নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে নারীদের অবস্থা ছিল খুবই বর্বর। তখন কন্যা সন্তানদের জন্ম ছিল আরব সমাজে অভিশাপস্বরূপ। তাদেরকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। নারীরা ছিল অবহেলিত এবং খেলার বস্তু। পরবর্তীতে ইসলাম নারীদের সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। ফলশ্রুতিতে নারীরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে পেয়েছে সম্মান।
ইসলামে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের চাকরি করা জায়েজ, তবে পর্দা মেনে চলা, হালাল পেশা, ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি যা শরিয়তের পরিপন্থী নয়। তাই আজকে আমরা ‘নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ ইসলামের বিধান কি?’ এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো, ইনশাল্লাহ।
পেজ সূচিপত্রঃ নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
- নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
- পর্দা করে কি চাকরি করা যায়?
- ইসলামে নারীদের বাইরে কাজ করার বিধান
- নারীদের চাকরি কেন প্রয়োজন
- নারীদের কোন কোন ক্ষেত্রে চাকরি করা হারাম
- নারীদের চাকরি করা নিয়ে হাদিস
- ইসলামে নারীদের কাজ কি কি?
- প্রশ্ন ও উত্তরঃ নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
- পোস্টের ইতি-কথাঃ নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে ইসলামের বিধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, একসময় যে নারীকে জীবন্ত দাফন করা হতো সেই নারীদের তুলে ধরেছে সুউচ্চ মর্যাদার আসনে। নারীদের কর্মক্ষেত্র বিস্তার করার আরও বহু উপকারিতা আছে। নারী শিক্ষক বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বতন্ত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ, মহিলা ইউনিভার্সিটি পরিচালনা সম্ভব। নারী শিক্ষক বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বতন্ত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ, মহিলা ইউনিভার্সিটি পরিচালনা সম্ভব। এতে করে বাড়বে নারী শিক্ষার হার।
ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক একজন শিক্ষিত নারী তার মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ, সমাজ, রাষ্ট ও পরিবারের জন্য বয়ে নিয়ে আসবে সম্মান। ব্যবসা বাণিজ্যেও নারীরা এগিয়ে আসতে পারেন, হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা।
তাছাড়া ফ্রিল্যান্সিংয়েও নারীরা নিজেদের অবদান রাখতে পারে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে, উপার্জন করতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা। অনেক নারীই আজকাল ঘরে বিভিন্ন পণ্য বানিয়ে তা ফেইসবুকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমে বিক্রি করে মাসে আয় করছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে ইসলামের কোনো বাঁধা নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোরআনের বলছেন, “আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি এবং সুদকে হারাম করেছি (সুরা বাকারা, ১৮৬)”। আয়াতখানা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যেই সমভাবে প্রযোজ্য।
একজন মুসলিম নারী নির্বিঘ্নে ইসলামী শরীয়াহ মেনে যে কোনো হালাল চাকরি বা ব্যবসাতে যুক্ত হয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। এভাবে প্রতিটি সেক্টরে নারীদের সরব ভূমিকা থাকলে পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ 'নারী-পর্দা’ নিয়ে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক আমরা আলোচনা করব!!
তবে নারীদের চাকরি ক্ষেত্রে এর বিপরীত হতে পারে যেমন- উচ্চ শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত কর্মজীবী নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ পুরুষ সহকর্মীদের কাছে নানাভাবে অসামাজিক ও অনৈতিক নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মজীবী মেয়েরাও পুরুষ সহকর্মীদের সাথে অতিরিক্ত মাখামাখি করে পরিবেশকে দূষিত করছে। এইসব ক্ষেত্রে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাব এই অসামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরও প্রকট করছে।
ইসলাম ধর্ম মানবজাতিকে কখনই অনৈতিকতা শিক্ষা দেয় না। যথার্থ ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ কর্মক্ষেত্রে নারীদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে পারে। পর্দার যথার্থ অনুসরণ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সামাজিক ও নৈতিক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ গ্যারান্টি। সম্ভব হলে নারীদের পৃথক কর্মসংস্থান, পৃথক পরিবহন ব্যবস্থা নারীদের কর্মক্ষেত্রকে বিস্তৃত ও ব্যাপকতর করতে পারে।
সর্বোপুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্যে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ- জাতীয় উন্নয়নে অধিক ভূমিকা রাখবে।
পর্দা করে কি চাকরি করা যায়?
