ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত লাভের উপায়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, ইসলামে হালাল উপার্জন একজন মুমিনের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মযার্দার বিষয়। কারণ, ইসলাম হচ্ছে একটি আদর্শ জীবনধারার নাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর মতে সর্বোত্তম উপার্জন হল- ‘যা পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করা হয়।’

ইসলামে-হালাল-উপার্জনের-গুরুত্ব-ও-বরকত-লাভের-উপায়

আর হালাল পন্থায় উপার্জনের ‍উপর ইসলামের গুরুত্ব অপরিসীম এবং তাতে আল্লাহ তায়ালার রহমত ও বরকতও লাভ করা যায়। তাই, আজকে আমাদের আর্টিকেলটিতে আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত লাভের উপায়’

পেজ ‍সূচিপত্রঃ ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত লাভের উপায়

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত লাভের উপায়

মানব জীবনে হালাল বা বৈধ উপায়ে জীবকা উপার্জন করা অপরিহার্য এবং সাওয়াবের কাজ। আর শারীরিক ও আর্থিক সকল প্রকার ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল উপার্জন। হালাল খাবার মহান আল্লাহর ভালোবাসা এবং জান্নাত লাভের রাস্তা। দোয়া কবুলের হাতিয়ার।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মানবজাতি, পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তোমরা তা আহার করো এবং কোনোক্রমেই শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (সূরা-বাকারা, আয়াত : ১৬৮)

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎ কর্মশীল হও। তোমরা যা করছ আমি তা ‎জানি।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৫১)

হালাল রিজিক উপার্জন করাকে ইসলাম ইবাদত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, “ফরজ ইবাদতসমূহের (নামাজ, রোজা, জাকাত ইত্যাদি) পরে হালাল উপার্জন করাও একটি ফরজ এবং ইবাদতের গুরুত্ব রাখে।”

অন্য হাদিসে এসেছে, “কোনো মানুষ এর চেয়ে উত্তম উপার্জন খায়নি যা সে নিজ হাতে উপার্জন করে খায়। নবী দাউদ (আ.)ও নিজ হাতের উপার্জন খেতেন।” (সহীহ বোখারি)

তাছাড়া, হালাল উপার্জন সম্পদকে বিশুদ্ধ করে, অনৈতিক বা অবৈধ উপাদানগুলিকে দূর করে। এটি সততা প্রচার করে এবং শোষণ প্রতিরোধ করে। এটি দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বকে উৎসাহিত করে, কারণ, ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ।

হালাল আয় একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজে অবদান রাখে, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে এবং হালাল শিল্পের সম্প্রসারণকে উন্নীত করে। এটি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে এবং একে অপরের ব্যবসার জন্য সমর্থন করে সম্প্রদায়ের বন্ধনকে শক্তিশালী করে।

হালাল উপার্জন মানসিক শান্তি প্রদান করে, জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করে। মোটকথা, ইসলামে হালাল উপার্জন আর্থিক লাভ ছাড়াও, এটি মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, নৈতিক সততা এবং আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতাকে উৎসাহিত করে 

আরো পড়ুনঃ নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?

ইসলামে হালাল উপার্জনের বিভিন্ন ‍উপায়

  • তাক্বওয়া অর্জন ও পরকালীন জবাবদিহিতার ভয়: কোন মানুষ যদি আল্লাহকে ভয় করে তাহলে সে হারাম উপার্জন করতে পারে না। তেমনি কেউ যদি পরকালে আল্লাহর কাছে সকল আমলের হিসাব দিতে হবে এ ভয় করে তাহলে সে সর্বতোভাবে হারাম থেকে বেঁচে থাকবে এবং হালাল উপার্জনে সচেষ্ট হবে।
ইসলামে-হালাল-উপার্জনের-বিভিন্ন-‍উপায়
  • হালাল জীবিকার উপর তুষ্ট থাকা: শরী‘আত সম্মত পথে উপার্জিত রিযিকে সন্তুষ্ট থাকলে হারাম জীবিকা অর্জন থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যদি চারটি জিনিস তোমার মধ্যে থাকে তাহ’লে দুনিয়ার কোন কিছু হারানোর বিষয়ে পরোয়া করবে না। (সে বিষয়গুলি হ’ল) (১) আমানত রক্ষা করা (২) সত্য কথা বলা (৩) সুন্দর চরিত্র এবং (৪) হালাল খাদ্য গ্রহণ করা “ (সহীহ তারগীব ওয়াত-তারগীব, হা/৪১৮১; সহীহাহ হা/৭৭৩।)

