বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের ইসলামী বিধান কি?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতিকল্পে ইন্টারনেটের ভূমিকা আমাদের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অনস্বীকার্য একটি গণমাধ্যম। এটি যেমন- সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য আদান-প্রদান, সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তেমনিভাবে- নগ্নতা, অশ্লীলতা এবং অনৈতিকতার সয়লাবে ভরপুর একটি নোংরা হাতিয়ার।

বর্তমান-যুগে-ইন্টারনেটের-সঠিক-ব্যবহারের-ইসলামী-বিধান-কি

তাই আজকে আমাদের আর্টিকেলের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের ইসলামী বিধান কি?’

পেজ সূচিপত্রঃ বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের ইসলামী বিধান কি?

বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের ইসলামী বিধান কি?

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট অর্থাৎ প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা পৃথিবীই এখন একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থানরত মানুষের সাথে কথা বলা যায় অনায়াসে। পৃথিবীর এই তাবৎ আবিষ্কার, প্রযুক্তির এই সব উন্নয়ন সবই ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য মহান আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ নেয়ামত। যার শুকরিয়া আদায় করা প্রতিটি বান্দার জন্য আবশ্যক।

এমন কোন প্রযুক্তি পণ্য বা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নেই, যেটা ইসলামের খেদমতে ব্যবহারযোগ্য নয়। তবে প্রতিটি জিনিসকে ভালো কাজেও ব্যবহার করা যায়, আবার মন্দ কাজেও ব্যবহার করা যায়। এটা নির্ভরকরে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর ব্যবহারের উপর। আমরা যদি ইন্টারনেট অর্থাৎ প্রযুক্তিকে ইসলাম প্রচারের কাজে লাগাই তাহলে সব ধরনের প্রযুক্তিই কল্যাণের মাধ্যম হবে।

আমরা জানি, সব নবী-রাসূলই তাদের যামানায় তৎকালীন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েছেন এবং নিজস্ব ধর্মের প্রচার-প্রসার করেছেন। তাঁরা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করেছেন। আমরাও যদি প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করি তাহলে তা হবে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর।

ইসলামী বিধানগুলি আমাদের জীবনযাপন এবং আচরণে ভারসাম্য রক্ষা করার কথা বলে, যা ডিজিটাল যুগেও প্রযোজ্য। কুরআন ও হাদিসে যেমন বলা হয়েছে, খাবার, পানীয়, এবং আচরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ততা এড়ানো উচিত, তেমনি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সঠিক এবং সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাই আজকে আমরা বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের ইসলামী বিধান সমূহ নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

আধুনিক প্রযুক্তি বা ইন্টারনেট নিয়ে ইসলামের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। যেকোন কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজও খুব দ্রুত ও সহজে করা যাচ্ছে। অপরদিকে, এর নেতিবাচকতায় যে ভেসে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব, সেটা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক প্রযুক্তিকে যাচাই করে দেখা ও এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত।

ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে কখনই নিরুৎসাহিত করে না। বরং এর সঠিক ও সুন্দর ব্যবহারকে উৎসাহিত করে। মদীনায় নবী করীম (সা.)-এর জীবনে এরকম অনেক প্রযুক্তিগত ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধে যে পারসিক কৌশল ব্যবহার করা হয় তা ছিল আরবদের কাছে অপ্রচলিত প্রযুক্তি।

এমনিভাবে অন্য যুদ্ধগুলোতেও সামরিক দিক দিয়ে অনেক উন্নত রণকৌশলের প্রয়োগ দেখা যায়। ইসলামী সমাজের বিভিন্ন নীতিমালা যে কতটা বিজ্ঞানসম্মত তা আজ সুপ্রমাণিত। মহানবী (সা.)-এর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মূলনীতি ছিল সর্বাধুনিক ও সর্বকালীন।

বিশ্ব মানবতার কল্যাণে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে মানুষের জীবনযাপনকে সহজ ও সাবলীল করেছে। ইসলামের সাথে বিজ্ঞানের কোন বিরোধ নেই। তবে বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, ইসলাম চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়। কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সঠিক ব্যবহার ও এর সুফল আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির অপব্যবহারে অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।

তরুণদের ইন্টারনেট আসক্তি ও ইসলামের নির্দেশনা কি? জানুন-

আধুনিক আইটির যুগে ইন্টারনেট হয়ে উঠেছে আধুনিক জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। বাস্তবিক পক্ষে- শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর অবদান অনস্বীকার্য। এটি যেমন- জ্ঞানের দরজা খুলে দিয়েছে, তেমনি সীমাহীন বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগ ও অবাধ তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে এক নতুন আসক্তির ক্ষেত্রও তৈরি করেছে।