পর্দা করে কি চাকরি করা যায়? আমাদের সকলের মধ্যে এই প্রশ্নটি থেকেই যা। কারণ, সমাজের রক্ষণশীল অনেক নারীরা মনে করে পর্দা সহ নারীরা কি চাকরি করতে পারবে? নারীদের পর্দা করা ফরজ নারীর জন্য পর্দা আল্লাহ তায়ালার হুকুম। তাই এমন কোন কাজ করা যাবে না আল্লাহ তাআলা হুকুম পর্দা লঙ্ঘন করা হয়।
পর্দা করে কি চাকরি করা যায়? এই প্রসঙ্গে দারুল ইফতা দেওবন্দ থেকে বলা হয়-
‘চাকরির ক্ষেত্র বা চাকরিস্থল (যেখানে চাকরি করবে) যদি নারীর সঙ্গে পুরুষের সংমিশ্রণ না থাকে ও ঘর থেকে অফিসে যাওয়া আসার মাঝখানে কোনো ধরনের ফেতনা সৃষ্টির আশঙ্কা না হয়; তবে নারীরা শরীয়তের পূর্ণ পর্দাসহ বৈধ যে কোনো চাকরি করতে পারবেন। এতে না জায়েজের কিছু নেই।’
সরকারি-বেসরকারি খাতে চিকিৎসা, সাংবাদিকতা, ড্রাইভিংসহ কমবেশি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় সব পেশাতেই এখন নারীদের সংখ্যা বাড়ছে। এসব কর্মক্ষেত্রে ইসলামের শরীয়াহ মোতাবেক পূর্ণ পর্দাসহ নারীর চাকরির সুযোগ রয়েছে, যদি পর্দার বিধান পালন করা যায়। কেননা নারীর জন্য পর্দা হলো ফরজ।
অন্যদিকে, ঘরে অবস্থান করাই নারীদের কর্তব্য তবে নিরাপত্তার সাথে পর্দাসহ বের হয়ে বাইরে যেয়ে চাকুরীও করতে পারবে। অবশ্যই তাদেরকে ইসলামের কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। যেমন-
- সার্বক্ষণিক পর্দার মধ্যে থাকতে হবে
- কাজটা যেন ইসলাম বিরোধী না হয়
- কাজটি নারীদের কাজের উপযোগী হলে
- জীবিকার জন্য করতে বাধ্য হলে
- বাড়ির মধ্যেই কাজ করা যায় এরূপ কোন কাজ না পাওয়া গেলে
- কর্মক্ষেত্র যদি সফর পর্যায় পড়ে তবে মাহারম ছাড়া না যাওয়া
- কর্মস্থানটি যেন শুধু নারীদের হয় বা পুরুষদের সাথে মিলিতভাবে না হয়।
ইসলামে নারীদের বাইরে কাজ করার বিধান
ইসলামী শরিয়তের বিধান মেনে মুসলিম নারীরাও উপার্জন করতে পারে। চাকরি করতে পারে, ব্যবসা করতে পারে। কৃষিকাজে শরিক হতে পারে। বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করতে পারে। মহান আল্লাহ ব্যবসার বৈধতা দিয়েছেন। এই বৈধতা নারী ও পুরুষ সবার জন্য।
ইসলামে নারীদের বাইরে কাজ করার যেসব বিধি-বিধান রয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হল-
- ঘরের বাইরে কাজ করতে গিয়ে ঘরের যে গুরুদায়িত্ব নারীর ওপর অর্পিত, তা লঙ্ঘিত হতে দেওয়া যাবে না।
- গুনাহে ভরপুর বা পাপে ভরপুর কোনো পেশা গ্রহণ করা যাবে না। যেমন—নাচ, গান, পতিতাবৃত্তি, পানশালায় অতিথি আপ্যায়ন ইত্যাদি
- এমন কোনো পেশা গ্রহণ করা যাবে না, যে পেশায় পরপুরুষের সঙ্গে নির্জনে ও একান্তে সময় পার করতে হয়। আর এর জন্য সর্বোত্তম পন্থা হলো নারীর পৃথক কর্মস্থল।
- জাহেলি যুগের মতো অশালীন পোশাক ও সাজসজ্জায় বের হওয়া যাবে না, যা নারীর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। (আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ : ৭/৮৩-৮৪)
- সমাজ যদি নারীকে তার সেবার প্রয়োজন বোধ করে এবং তার সেবা দানকারী বিকল্প কোনো পুরুষ না পাওয়া যায়।
- পুরুষ থেকে পৃথক পরিবেশে নারীদের শিক্ষা দান করা অথবা নারীদের সেবা ও চিকিৎসা প্রদান করা। এ তিনটি শর্তে নারীর পক্ষে ঘরের বাইরে কাজ করা বৈধ।
- নারীর নিরাপত্তা বিধানের জন্য এটাও জরুরি যে সে মা-বাবা/স্বামীর অনুমতিক্রমে তাদের জানিয়ে ঘর থেকে বের হবে।
- অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য চাকরি করা বৈধ হতে পারে, তবে অবশ্যই ইসলামী মর্যাদা ও নীতির মধ্যে থাকতে হবে।
নারীদের চাকরি কেন প্রয়োজন?