তিনি আরো বলেন, “মুসলিম অল্পে তুষ্ট থাকবে ও তাকে যথেষ্ট মনে করবে এবং হালাল উপার্জনের মাধ্যমে হারাম থেকে নিজেকে বিরত রাখবে”।(ইত্তিকাউল হারাম ওয়াশ শুবহাত ফি তলাবির রিযক, পৃঃ ২৬।)
  • আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত বণ্টনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা: ধনী-গরীবের মধ্যকার ব্যবধান আল্লাহ তা‘আলারই ব্যবস্থাপনা। তিনি যাকে খুশী অঢেল সম্পদ দিয়ে থাকেন। এটা মেনে নেয়া তাকদীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আল্লাহ তায়ালা যাকে যতটুকু সম্পদ দিয়েছেন, এতে সন্তুষ্ট থেকে হারাম জীবিকা উপার্জনের যাবতীয় পথ থেকে দূরে থাকলে হালাল জীবিকা গ্রহণ সহজ হবে।
এ দিকে ইঙ্গিত করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমাদের চাইতে নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির দিকে তাকাও এবং তোমাদের চাইতে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্নদের দিকে তাকিও না। আল্লাহর দেয়া অনুগ্রহকে তুচ্ছ মনে না করার জন্যে এটাই উৎকৃষ্ট পন্থা।” (তিরমিযী হা/২৫১৩; ইবনু মাজাহ হা/৪১৪২, সনদ সহীহ)
  • আল্লাহর উপর ভরসা করা ও হালাল জীবিকার উপর অটল থাকা: আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা আল্লাহর উপরই ভরসা কর, যদি তোমরা মুমিন হও” (মায়েদাহ ৫/২৩)। তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেন।” (তালাক ৬২/৩)।

হালাল জীবিকা উপার্জনে নবীজীর (সা.) বাণী

আল্লাহ তায়ালার রাসূল (সা.) কয়েক কীরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীর ছাগল চরাতেন। এ বিষয়ে আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,مَا بَعَثَ اللهُ نَبِيًّا إِلاَّ رَعَى الْغَنَمَ “আল্লাহ তায়ালা এমন কোন নবী প্রেরণ করেননি, যিনি বকরী চরাননি। তখন তাঁর  ছাহাবীগণ বলেন, আপনিও? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি কয়েক কীরাতের (মুদ্রা) বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরাতাম।” (বুখারী হা/২২৬২।)

আরো পড়ুনঃ ইসলামে নারী-পুরুষের কি ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদ হওয়া উচিত?

হালাল উপার্জন একটি অত্যাবশ্যকীয় ‍আইন

ইসলাম নৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং নৈতিক বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে আয় উপার্জনের গুরুত্বের উপর জোর দেয়। কুরআন ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শিক্ষাই ইসলামী আয়ের প্রাথমিক উৎস।

হালাল-উপার্জন-একটি-অত্যাবশ্যকীয়-আইন

ইসলাম মানুষের জন্য হালাল ও হারামের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করে শেষ করেনি বরং হালাল উপার্জনে রয়েছে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা। ফজরের সালাত আদায়ের পর এই মহতী কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহ করা হয়েছে। উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও বৈধ উপায় অবলম্বন করা- ব্যবসায়ীসহ সকল মানুষের উপর ইসলামের একটি অত্যাবশ্যকীয় আইন।

 ইসলাম নৈতিকতা আয়ের নির্দেশনা দেয়, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আইনি পদ্ধতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। মুসলমানদের সুদ, জালিয়াতি, অসৎ ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং শোষণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

যারা উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও হারামের প্রশ্ন সতর্কতা অবলম্বন করে না তাদের ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সতর্কবাণী করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে যখন ব্যক্তি কোন উৎস থেকে সম্পদ হরণ করছে তা হালাল না হারাম সেদিকে করবে না।” (ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, হাদিস নং ২০৫৯)

আরো পড়ুনঃ যে সমস্ত কারণে ঘরের অভাব দূর হয় না

ইসলামে হালাল উপার্জনে বরকত লাভের উপায়

মানুষ যেই উপার্জন করে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ অনুগ্রহ। এই উপার্জনে বরকত লাভের জন্য শর্ত হলো হালাল উপায়ে রিজিক তালাশ করা। কুরআন-হাদিসে হালাল উপার্জনের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

নামাজ, রোজার মতো হালাল উপার্জনও ফরজ ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়, আর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে থাক, যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার।” (সূরা-জুমুআ: ১০)

আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবীকে হালাল রিজিক অন্বেষণের তাগিদ করেছেন। তাঁর হুকুমে নবীরাও জীবিকা উপার্জনের জন্য হালাল পেশা বেছে নিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে রাসুলগণ! পবিত্র বস্তু আহার কর, আর সৎ কাজ কর, তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আমি পূর্ণরূপে অবগত।” (সূরা-মুমিনুন: ৫১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হালাল জীবিকা সন্ধান করা নির্ধারিত ফরজগুলোর পরে বিশেষ একটি ফরজ।” (বায়হাকি) জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত হলো হালাল উপার্জন। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, “ওই দেহ জান্নাতে যাবে না, যা হারাম খাবার থেকে উৎপন্ন। জাহান্নামই এর উপযোগী।” (তিরমিজি: ৬১৪)

