দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, কথায় আছে, আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। আর বাঙালির প্রধান খাদ্য হচ্ছে ভাত। তাইতো ঘরে মাছ, ডাল, তরকারি না থাকলেও দিনে তিন বেলা ভাত ঠিকই থাকবে।
তবে তিন বেলা ভাত খেলে আমাদের দেহের কি কি উপকার আর কি কি অপকার হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো ‘দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন’ এই আর্টিকেলের মাধ্যমে।
পেজ সূচিপত্রঃ দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
- দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
- ভাতের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কি কথা
- সকালে ভাত খেলে কি হয় জেনে রাখা ভালো
- অতিরিক্ত ভাত খেলে কি হয় জানুন
- রাতে ভাত খেলে কি হয় জানা দরকার
- তিন বেলা খাবারের তালিকা
- তিন বেলা ভাত খেলে কি মোটা হয়
- ভাত কম খেলে কি হয় জেনে নিন
- প্রশ্ন ও উত্তরঃ দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
- পোস্টের ইতি-কথাঃ দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
আজকে এই আর্টিকেলে আমরা দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। বাঙালিদের ঘরে ঘরে দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার প্রচলন বহু কাল থেকে রয়েছে। যদিও শহরে কেউ কেউ দুই বেলা ভাত খান। এক বেলা রুটি। আবার অনেকে ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী খেয়ে থাকেন।
তাছাড়া পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, দৈনিক একবার ভাত খাওয়া কোনও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। ভাত অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। তাই যে কোনও মানুষ চাইলে নির্দ্বিধায় তিন বেলা ভাত খেতে পারেন। তবে সব কিছুই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, জাপানের অনেক মানুষই তিন বেলাই ভাত খান। তারপরও তাঁরা একদম সুস্থ-সবল জীবনযাপন করেন। তাদের পিছু নিতে পারে না কোনও অসুখ-বিসুখ।
অপরদিকে, মানুষ যখন বেশি ক্ষুধার্ত থাকে তখন ক্ষুধার মধ্যে অনেকেই বেশি ভাত খেয়ে ফেলেন। ফলে অনেক সমস্যা দেখা দেয় তাদের শরীরে। কারণ, প্রতি ১৫০ গ্রাম ভাতে ২০০ ক্যালোরি থাকে। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখও বাসা বাঁধে।
তাই আমরা যারা তিনবেলা ভাত খাই তারা অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করব।
পাশাপাশি শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া উচিত।
আরো পড়ুনঃ বয়স অনুযায়ী আমাদের খাদ্যাভ্যাস কি হওয়া উচিত?
ভাতের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কি কথা
ভাতের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়- ভাত হল কার্বের ভান্ডার। আর এই উপাদান পুড়িয়েই দেহ নিজের জন্য শক্তি অর্জন করে থাকে। তাইতো দেহের শক্তি অর্জনের জন্য আমাদের কর্মজীবনে ভাত খাওয়াটা খুবই জরুরী।
ভাতে রয়েছে ফাইবার বা আশঁ, আমিষ বা প্রোটিন, জিংক, ভিটামিন-বি, সেলেনিয়ামের মত একাধিক জরুরি উপাদান। তবে শুধু সাদা ভাতে আশঁ বা ফাইবার কিছুটা কম থাকে। ফলে খুব দ্রুত খিদে লাগে এবং রক্তের সুগার বেড়ে যাওয়ার একটা ভয় থাকে।
তাই সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইসের ভাত খেতে পারেন যা আপনার দেহের ফাইবার বা
আশেঁর চাহিদা পূরণ করবে।
আরো পড়ুনঃ সুস্থ থাকতে প্রতিদিন দুধ খান- নিজেকে ফিট রাখুন
সকালে ভাত খেলে কি হয় জেনে রাখা ভালো
সকালে ভাত খাওয়ার ভালো-মন্দ নির্ভর করে সে কি পরিমানে খাচ্ছে অর্থাৎ সারাদিন
কতটুকু পরিশ্রম করছে। যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করে তাদের জন্য ভাত খাওয়াটা
বেশি একটা সমস্যা হয় না। আর যারা কম পরিশ্রম করেন তাদের জন্য পরিমিত পরিমাণে
খাওয়া উচিত। কারণ, ভাত এক ধরনের শস্যজাতীয় খাবার। এটি কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার
প্রধান উৎস।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাতের অপকারিতা শরীরে আরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে যদি তা সকালে খাওয়ার অভ্যাস থাকে। ভাতে ডাইজেসটিভ ফাইবার নেই। তাই তা্ড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের বারবার ক্ষুধা পায়। এই প্রবণতাই শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয় অনেকটা।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দৈনিক সাদা ভাত খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সকালে খাওয়া ভাত থেকে নিঃসরিত গ্লুকোজ আমাদের রক্তে দ্রুত মিশে যায়। অর্থাৎ, দিনের শুরুতেই দেহে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, পেট বড় হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা ধীরে ধীরে আপনাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে।
অতিরিক্ত ভাত খেলে কি হয় জানুন
অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো নয়। তেমনি অতিরিক্ত বা বেশি মাত্রায় ভাত খেলে আমাদের দেহে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-
- ভাতে ক্যালোরির বেশি মাত্রায় থাকায় দেহের ওজন বেড়ে যেতে পারে অর্থাৎ মোটা হওয়ার অন্যতম কারণ।
- ভাতে কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি বেশি হওয়ায় হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- সাদা ভাত বেশি খেলে হজমে সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে কারন, এতে ফাইবারের পরিমাণ খুবই সামান্য থাকে।
- ভাতে স্টার্চ ও শর্করা থাকায় পেটে ফ্যাট জমার কারণ হতে পারে।
- অতিরিক্ত ভাত খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
- অতিরিক্ত ভাত খেলে এতে থাকা উচ্চ পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতির কারণ।
-
ভাতের সাথে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পরিমিত পরিমাণে না খেলে দৈহিক
নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।
রাতে ভাত খেলে কি হয় জানা দরকার
রাতে ভাত খেলে উপকার ও অপকার দুটোই আছে। আপনি যদি রাতে ভাত খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে যান তাহলে নিজের অজান্তেই ডেকে আনবেন মারাত্মক কিছু বিপদ। তাই রাতে ভাত খেলে কিছুটা নিয়ম মেনে তবেই খাওয়া উচিত।
পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী বলেন, রাতে নির্ভাবনায় ভাত খাওয়া যায়। এতে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। রাতে ভাত খেলে পেটের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা করং কমে। কেননা, ভাত হচ্ছে সহজপাচ্য খাবার। আবার ভাত খেলে ঘুমও ভালো হয়। এ জন্য রাতে কার্ব রিচ খাবার খেতে চাইলে ভাত খেতে পারেন। এতে ভয়ের কিছু নেই।
এছাড়া পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাতে ডাইজেসটিভ ফাইবার নেই। ফলে এটি শরীরে তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়। এজন্য রাতের খাবার দ্রুত হজম করতে ভাতকে বেছে নেয়াই উত্তম। তবে ভাতের অপকারিতা এড়াতে রাতের খাবারে সামান্য পরিমাণে অর্থাৎ এক কাপের বেশি ভাত কখনই খাবেন না। আর ভাতের সাথে রাখুন পুষ্টিকর সবজি, তরকারি আর রঙিন ফলমূল। সব মিলিয়ে এমন পরিমাণ খাবার খান যেন পেট ভরা অনুভূতি না হয়।
আবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো চর্বি জাতীয় খাবার ও কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে রাতে ভাত খাবেন না।
তিন বেলা খাবারের তালিকা
- সকালে খাবারের উপযুক্ত সময় হচ্ছে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে। আর অবশ্যই ঘুম থেকে কমপক্ষে আধা ঘন্টা আগে উঠতে হবে।
💪সকালের খাবার অর্থাৎ নাস্তা-
একটি সিদ্ধ ডিম সাথে দুইটা লাল রুটি এবং সবজি আর একটি কলা। আরো খেতে পারেন পাঁচটি
কাঠ বাদাম, এক গ্লাস লো-ফ্যাট দুধ এবং ফল হিসাবে একটি আপেল। আর খেতে পারেন এক কাপ
চা- চিনি যত কম করে খাওয়া যায়।
- দুপুরের খাবারের উপযুক্ত সময় হচ্ছে ১টা থেকে ২টার মধ্যে।
