গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার রক্তশূন্যতা দূর করতে বা বৃদ্ধি করতে- আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তাই আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা আলোচনা করবো; কিভাবে গর্ভাবস্থায় মহিলাদের দেহে রক্ত বৃদ্ধি করা যায় তার বিভিন্ন সহজ উপায় সম্পর্কে-
পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা মানে কী? জেনে নিন
- গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতা বোঝার উপায়
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে কী ক্ষতি হয়
- গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয়?
- গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দূর হবে যেসমস্ত পুষ্টিকর খাবারে
- গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
- প্রশ্ন ও উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
- পোস্টের শেষ-কথাঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
আপনারা প্রথমে পালং শাক, লাল শাক বা বিটরুটের মতো সবুজ শাক-সবজি নিয়মিত খাওয়া শুরু করুন, এগুলোতে প্রাকৃতিক আয়রন আর ফলেট থাকে যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। আর সাথে যদি একটু লেবুর রস মিশিয়ে খান তাহলে আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হবে।
আপনি যদি নন-ভেজিটেরিয়ান হন তাহলে মুরগির মাংস বা ডিম সপ্তাহে দু-তিনবার খেতে পারেন, এতে হিম আয়রন থাকে যা শরীর সহজে গ্রহণ করে। শুকনো ফল যেমন- কিসমিস আর খেজুরও স্ন্যাক্স হিসেবে রাখুন, এগুলো সহজে খাওয়া যায় আর আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে। যা রক্ত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।
তাছাড়া, প্রচুর পানি আর ভিটামিন সি যুক্ত ফল যেমন- কমলা বা আমলকি খান, কারণ এতে শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ে আর রক্তশূন্যতা কমে।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় মায়েদের ১ম ৩ মাস - বিশেষ কিছু খাবারের পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা মানে কী? জেনে নিন
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া কোনো রোগের কারণে হতে পারে; তবে স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় প্লাজমার আয়তন বৃদ্ধির তুলনায় লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ কম বৃদ্ধি পায়, যার ফলে হিমোগ্লোবিনের (Hb) ঘনত্ব সামান্য কমে যায় - একে ফিজিওলজিক রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।
গর্ভাবস্থায় Hb-এর স্বাভাবিক মান: ১১ g/dl বা তার বেশি, ১১-এর নিচে হলে হালকা রক্তশূন্যতা, ১০-এর নিচে হলে মাঝারি, ৮-এর নিচে হলে গুরুতর।
গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো সাধারণত সুনির্দিষ্ট নয়, তবে এর মধ্যে ক্লান্তি, ফ্যাকাশে ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা এবং মাথা ঘোরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
রক্তশূন্যতার কারণে মায়ের ওপর বেশ কিছু সুপরিচিত প্রভাব পড়তে পারে, যেমন - হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর ওপর অতিরিক্ত চাপ, শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা হ্রাস, প্রসবকালীন সময়ে রক্তের মজুত কমে যাওয়া, রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি এবং মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিয়ে বিস্তারিত জানুন
গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতা বোঝার উপায়
গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতার কিছু লক্ষণ:
- রক্তস্বল্পতার কিছু নিজস্ব লক্ষণ থাকে। যেমন: হাঁপিয়ে যাওয়া, দুর্বল লাগা, বেশিক্ষণ কাজ করতে না পারা, এটি আসলে গর্ভাবস্থার লক্ষণের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। মায়েরা ধরে নেয় যে বাচ্চা পেটে, বাচ্চা আসার কারণেই এটা হচ্ছে।
- যেসব গর্ভবতী মহিলার থ্যালাসেমিয়া রয়েছে, তাহলে এটি তার গর্ভাবস্থার সময় রক্তস্বল্পতাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনিতেই তার শরীরে রক্ত কম উৎপাদন হচ্ছে, যখন সে গর্ভাবস্থায় থাকে, তখন তার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ আরো কমে যায়।
- কিন্তু যদি কারো থ্যালাসেমিয়া না থেকে থাকে, তাহলে রোগীর পক্ষে আসলেই রোগ নির্ণয় করা কঠিন। তবে হ্যাঁ, যখন একজন মানুষ রক্তশূন্য হয়, সে ফ্যাকাসে হবে, তার একটু শ্বাসকষ্ট লাগতে পারে, সে অল্প কাজেই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এসব উপসর্গ খুব প্রকটভাবে দেখা যায়।
- যারা সতর্ক, তারা যখন চিকিৎসকের কাছে আসে, যখন পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় যে তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ খুব কম।
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে কী ক্ষতি হয়
গর্ভাবস্থায় রক্তের পরিমাণ কম হলে তাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়। এর ফলে মায়েদের চরম ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট হয়। এসময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হলো; এতে সময়ের আগে প্রসব, বাচ্চার ওজন কম হওয়া এবং ডেলিভারির সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে মায়ের জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে।
তাছাড়া, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সাধারণত ১১ গ্রাম/ডেসিলিটার-এর নিচে নামলে তাকে রক্তশূন্যতা ধরা হয়।
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে মায়েদের উপর যেসমস্ত প্রভাব পড়ে:
- গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে না পারায় সব সময় ঝিমুনি ও ক্লান্তি লাগে।
- রক্তস্বল্পতার কারণে মাথা ঘোরা, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং বুক ধড়ফড় করতে পারে।
- ডেলিভারির সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং রোগীকে রক্ত দিতে হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে শিশুর উপরযেসমস্ত প্রভাব পড়ে:
- সুষম পুষ্টির অভাব ও অপর্যাপ্ত অক্সিজেনের কারণে গর্ভের সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং শিশুর ওজন কম হতে পারে।
- সময়ের আগেই সন্তান জন্মদান এবং প্রথম তিন মাসে রক্তে হিমোগ্লোবিন মারাত্মক আকারে কম থাকলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয়?