আজকের এই তরুণ সমাজ ইন্টারনেট নির্ভরতায় এতটাই জড়িয়ে পড়েছে যে, এদের অনেকেই বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, ইবাদত থেকে গাফিল হচ্ছে, নৈতিক অধঃপতনে নিপতিত হচ্ছে।

এক গবেষণায় দেখা যায়, একজন তরুণ প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ইন্টারনেটে সময় কাটায়। অধিকাংশ সময়ই তা ব্যয় হয় ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও গেমিংয়ে। অনেকে অশ্লীল কনটেন্ট, হীন মানসিকতা ও গিবত-অপবাদমূলক পোস্টের ফাঁদে পড়ে যায়।

২০২৩ সালের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ ‘ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি’তে ভুগছে। এর ফলে পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক বিষণ্নতা, আত্মহত্যা প্রবণতা, যৌন বিকৃতি ও নৈতিক অবক্ষয় ভয়াবহ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ সমাজের ওপর ইন্টারনেট আসক্তির কুপ্রভাব দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। যেমন-

  • সময়ের অপচয়
  • নৈতিক অবক্ষয়
  • ইবাদত থেকে উদাসীনতা
  • সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপ ইত্যাদ।

তাই তরুণদেরকে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্ত করতে বা ফিরিয়ে আনতে ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলা অবশ্য ‍কর্তব্য ও উচিত। যেমন-

  • প্রতিটি কাজ শুরুর আগে নিয়ত ঠিক করতে হবে যে, এ কাজটা কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য?
  • পাপকার্যে উৎসাহ দেওয়া বন্ধু-বান্ধবের পরিবর্তে দ্বীনদার ও ইতিবাচক সঙ্গ গ্রহণ করতে হবে।
  • ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় গুনাহ থেকে বাঁচতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • ইন্টারনেট ব্যবহারে অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখতে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
  • পিতা-মাতাকে সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নির্ধারণ, কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প বিনোদন ও ইসলামি শিক্ষা প্রদানে উৎসাহিত করতে হবে।
  • ইন্টারনেটকে পুরোপুরি বর্জন না করে এটিকে হালাল কাজে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে হবে। যেমন-কুরআন তেলাওয়াত, ইসলামি লেকচার শোনা, দ্বীনি পড়ালেখা, অনলাইন দাওয়াহ প্রোগ্রাম ইত্যাদি।
  • ঘরে কুরআন তেলাওয়াত ও নামাজ আদায়ের পরিবেশ তৈরি হলে তরুণরাও সহজে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
আমাদের নবী করিম (সা.) একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা গোপন গুনাহ থেকেও রক্ষা করে। দোয়াটি হলোঃ
“হে আল্লাহ! আমাকে এমন বানাও যেন আমি তোমাকে দেখছি, এমন ভয় যেন আমার মাঝে থাকে।” (মুসনাদ আহমদ)

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারে- ধর্মীয় মূল্যবোধ

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারে- ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব খুবই গুরত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে যা কিছু আবিষ্কার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টিকে কেন্দ্র করেই সৃষ্ট। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তিনিই সেই সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু”।

পৃথিবীর সমস্ত আবিষ্কার, প্রযুক্তির সব উন্নয়ন- সবই ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য মহান আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ নেয়ামত। যার শুকরিয়া আদায় করা প্রতিটি বান্দার জন্য আবশ্যক। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন,“যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরো অধিক নিয়ামাত দান করব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহ’লে (মনে রেখ) নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।”

আর কৃতজ্ঞতা স্বীকার বা শুকরিয়ার সর্বনিম্ন স্তর হল, আল্লাহর নিয়ামাতকে সঠিক স্থানে ও সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং আল্লাহর নাফরমানিতে ব্যবহার করা থেকে সাধ্যাতীত বিরত থাকা। যেমন- টেলিভিশনের মাধ্যমে মন্দ ছবিও দেখ যায়, আবার সারাদিন ইসলামিক অনুষ্ঠানও দেখা যায়। লক্ষণীয় যে, প্রযুক্তিকে আমরা কোন কাজে ব্যবহার করছি সেটাই বিবেচ্য বিষয়। আমরা যদি প্রযুক্তিকে ইসলাম প্রচারের কাজে লাগাই তাহলে সব ধরনের প্রযুক্তিই কল্যাণের মাধ্যম হবে।

অপরদিকে, যদি এই কথা বলে পিছিয়ে থাকি যে, এগুলো ব্যবহার করা হারাম তাহলে এগুলোর সুফল থেকে জাতি বঞ্চিত হবে। সব নবী-রাসূলই তাদের যামানায় তৎকালীন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর দেয়া বিধান ধর্মের প্রচার-প্রসার করেছেন। তাঁরা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করেছেন। আমরাও যদি প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করি তাহলে তা হবে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নবীজী (সা.) এর নির্দেশনা

বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নবীজী (সা.)-এর নির্দেশনা পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন - “৭০ বছরের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ প্রদত্ত প্রকৃতি সম্বন্ধে চিন্তা করার অধিক উত্তম”। তিনি আরো বলেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অবশ্য কর্তব্য।”

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ভাষায়- 

“খুজ আল ফারার ওয়াত তালাক 
ওয়াস সাইয়ান আসবাহুল বারাক
ইযা মাখাযালাত ওয়া আশহাকাত 
ইযা মাখাযালাত ওয়া আশকাহাত
মালাক তাল খারাব ওয়াশ শারাফ”

অর্থাৎ, পারদ ও অভ্র একত্র করে যদি বিদ্যুৎ বা ভদ্র সদৃশ কোন বস্তুর সঙ্গে সম্মিলিত করতে পারে তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধীশ্বর হতে পারবে। 

জ্ঞানের নিজস্ব একটি শক্তি আছে যে শক্তি বলে দুর্গম পথ পাড়ি দেয়। অজানাকে অচেনাকে নিকটে আনে, শত্রুকে পরাভূত করে, আকাশে বাতাসে সাগরে ভূতলে তার আধিপত্য বিস্তার করে। তাই বৈজ্ঞানিক নবী জ্ঞানার্জনের জন্য কঠোর সাধনায়  ব্রত হতে উপদেশ দিয়েছেন এবং অনুপ্রাণিত করেছেন তার এ ধরনের অসংখ্য বাণীতে।

আল-কুরআনের বিষয় বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতা সম্পর্কে ডঃ মুরিস বুকাইলি বলেন “কুরআন কি সঙ্গত কারণে বলা যায় বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য শব্দসম্ভারকোষ, ব্যাকরণবিদদের জন্য ব্যাকরণ গ্রন্থ।”

ইসলাম প্রচারে ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির ব্যবহার

ইসলাম প্রচারে ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির ব্যবহার- আমাদের বর্তমান যুগের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। বিশ্ব মানবতার উৎকর্ষ সাধন, ইহকাল ও পরকালের প্রকৃত শান্তি, নিরাপত্তা এবং সফলতা অর্জন-এর একমাত্র পথ হচ্ছে ইসলাম।

আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা.) এর প্রতি সঠিক ঈমান স্থাপন করা এবং পরিপূর্ণআনুগত্য প্রকাশের কোন বিকল্প নেই। সুতরাং এই মুহূর্তে ইসলামী জীবন-বিধান এবং ইসলামী হুকুম আহকামের ব্যাপক এবং নিখুঁত প্রচার প্রসারের বিশেষ প্রয়োজন। প্রয়োজন সম-সাময়িক আধুনিক যুগ জিজ্ঞাসার গবেষনামূলক সঠিক উত্তর এবং জ্ঞান চর্চার।

একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, ব্যাপক প্রচার প্রসারের ক্ষেত্রে বর্তমান ইন্টারনেট অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যবহার একটি অপরিহার্য বিষয় । ইরশাদ হচ্ছে, “তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের প্রতি আহ্বান কর হিকমাত ও সদুপোদেশ দ্বারা এবং তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বির্তক কর।” (সূরা-নাহল, আয়াত: ১২৫)

ইসলামী বিশ্বে তুলনা মূলক ভাবে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যবহার খুবই কম বলা চলে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলামের গতিশীল ব্যাখ্যা ও প্রকৃত সত্য তুলে ধরা সময়ের দাবি। বর্তমানে দাওয়াতী কাজের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই সফল আবিষ্কার ইন্টারনেট হতে পারে বড় একটি মাধ্যম।

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট আষ্কিৃত হয়ে সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে দেড় যুগেরও বেশী সময় ধরে। তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে এর জনপ্রিয়তা এখন শীর্ষে। ইন্টারনেট মিডিয়াই একমাত্র মিডিয়া যেখানে লেখক ও পাঠকের মধ্যে সরাসরি তাৎক্ষনিক অনুভূতির আদান প্রদান সম্ভব। (যা দীন বুঝানোর ক্ষেত্রে অপরিহার্য্য একটি বিষয়)। ফলে সর্বস্তরের মানুষের কাছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে ইন্টারনেট মিডিয়াই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মিডিয়া।

ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি সম্পর্কে কুরআন কি বলে?