💪দুপুরের খাবারের তালিকা-
একটা কাপ ভাত অথবা দুইটি রুটি র সাথে এক পিস মাছ বা মাংস। প্রচুর সবজি, সিদ্ধ ডিম একটা এবং এক কাপ রান্না করা ব্রকলি বা গাজর বা শিমের বিচি, একটি লেবু অথবা দুটো পরোটা।
তবে ভাজা পুরা খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো।
- রাতের খাবারের উপযুক্ত সময় ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে।
💪রাতের খাবারের তালিকা-
এক কাপ ভাত, এক কাপ সবজি, এক কাপ মাছ বা মাংস খাবেন। রাতের বেলা ভাত দিয়ে পেট ভরার চেষ্টা যত কম করবেন, তত ভালো। এছাড়া দুটি রুটি সাথে সবজি, একটি সিদ্ধ ডিম বা চিকেন বা ১ বাটি ওটস এবং ফল হিসেবে একটি আপেল বা পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে।
তিন বেলা ভাত খেলে কি মোটা হয়
আমরা সাধারণত জানি, তিন বেলা পেট ভরে ভাত খেলে মানুষ মোটা হয়ে যায় বা ওজন বেড়ে
যায়। এ কথাটি অনেকটাই সত্য কারণ অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীরে ফ্যাট বা
চর্বি জমা হতে পারে। তবে পরিমিত পরিমাণে তিন বেলা ভাত খেলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা
নেই। আর আমরা যারা শারীরিক বেশি পরিশ্রম করে থাকি তাদের জন্য তিন বেলা ভাত
খাওয়াতে মোটা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বরং শরীরে অধিক শক্তি লাভ করা যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, অভ্যাস অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাত খাওয়া সাইলেন্ট ওজন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
নিউট্রিশন জার্নালের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দৈনিক দুই থেকে তিন কাপ ভাত খান, তাদের ওজন বাড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে।
আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, সাদা ভাতের উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয়। বিপাকক্রিয়া ধীর হলে শরীরের ক্যালোরি পোড়ার হার কমে যায় এবং চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।
গবেষকরা আরও বলেন, রাতে ভাত খাওয়া হলে শরীরের ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কমে যাওয়ার কারণে ক্যালোরি পোড়ার সুযোগ থাকে না। ফলে ওজন বেড়ে যায় বা মোটা হয়ে যায়।
আরো পড়ুনঃ আয়রন ট্যাবলেট খেলেই কি ওজন বাড়ে? জানুন সত্যি না মিথ্যা!
ভাত কম খেলে কি হয় জেনে নিন
কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস হচ্ছে ভাত। আর এটি দেহের শক্তি উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা
পালন করে থাকে। আবার ভাতে রয়েছে ক্যালোরি যা দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখে। তাই ভাত
কম খেলে দেহের ওজন কমে যেতে পারে, শক্তি কমে যেতে পারে।
তাছাড়া ভাত কম খেলে বা একেবারে না খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে কারণ ভাত হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত বা প্রভাবিত করে থাকে। আবার,
প্রশ্ন ও উত্তরঃ দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
পোস্টের ইতি-কথাঃ দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
পরিশেষে, ‘দৈনিক তিন বেলা ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন’ শিরোনামের এই আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, সঠিক পরিমাণে ভাত খাওয়ায় যেমন উপকারিতা আছে তেমনি কিছু অপকারিতাও দেখা গেছে। তাই ভাতকে ভয় না করে বরং নিয়ম মানুন, পরিমাণ ঠিক করুন এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে খেয়ে পুরো শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
বিশেষকথা: এই পোস্টে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান এবং তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বদা একজন যোগ্যতাসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।




গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url