গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার রক্তশূন্যতা দূর করতে বা বৃদ্ধি করতে- আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

গর্ভাবস্থায়-মহিলাদের-রক্ত-বৃদ্ধির-সহজ-উপায়

তাই আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা আলোচনা করবো; কিভাবে গর্ভাবস্থায় মহিলাদের দেহে রক্ত বৃদ্ধি করা যায় তার বিভিন্ন সহজ উপায় সম্পর্কে-

পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত কমে গেলে বা রক্তশূন্যতা দেখা দিলে; কি করবেন? কি খাবেন? অথবা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আছে কিনা - এসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কারণ, এই সময় শরীরে আয়রনের চাহিদা অনেক বেড়ে যায় আর সেটা পূরণ না করলে ক্লান্তি আর দুর্বলতা লেগেই থাকে। দেহের এই ক্লান্তি দূর করার উপায় হিসেবে আপনারা কিছু খাবারের ওপর নির্ভর করতে পারেন।

আপনারা প্রথমে পালং শাক, লাল শাক বা বিটরুটের মতো সবুজ শাক-সবজি নিয়মিত খাওয়া শুরু করুন, এগুলোতে প্রাকৃতিক আয়রন আর ফলেট থাকে যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। আর সাথে যদি একটু লেবুর রস মিশিয়ে খান তাহলে আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হবে।

আপনি যদি নন-ভেজিটেরিয়ান হন তাহলে মুরগির মাংস বা ডিম সপ্তাহে দু-তিনবার খেতে পারেন, এতে হিম আয়রন থাকে যা শরীর সহজে গ্রহণ করে। শুকনো ফল যেমন- কিসমিস আর খেজুরও স্ন্যাক্স হিসেবে রাখুন, এগুলো সহজে খাওয়া যায় আর আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে। যা রক্ত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।

তাছাড়া, প্রচুর পানি আর ভিটামিন সি যুক্ত ফল যেমন- কমলা বা আমলকি খান, কারণ এতে শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ে আর রক্তশূন্যতা কমে।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় মায়েদের ১ম ৩ মাস - বিশেষ কিছু খাবারের পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা মানে কী? জেনে নিন

রক্তস্বল্পতা হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বলতে বোঝায় এই সময়ে রক্তে মোট লোহিত রক্তকণিকা (RBC) বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া। বিশ্বজুড়ে গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। 
গর্ভাবস্থায়-মহিলাদের-রক্তশূন্যতা-মানে-কী-জেনে-নিন

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া কোনো রোগের কারণে হতে পারে; তবে স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় প্লাজমার আয়তন বৃদ্ধির তুলনায় লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ কম বৃদ্ধি পায়, যার ফলে হিমোগ্লোবিনের (Hb) ঘনত্ব সামান্য কমে যায় - একে ফিজিওলজিক রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।

গর্ভাবস্থায় Hb-এর স্বাভাবিক মান: ১১ g/dl বা তার বেশি, ১১-এর নিচে হলে হালকা রক্তশূন্যতা, ১০-এর নিচে হলে মাঝারি, ৮-এর নিচে হলে গুরুতর।

গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো সাধারণত সুনির্দিষ্ট নয়, তবে এর মধ্যে ক্লান্তি, ফ্যাকাশে ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা এবং মাথা ঘোরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

রক্তশূন্যতার কারণে মায়ের ওপর বেশ কিছু সুপরিচিত প্রভাব পড়তে পারে, যেমন - হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর ওপর অতিরিক্ত চাপ, শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা হ্রাস, প্রসবকালীন সময়ে রক্তের মজুত কমে যাওয়া, রক্ত ​​সঞ্চালনের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি এবং মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিয়ে বিস্তারিত জানুন

গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতা বোঝার উপায়

গর্ভাবস্থায় অনেককেই রক্তস্বল্পতায় ভুগতে দেখা যায়। শরীর দুর্বল লাগা, হাঁপিয়ে ওঠা, শ্বাসকষ্ট হওয়া ইত্যাদি রক্তস্বল্পতার কিছু সাধারণ লক্ষণ।

গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতার কিছু লক্ষণ:

  • রক্তস্বল্পতার কিছু নিজস্ব লক্ষণ থাকে। যেমন: হাঁপিয়ে যাওয়া, দুর্বল লাগা, বেশিক্ষণ কাজ করতে না পারা, এটি আসলে গর্ভাবস্থার লক্ষণের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। মায়েরা ধরে নেয় যে বাচ্চা পেটে, বাচ্চা আসার কারণেই এটা হচ্ছে।
  • যেসব গর্ভবতী মহিলার থ্যালাসেমিয়া রয়েছে, তাহলে এটি তার গর্ভাবস্থার সময় রক্তস্বল্পতাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনিতেই তার শরীরে রক্ত কম উৎপাদন হচ্ছে, যখন সে গর্ভাবস্থায় থাকে, তখন তার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ আরো কমে যায়।
  • কিন্তু যদি কারো থ্যালাসেমিয়া না থেকে থাকে, তাহলে রোগীর পক্ষে আসলেই রোগ নির্ণয় করা কঠিন। তবে হ্যাঁ, যখন একজন মানুষ রক্তশূন্য হয়, সে ফ্যাকাসে হবে, তার একটু শ্বাসকষ্ট লাগতে পারে, সে অল্প কাজেই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এসব উপসর্গ খুব প্রকটভাবে দেখা যায়।
  • যারা সতর্ক, তারা যখন চিকিৎসকের কাছে আসে, যখন পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় যে তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ খুব কম।

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে কী ক্ষতি হয়

গর্ভাবস্থায় রক্তের পরিমাণ কম হলে তাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়। এর ফলে মায়েদের চরম ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট হয়। এসময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হলো; এতে সময়ের আগে প্রসব, বাচ্চার ওজন কম হওয়া এবং ডেলিভারির সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে মায়ের জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে। 

তাছাড়া, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সাধারণত ১১ গ্রাম/ডেসিলিটার-এর নিচে নামলে তাকে রক্তশূন্যতা ধরা হয়।

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে মায়েদের উপর যেসমস্ত প্রভাব পড়ে:

  • গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে না পারায় সব সময় ঝিমুনি ও ক্লান্তি লাগে।
  • রক্তস্বল্পতার কারণে মাথা ঘোরা, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং বুক ধড়ফড় করতে পারে।
  • ডেলিভারির সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং রোগীকে রক্ত দিতে হতে পারে। 

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে শিশুর উপরযেসমস্ত প্রভাব পড়ে:

  • সুষম পুষ্টির অভাব ও অপর্যাপ্ত অক্সিজেনের কারণে গর্ভের সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং শিশুর ওজন কম হতে পারে।
  • সময়ের আগেই সন্তান জন্মদান এবং প্রথম তিন মাসে রক্তে হিমোগ্লোবিন মারাত্মক আকারে কম থাকলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয়?

সাধারণভাবে গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ৮ g/dl নিচে নেমে গেলে, প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, অথবা জরুরি সার্জারির প্রয়োজন হলে রক্ত বা ব্লাড ট্রান্সফিউশন দিতে হয়। গর্ভাবস্থায় সাধারণত রক্ত দেওয়া হয় না, বরং গুরুতর রক্তস্বল্পতা বা জরুরি জটিলতা মোকাবেলায় এটি করা হয়।

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার সবচেয়ে কার্যকরী ঘরোয়া উপায় হলো আয়রন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুষম বা পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং সঠিক নিয়মে পুষ্টির শোষণ নিশ্চিত করা। গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন প্রায় ২৭ মিলিগ্রাম আয়রনের প্রয়োজন হয়।

তাই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন এনে ঘরোয়াভাবে গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা মোকাবেলা করা সম্ভব। যেমন-

নিয়ম করে প্রতিদিন আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া:

গর্ভাবস্থায়-রক্তশূন্যতা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়-জেনে-নিন

  • গরুর মাংস, কলিজা, মুরগির মাংস এবং ডিমের কুসুম থেকে শরীর সহজে আয়রন শোষণ করে।
  • পালং শাক, লাল শাক, কচু শাক, মসুর ডাল, ছোলা এবং তিল খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • খেজুর, কিসমিস এবং ডুমুর আয়রনের চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস।
  • এছাড়া, বিটরুট, আনারস এবং বেদানা নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে।

