঘন মুছে ফেলা না হয় এবং এই অঞ্চলগুলিতে জমে থাকে তবে এর ফলে এই ধরণের র‍্যাশ হয়।
  • মিলিয়াঃ বাচ্চার মুখে ছোট সাদা রঙের দানা দানা স্পটগুলোই হচ্ছে মিলিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ। এগুলি হল সাবসিডারেল সিস্ট। এগুলি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়, অতএব কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
  • সেবোরেহেইক ডার্মাটাইটিসঃ সেবোরেহেইক ডার্মাটাইটিস নামক এই র‍্যাশ ছোট লাল ফোলা অংশ ও মাথার ত্বকে হলুদ বর্ণের কিছু ক্রাস্টি স্কেল আকারে উপস্থিত হয় এবং এমনকি ভ্রু ও চোখের পাতাতেও দেখা দেয়। এর সাথে চুলকানিও হয়। আর এর পেছনের কারণটি হল মূলত বাচ্চার ফর্মূলা দুধ বা পরিপূরক খাবারের কোনো উপাদানে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া।
  • ইমপেটিগোঃ ইমপেটিগো একটি বাচ্চার মুখ, বিশেষত তার নাকের চারপাশে এবং তার হাতগুলিতে অত্যন্ত বিরক্তিকর লাল রঙের ফোসকা আকারে উপস্থিত হয়। এই অবস্থাটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং আসলে এটি একটি সংক্রমণ ব্যাধি।
  • শিশুদের একজিমাঃ সাধারণত রুক্ষ কাপড়, রাসায়নিক ডিটারজেন্ট বা অন্যান্য ত্বকের এলার্জেন বাচ্চার সংস্পর্শে আসার পরে এই র‍্যাশ দেখা দেয়। এটি শুষ্ক, খসখসে ও লালচে বর্ণের হয় এবং সাধারণত মুখ, পা, বুকে ও হাতে দেখা দেয়।

বাচ্চাদের র‌্যাশ প্রতিরোধের উপায়-

একটু সাবধান হলেই বাচ্চাদের র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। এটি প্রতিরোধের জন্য যা যা করা উচিত তা নিচে ধরা হলোঃ

  • গরমে বাচ্চা ঘেমে গেলে তা যেন বাচ্চার ত্বকে না লেগে থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য যখনই বাচ্চা ঘেমে যাবে সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার ত্বক থেকে একটি ভেজা তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে ঘাম মুছে নিতে হবে।
  • র‌্যাশে ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স স্বাভাবিক রাখতে হয়। তাই মা ও বাচ্চা উভয়কেই এ সময় বেশি বেশি পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • বাচ্চাকে এ সময়  ডায়াপার পরিয়ে রাখা একদমই উচিত নয়। কারণ, ডায়াপার পরার কারণে এ সময় বাচ্চার ত্বকে হিট র‌্যাশ আরও বেড়ে যাবে।
  • র‌্যাশে ত্বক তীব্র গরম সহ্য করতে পারে না। তাই প্রখর রোদ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখতে হবে।
  • অনেকেই এ সময় বাচ্চার ত্বকে বেশি বেশি পাউডার আর লোশনের ব্যবহার শুরু করে দেন, যা মোটেও উচিত নয়।
  • গোসলে প্রতিদিন সাবান ব্যবহার করা যাবে না। কারণ, সাবানের ব্যবহার বাচ্চার ত্বক রুক্ষ আর খসখসে করে তোলে।
  • আপনার বাচ্চাকে নিয়মিত গোসল আর পরিষ্কার রাখতে হবে। অকারণে বাচ্চাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যাবে না।
  • বাচ্চার র‌্যাশ হলে অবশ্যই পরনে সুতির কাপড় প্রাধান্য দিতে হবে। পোশাকে যেন বাতাস ঢুকতে পারে, এর জন্য ঢিলেঢালা পোশাক পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

প্রশ্ন ‍ও উত্তরঃ বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায়

প্রশ্নঃ বাচ্চাদের এলার্জির লক্ষণ কি কি?
উত্তরঃ বাচ্চাদের এলার্জির লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- ত্বকে লাল লাল ছোপ, চুলকানো, চামড়ার নিচের আস্তরণসহ ফুলে যাওয়া। চোখ খচখচ করা, চোখ লাল, পানি ঝরা। নাক বন্ধ, হাঁচি, গলা চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলায় কর্কশ আওয়াজ, শুষ্ক কাশি প্রভৃতি।

প্রশ্নঃ গরুর দুধ খেলে কি এলার্জি বাড়ে?
উত্তরঃ সাধারণত শরীরে ল্যাকটোজ এনজাইম কম থাকলে দুধে এলার্জি হয়। এ ছাড়াও গরুর দুধে আলফা এস ওয়ান ক্যাসেইন প্রোটিন থাকে যা এলার্জির কারণ।

প্রশ্নঃ বাচ্চাদের মুখে লাল দাগ হওয়ার কারণ কি?
উত্তরঃ বাচ্চাদের মুখে লাল দাগগুলি ত্বকের নীচের ছোট ছোট রক্তনালী, কৈশিক ভাঙ্গার কারণে হয়। এগুলি চুলকানি বা ব্যথা করে না।

পোস্টের শেষ-কথাঃ বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায়

পরিশেষে, ‘বসন্তের শুরুতে বাচ্চাদের এলার্জি ও র‍্যাশ প্রতিরোধের উপায়’ শিরোনামের আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, খুব গরম বা আবহাওয়া পরিবর্তনে অনেক সময় বাচ্চার শরীরে এলার্জি বা চুলকানি, র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এসময় অনেক মা এ সমস্যায় নিয়ে ফেলেন ভুল পদক্ষেপ। তাই আশা করি, উক্ত আর্টিকেলটি মায়েদের জন্য বাচ্চার সুস্বাস্থ্যরক্ষায় উপকারে আসবে। সর্বোপুরি, বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করি।

বিশেষ-কথা: এই পোস্টে প্রদত্ত তথ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান এবং তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url