নারীদের চাকরি কেন প্রয়োজন? এর উত্তরে আমরা বলতে পারি-
বর্তমান ডিজিটাল, প্রযুক্তির যুগে নারীরা চাকরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে নারীরাও সমতালে এগিয়ে যাচ্ছে।
নারীদের চাকরি করার প্রয়োজন। এর কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, তাদের ব্যক্তিগত আত্মমর্যাদা, সমাজে অংশগ্রহণের সুযোগ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। যার ফলে পরিবারে নানারকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
নারীদের কোন কোন ক্ষেত্রে চাকরি করা হারাম
ইসলামী শরিয়াহ বা ইসলামের দৃষ্টিতে নারীদের যেমন- বিভিন্ন বিধি-বিধান মেনে চাকরি করা জায়েজ বা বৈধতা রয়েছে তেমনি এর বিপরীতেও অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের চাকরি করা হারাম বা অবৈধ বলা হয়েছে। নিম্নে যেসব ক্ষেত্রে ইসলামে নারীদের চাকরি করা হারাম করা হয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
- যেসব কর্মক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর অবাধ মেলামেশা এবং ফিতনার (বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি) সুযোগ থাকে, তা ইসলামে হারাম বা অবৈধ।
- যদি কোনো চাকরি ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর বা অবৈধ হয়, তবে তা কোনো নারীর জন্য করা জায়েজ হবে না।
- স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেখে চাকরি করা একজন নারীর জন্য জায়েজ হবে না, যদি না তার বিশেষ কোনো প্রয়োজন থাকে।
- যে ধরনের চাকরিতে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক- পর্দা (শালীন পোশাক ও আচরণ) রক্ষা করা যায় না, নারীরা সেই ধরনের চাকরি করতে পারবেন না বা তাদের জন্য জায়েজ নয়।
নারীদের চাকরি করা নিয়ে হাদিস
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে চাদর এবং যদি সে গৃহের বাইরে যায় তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)। সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না যতটা সে গৃহে থেকে করতে পারতো।” [ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ-২৬৮৮]
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় আর কোন ফিতনাহ রেখে যাচ্ছি না। আর,বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনাহই ছিলো নারী সংক্রান্ত। সুতরাং লোকদের উচিত তাদের পরিবারকে ফিতনাহ এবং ফিতনাহর উপকরণ থেকে দুরে রাখা। [ফতোয়ায়ে আল-মার'আহআল মুসলিমাহ : ২/৯৮১]
এবং তিনি (সাঃ) নারীদের মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে বলেছিলেন, “তাদের গৃহই তাদের জন্য উত্তম।”[আবু দাউদ-৫৬৭]
বিশেষ কিছু শর্ত সাপেক্ষে নারীদের বাইরে কাজ করতে যাওয়া জায়েয আছে। যেমন-
- প্রকৃতিগতভাবে নারীদের জন্য উপযুক্ত হতে হবে। যেমন - ডাক্তারী, নার্সিং, শিক্ষকতা, সেলাই এবং এরকম আরও কিছু।
- কর্মস্থলটি বা চাকরির ক্ষেত্রটি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই হতে হবে এবং সেখানে পর পুরুষদের সাথে কোন মেলামেশার সুযোগ থাকবে না।
- প্রয়োজন ও সামর্থ্য থাকলে এবং পরিবার ও সমাজের প্রয়োজনে নারীরা চাকরি করতে পারে।
- চাকরিতে কাজের সময় নারী পূর্ণরুপে শরীআহ মোতাবেক হিজাব (পর্দা) করবে।
- কোনো হারাম কাজে জড়িত করবে না। যেমন - ড্রাইভারের সাথে একাকী অবস্থান করা, কাজের জায়গায় সহকর্মীদের সাথে অবাধ মেলামেশা করা।
ইসলামে নারীদের কাজ কি কি?