ভিটামিন সি-এর ব্যবহার বাড়ানো:

  • আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় খাবারে লেবুর রস চিপে নিন।
  • দুপুরের বা রাতের খাবারের পর পেয়ারা, কমলা, মাল্টা বা আমলকী খান।
  • ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে শরীরের আয়রন শোষণের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দূর হবে যেসমস্ত পুষ্টিকর খাবারে  

বিশেষ করে যারা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত তাদের রক্তশূন্যতার প্রবণতা বেশি হয়। রক্তশূন্যতা রোগের চিকিৎসার জন্য প্রথমে পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায়। যে সব খাবারের রক্তশূন্যতা দূর করার ক্ষমতা রয়েছে সেসব খাবার খেতে হবে নিয়মিত। শুধুমাত্র পুষ্টিকর কিছু খাবার খেয়েই রক্তশূন্যতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। রক্তশূন্যতা দূর করে এমন কিছু পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে আসুন জাানি-

  • মাছ:
আমরা জানি, আয়রনের ভাল উৎস হল মাছ বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ। তাছাড়া, ছোট মাছ যেমন- শিং মাছ, ইলিশ মাছ, ভেটকি মাছ, টেংরা মাছ ইত্যাদি সব মাছেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। তাই রক্তশূন্যতা দূর বা দেহে রক্ত বৃদ্ধি করতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ রাখুন।
  • কলিজা:
মাছ, গরু বা খাসির কলিজায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন-বি আছে। রক্তশূন্যতা রোগের প্রধান কারণ; দেহে আয়রনের ঘাটতি। তাই রক্তশূন্যতায় ভুগছেন যারা তাদের নিয়মিত খাবার তালিকায় সম্ভব হলে কলিজা রাখা উচিত। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের অবশ্যই গরুর কলিজা থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • দুধ:
আমরা জানি, দুধ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও প্রোটিন যোগাতে সাহায্য করে। দুধে খুব বেশি পরিমাণে আয়রন না থাকলেও এতে প্রায় সব রকমের ভিটামিন আছে। এছাড়াও দুধে আছে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম। এই খাদ্য উপাদান গুলো রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে রক্ত শূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। তাই রক্তশূন্যতা রোগীদের জন্য নিয়মিত দুধ খাওয়া উপকারী।

  • ডিম:

ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। রক্তশূন্যতায় শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়াতে ডিম খুব উপকারী। ডিমের কুসুমের মধ্যে রয়েছে আয়রন। এটি শরীরে লোহিত রক্তের পরিমাণ বাড়ায়।

  • মধু:

মধু হচ্ছে আয়রনের একটি উত্তম উৎস। আয়রন ছাড়াও মধুতে কপার ও ম্যাঙ্গানিজ আছে। এই উপাদান গুলো শরীরে হিমোগ্লোবিন প্রস্তুত করতে সহায়তা করে। তাই রক্তশূন্যতা দূর করতে প্রতিদিন ১ চামচ মধুর সাথে পরিমাণ মত লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন ভালো ফল পাবেন।

  • ফলমূল:
ফলমূলে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ থাকে। প্রতিদিন আয়রন যুক্ত ফলমূল যেমন- আপেল, টমেটো, বেদানা, কলা, আঙ্গুর, কমলা, গাজর ইত্যাদি খেলে রক্তশূন্যতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই সরাসরি আয়রণ গ্রহণ করতে প্রতিদিন ২-৩ টি ফল খাওয়া উচিত।

  • শাক-সবজি:
সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ থাকে। বিভিন্ন রকম সবজি যেমন- কচু-শাক, কচুর লতি, কচু, পালং-শাক, বিট, লেটুস, ব্রকোলি, ধনিয়া পাতা এবং পুদিনা পাতা নিয়মিত বেশি করে খেলে রক্তশূন্যতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ এই শাক-সবজি গুলোতে আয়রনের পাশাপাশি ফলিক এসিড আছে যেগুলো রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা মতে, গর্ভাবস্থায় আপনাকে দৈনিক ৬০ মিলিগ্রাম করে আয়রন ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। সন্তান জন্মদানের তিন মাস পর পর্যন্ত আয়রন সেবন চালিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে গর্ভকালীন সময়ের জন্য আয়রন ও ফলিক এসিড একত্রে ‘আয়রন-ফলিক এসিড’ ট্যাবলেট হিসেবে ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যায়।