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার সবচেয়ে কার্যকরী ঘরোয়া উপায় হলো আয়রন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুষম বা পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং সঠিক নিয়মে পুষ্টির শোষণ নিশ্চিত করা। গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন প্রায় ২৭ মিলিগ্রাম আয়রনের প্রয়োজন হয়।
তাই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন এনে ঘরোয়াভাবে গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা মোকাবেলা করা সম্ভব। যেমন-
নিয়ম করে প্রতিদিন আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া:
- গরুর মাংস, কলিজা, মুরগির মাংস এবং ডিমের কুসুম থেকে শরীর সহজে আয়রন শোষণ করে।
- পালং শাক, লাল শাক, কচু শাক, মসুর ডাল, ছোলা এবং তিল খাদ্যতালিকায় রাখুন।
- খেজুর, কিসমিস এবং ডুমুর আয়রনের চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস।
- এছাড়া, বিটরুট, আনারস এবং বেদানা নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে।
ভিটামিন সি-এর ব্যবহার বাড়ানো:
- আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় খাবারে লেবুর রস চিপে নিন।
- দুপুরের বা রাতের খাবারের পর পেয়ারা, কমলা, মাল্টা বা আমলকী খান।
- ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে শরীরের আয়রন শোষণের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দূর হবে যেসমস্ত পুষ্টিকর খাবারে
- মাছ:
- কলিজা:
- দুধ:
- ডিম:
ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। রক্তশূন্যতায় শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়াতে ডিম খুব উপকারী। ডিমের কুসুমের মধ্যে রয়েছে আয়রন। এটি শরীরে লোহিত রক্তের পরিমাণ বাড়ায়।
- মধু:
মধু হচ্ছে আয়রনের একটি উত্তম উৎস। আয়রন ছাড়াও মধুতে কপার ও ম্যাঙ্গানিজ আছে। এই উপাদান গুলো শরীরে হিমোগ্লোবিন প্রস্তুত করতে সহায়তা করে। তাই রক্তশূন্যতা দূর করতে প্রতিদিন ১ চামচ মধুর সাথে পরিমাণ মত লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন ভালো ফল পাবেন।
- ফলমূল:
- শাক-সবজি:
গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
এতে গর্ভাবস্থার জন্য সঠিক পরিমাণে আয়রন যোগ করা থাকে। সেই সাথে ফলিক এসিড থাকে, যা শিশুর ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে এবং নানান জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করে।
👉আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম:
যা করতে হবে-
- গর্ভাবস্থায় আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেট খালি পেটে খেলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই যেকোনো খাবার খাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে ১ গ্লাস পানি দিয়ে এই ট্যাবলেট খাবেন।
- খালি পেটে ‘আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেট’ খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তার হয়তো আপনাকে খাবারের সাথে অথবা খাওয়ার ঠিক পর পরই ভরা পেটে ট্যাবলেটটি খেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
- আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেটের সাথে একই সময়ে অ্যান্টাসিড অথবা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন না। এতে আয়রনের কার্যকারিতা কমে যায়। অ্যান্টাসিড অথবা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে আয়রন ট্যাবলেট খাবেন।
- এছাড়াও কিছু কিছু খাবার শরীরে আয়রন শোষণের হার কমিয়ে ফেলতে পারে। আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার সময়ে এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এমন কিছু খাবার হলো—
- চা ও কফি
- ডিম
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
- সয়াবিনযুক্ত খাবার।
প্রশ্ন ও উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
পোস্টের শেষ-কথাঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
বি: দ্র: এই পোস্টটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আপনার সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আশা করি, উপকৃত হবেন। ভালো থাকবেন। আর ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।



গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url