প্রযুক্তি হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার অনেক বড় নিয়ামাত। বিশ্বব্যাপী গবেষকরা গবেষণা করে নতুন নতুন আবিষ্কারাদি আমাদের সামনে উপস্থাপন করছেন। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সারা বিশ্বই একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল কারীমে রয়েছে জ্ঞান বিজ্ঞানের এক অপূর্ব নিদর্শনা। বিজ্ঞানের যে  কোন শাখার স্পষ্ট তথ্য কুরআন থেকে লাভ করা সম্ভব। বিজ্ঞান সম্পর্কে কুরআনে অসংখ্য আয়াত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নাযিল করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা সমস্ত বিশ্ব জাহানের সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক। তিনি মানুষকে বিজ্ঞান-চর্চা ও গবেষণা করার তাগিদ দিয়েছেন। তাই ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। দুনিয়াবী জীবনকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেনি, বরং সুস্থ সুন্দর জীবনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে- “বল, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি করেছেন তা কে নিষিদ্ধ করেছে?”

ইসলামে জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের বলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে- “বলুন, হে আমাদের রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর।”  পড়া ও লেখা উভয় মাধ্যমই জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে অতীব জরুরী। পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম বাণী হচ্ছে- “পড়,  তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়, আর  তোমার রব মহামহিম, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।”  

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- “তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সব কিছুকে কাজে লাগিয়েছেন।” (সূরা- আল-বাকারা: ২৯)। এই আয়াত শুধু মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে না, বরং এক গভীর দায়িত্ববোধের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞানের শক্তি ও প্রযুক্তির সম্ভাবনা দিয়েছেন, কিন্তু তা ব্যবহারের শর্তও নির্ধারণ করেছেন- অত্যাচার নয়, কল্যাণের জন্য ব্যবহার। প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সৃষ্টিশীল ব্যবহার তাই ইসলামী দৃষ্টিতে বৈধ, যদি তা সমাজ, পরিবেশ ও মানবতার কল্যাণে আসে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রকৃত জ্ঞানী সেই, যে আল্লাহর ভয় ও দায়িত্ববোধ নিয়ে জ্ঞান ব্যবহার করে।” (তিরমিজি)।  এই হাদীস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জ্ঞান ও প্রযুক্তির আসল মর্যাদা কেবল তখনই যখন তা নৈতিক সীমার মধ্যে থাকে। প্রযুক্তি নিজে ভালো বা মন্দ নয়- এর মূল্য নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য ও আচরণের ওপর।

প্রশ্ন ও উত্তরঃ বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের ইসলামী বিধান কি?

প্রশ্নঃ প্রযুক্তি ব্যবহার করা কি ইসলামে হারাম?
উত্তরঃ না, কারণ- ইসলামে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিজেই অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত কাম্য। তবে, যেভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তা এটিকে হারাম করে তুলতে পারে । উদাহরণস্বরূপ, মোবাইল ফোন ব্যবহার করা জায়েজ, কিন্তু অবৈধ সম্পর্কের জন্য এটি ব্যবহার করা হারাম।

প্রশ্নঃ ইন্টারনেট ব্যবহার কি ইসলামে হারাম?
উত্তরঃ ইন্টারনেট ব্যবহার কি ইসলামে হারাম? বিষয়টা নির্ভরকরে- এতে কী আছে এবং কোন ব্যক্তি এটি কী কাজে ব্যবহার করে তার উপর। যদি কেউ এটিকে কল্যাণকর এবং কার্যকর কাজে ব্যবহার করে, তাহলে তা ভালো এবং কল্যাণকর, যেমন বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে অথবা মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে। কিন্তু যদি কেউ এটিকে অশ্লীলতা এবং দুর্নীতির কাজে ব্যবহার করে, তাহলে তা হারাম বা নিষিদ্ধ।

প্রশ্নঃ প্রযুক্তির প্রধান প্রভাব কোনটি?
উত্তরঃ পূর্বে আমাদের যে কাজগুলি ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করতে ঘন্টা বা এমনকি দিন সময় লাগত, এখন কম্পিউটার এবং সফ্টওয়্যারের সাহায্যে অনেক দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। এই দক্ষতা বৃদ্ধি কেবল সময় সাশ্রয় করেনি বরং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি করেছে।

পোস্টের শেষ-কথাঃ বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের ইসলামী বিধান কি?

পরিশেষে, উক্ত আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, ইসলামী বিধানগুলি আমাদের জীবনযাপন এবং আচরণে ভারসাম্য রক্ষা করার কথা বলে, যা বর্তমান ইন্টারনেটের যুগেও প্রযোজ্য। কুরআন ও হাদিসে যেমন বলা হয়েছে, খাবার, পানীয়, এবং আচরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ততা এড়ানো উচিত, তেমনি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সঠিক এবং সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইসলামে প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করলে এটি আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে উন্নতি আনতে সহায়ক হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url