এতে গর্ভাবস্থার জন্য সঠিক পরিমাণে আয়রন যোগ করা থাকে। সেই সাথে ফলিক এসিড থাকে, যা শিশুর ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে এবং নানান জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করে।

👉আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম:

যা করতে হবে-

  • গর্ভাবস্থায় আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেট খালি পেটে খেলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই যেকোনো খাবার খাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে ১ গ্লাস পানি দিয়ে এই ট্যাবলেট খাবেন।
  • খালি পেটে ‘আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেট’ খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তার হয়তো আপনাকে খাবারের সাথে অথবা খাওয়ার ঠিক পর পরই ভরা পেটে ট্যাবলেটটি খেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
যা উচিত নয়-

  • আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেটের সাথে একই সময়ে অ্যান্টাসিড অথবা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন না। এতে আয়রনের কার্যকারিতা কমে যায়। অ্যান্টাসিড অথবা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে আয়রন ট্যাবলেট খাবেন।
  • এছাড়াও কিছু কিছু খাবার শরীরে আয়রন শোষণের হার কমিয়ে ফেলতে পারে। আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার সময়ে এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এমন কিছু খাবার হলো—
  1. চা ও কফি
  2. ডিম
  3. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
  4. সয়াবিনযুক্ত খাবার।

প্রশ্ন ও উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়

প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থায় কি খেলে দ্রুত রক্ত বাড়ে?
উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় দ্রুত রক্ত বাড়াতে আয়রন, ভিটামিন সি, এবং ফলিক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। গরুর মাংস, কলিজা, ডিমের কুসুম, পালং শাক, কচুশাক, ডাল, ও খেজুর রক্ত তৈরিতে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে। তবে আয়রন ঠিকমতো শোষণের জন্য লেবু বা কমলার মতো ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ কি কারনে গর্ভবতী মায়েদের রক্তশূন্য দেখা দেয়?
উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা, যা মূলত আয়রন, ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে হয়ে থাকে। এর ফলে মা অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করেন এবং শিশুর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা দূর করার পানীয়গুলো কি কি?
উত্তরঃ আয়রন-সমৃদ্ধ পানীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে; আপেলের রস, এপ্রিকটের নির্যাস, গরুর মাংসের ঝোল, বিটের রস, প্রাকৃতিক কোকো পাউডার দিয়ে তৈরি কোকো, “গ্রিন” স্মুদি, কমলার রস, মটর প্রোটিন স্মুদি, আলুবোখারার রস, টমেটোর রস এবং পালং শাকের রস।

প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের দেহের রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কি হয়?
উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের দেহের রক্তে হিমোগ্লোবিন কম বা রক্তশূন্যতা থাকলে মায়ের অতিরিক্ত ক্লান্তি, শিশুর কম জন্ম ও ওজন, এবং প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দেখা দেয়। সাধারণত গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১০ গ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে নেমে গেলে তাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।  

পোস্টের শেষ-কথাঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়

পরিশেষে, উক্ত আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে তা দুর্বলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে এবং অ্যানিমিয়া বা রক্তাশূন্যতার দিকে পরিচালিত করতে পারে। সুতরাং গর্ভাবস্থায় রক্তে যথাযথ হিমোগ্লোবনের মাত্রা বজায় রাখা মা এবং গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। আপনার দেহের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রার উন্নতি সাধনের জন্য বা রক্ত বৃদ্ধির জন্য আপনি এই সকল সহজ উপায়গুলি প্রয়োগের চেষ্টা করতেই পারেন। তবে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ আবশ্যক।

বি: দ্র: এই পোস্টটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আপনার সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আশা করি, উপকৃত হবেন। ভালো থাকবেন। আর ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url