ইসলামে নারীদের কাজ নিয়ে- ইসলামী চিন্তবিদগণ তাদের ব্যাপারটি নিশ্চিতভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন, যেভাবে আল-কুরআনুল কারীম সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছে; একজন নারী হিসেবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানসমূহ; সাথে সাথে বর্ণিত হয়েছে তার অধিকার এবং আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ।
- প্রথমেই নারীদের কাজ হল আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং ইসলামের হুকুম আহকাম গুলো পূর্ণভাবে মেনে চলা। যেমন- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমজানে সাওম পালন, যাকাত ফরজ হলে তা নিয়মিত আদায় করা।
- দ্বিতীয়ত পূর্ণ হিজাব পালন করা অর্থাৎ গায়ের মাহরাম পুরুষ ও অমুসলিম নারীদের সামনে পূর্ণ পর্দা বা হিজাব পালন করা।
- ইসলাম নারীর জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা ও শিক্ষা প্রদান করার মর্যাদা পুরুষের মর্যাদার মত করে সমানভাবে নির্ধারণ করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
- আল্লাহ তাআলা নারীদের যে কঠিন দায়িত্ব টি দিয়েছেন , সেটি হল- ঘর ঠিকভাবে সামলে সন্তানদের যোগ্য, ঈমানদার মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা, তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন হল জ্ঞানার্জন করা।
- সৎ কাজ করা ও অন্যায় ও ধ্বংসাত্ব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যখন নারী তার পাঁচ ওয়াক্তের সালাত আদায় করবে; তার (রমযান) মাসের সাওম পালন করবে; তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করবে, তখন তাকে বলা হবে: তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা কর, সে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর।” – (আবদুর রহমান ইবন ‘আউফ রা. বর্ণিত হাদিস - حديث عبد الرحمن بن عوف الزهري رضي الله عنه, হাদিস নং- ১৬৬১)।
[উপরিরোক্ত বিষয়গুলো ইসলামিক ফিকহ বা আইনের উপর নির্ভর করে এবং ভিন্ন ভিন্ন ফিকহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন মত থাকতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।]
প্রশ্ন ও উত্তরঃ নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
- প্রয়োজন ও সামর্থ্য থাকলে এবং পরিবার ও সমাজের প্রয়োজনে নারীরা চাকরি করতে পারে।
- কর্মস্থলটি বা চাকরির ক্ষেত্রটি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই হতে হবে এবং সেখানে পর পুরুষদের সাথে কোন মেলামেশার সুযোগ থাকবে না।
- চাকরিতে কাজের সময় নারী পূর্ণরুপে শরীআহ মোতাবেক হিজাব (পর্দা) করবে।
পোস্টের ইতি-কথাঃ নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?
‘নারীদের চাকরি করা কি জায়েজ- ইসলামে এর বিধান কি?’ এই শিরোনামের আজকের এই আর্টিকেল আলোচনা করে বলা যায় যে, নারীদের চাকরি করা জায়েজ- যদি তা ইসলামের শর্তাবলী মেনে হয়। তবে মনে রাখতে হবে, ইসলামে নারীর মূল কর্মক্ষেত্র হলো তার ঘর আর সেখানে তার দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করা।
প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে কাজ বা চাকরি করতে হলে তা অবশ্যই ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক করতে হবে। অন্যথায় এর কোন বিকল্প নেই মানে এর ব্যতিক্রম করলে জায়েজ বা বৈধ হবে না। তাই আমরা নারীরা যথাসম্ভব ঘরে থাকার চেষ্টা করবো।পরিবারের প্রয়োজনে বাধ্য হলে- পর্দা মেনে বা ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চাকরি বা ব্যবসা করবো ইনশা-আল্লাহ।


গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url