যেসমস্ত কাজে হালাল রিজিক লাভ ও তাতে বরকত লাভে, কুরআন-সুন্নায় সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে। তা হলো-

  • তাওয়াক্বুল বা আল্লাহর উপর ভরসা করা,
  • করজে হাসানা বা সাদকা করা, 
  • শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, 
  • ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা, 
  • আত্মীয় সম্পর্ক ঠিক রাখা।

হালাল উপার্জনের সুফল সমূহ জানুন

ইসলামে হালাল পন্থায় উপার্জন করলে যে সমস্ত সুফল পাওয়া যায় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

  • হালাল বা বৈধ্য উপার্জন আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য প্রকাশ করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সাহায্য করে।
  • এতে করে হারাম থেকে উপার্জিত অর্থের চিন্তা থাকে না, যা মানসিক শান্তি দেয়।
  • এতে ইবাদত কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত, যার ফলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • সামান্য পরিমাণ হালাল বা বৈধ্য সম্পদও বরকতপূর্ণ হয় এবং তা যথেষ্ট মনে হয়।
  • নিজ হাতে হালাল উপার্জনকারী ব্যক্তির জন্য জান্নাতের দরজা খোলা থাকে, যেখান দিয়ে সে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারে।
হালাল-উপার্জনের-সুফল-সমূহ
  • নিজের পরিশ্রমে উপার্জিত সম্পদ আত্মসম্মান ও ব্যক্তির মর্যাদা বাড়ায়।
  • হালাল উপার্জন আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) এবং তাঁর উপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়।
  • হালাল উপার্জন শোষণ, প্রতারণা ও সুদ থেকে দূরে রাখে, যা একটি ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
  • এটি ব্যক্তিকে সৎ ও নৈতিক পথে পরিচালিত করে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। 
  • সর্বোপুরি, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বরকত ও কল্যাণ বৃদ্ধি পায়। 

হালাল বা বৈধ্য উপার্জনের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি স্বহস্তে উপার্জিত হালাল রিজিক আহার করল, সে বিদ্যুৎগতিতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে।” (জামিউল আখবার: ৩৯০)।

অন্য আরেক হাদিসে নবীজী (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি স্বহস্তে পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করে জীবন ধারণ করে, আল্লাহ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং তাকে কখনো শাস্তি দেবেন না।”

প্রশ্ন ও উত্তরঃ ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত লাভের উপায়

প্রশ্নঃ হালাল বলতে আমরা কি বুঝি?
উত্তরঃ হালাল বলতে বুঝায়, ইসলামী আইন দ্বারা অনুমোদিত যে কোন কাজ বা বস্তু। যদিও শব্দটি বিশদভাবে কোনো কার্যকলাপ বা বস্তুর জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে, তবে এটি বিশেষত খাদ্যতালিকাগত বিধিনিষেধ তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্নঃ হালাল উপার্জন করা কি ফরজ?
উত্তরঃ একজন মুসলমানের জন্য হালাল উপার্জন করা ফরজ বা অপরিহার্য দায়িত্ব। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করা এবং কারো অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও তার সম্পদ গ্রহণ করা আল্লাহ তায়ালা হারাম করে দিয়েছেন। কারণ, উপার্জনে সামান্য হারাম প্রবেশ করলে সব বরকত নষ্ট হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ শতভাগ হালাল বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ শতভাগ হালাল' মানে কোনো সন্দেহ বা ভেজাল ছাড়া, সর্বোচ্চ শুদ্ধতা নিশ্চিত করা।  ইসলামী আইন অনুসারে মুসলমানদের খাওয়া নিষিদ্ধ এমন যেকোনো উপাদান থেকে মুক্ত।

প্রশ্নঃ ইসলামে কোন কোন পেশা হালাল?
উত্তরঃ ইসলামে কুরআন ও সুন্নাহর বিধি-নিষেধ মেনে হালাল উপায়ে পরিচালিত হয় এবং কোনো হারাম কাজ (যেমন- সুদ, মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি, মূর্তি তৈরি ইত্যাদি) সম্পৃক্ত না থাকে- তাহলে সমস্ত পেশাই হালাল বলা যায়।

পোস্টের শেষ-কথাঃ ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত লাভের উপায়

পরিশেষে, বলা যায় যে, ইসলামে আমাদের জীবন ব্যবস্থার যাবতীয় পবিত্র, উত্তম বিষয় ও বস্তুকে হালাল করা হয়েছে। তাই, আমাদেরকে খাওয়া-দাওয়া পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী- এর ব্যবহার, এমনকি যাবতীয় আয় উপার্জনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সেগুলো যেন হালাল ও উত্তম হয়। আর হালাল বা বৈধ্য উপার্জনের রয়েছে আল্লাহ তায়ালার রহমত ও বরকত। সুতরাং একজন মুসলমান হিসেবে হালাল বা বৈধ্য পন্থায় উপার্জন করা অবশ্যই উচিত ও কর্তব্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url