স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। এসময় প্রযুক্তির একটি বড় আবিষ্কার হচ্ছে, স্মার্টফোন যা আমাদের জীবনের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে। যেমন- তথ্য আদান-প্রদান, বিনোদন, এমনকি অফিসের কাজ, দূরে কথাবলা বা যোগাযোগ- সবকিছুই করা যাচ্ছে এই স্মার্টফোনে।
কিন্তু স্মার্টফোনের ইতিবাচক বহু সুবিধার পাশাপাশি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার অনেকের জন্য এটি আসক্তিতে রূপ নিয়েছে। তাই আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়’।
পেজ সূচিপত্রঃ স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়
- স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়
- স্মার্টফোনের আসক্তির কারণ জানুন
- স্মার্টফোনের আসক্তির কুফল সম্পর্কে জেনে নিন
- শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের আসক্তি সম্পর্কে জেনে নিন
- কিভাবে স্মার্টফোনের আসক্তি কমানো যায়?
- পোস্টের শেষ-কথাঃ স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়
স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়
প্রযুক্তির এই অত্যাধুনিক যুগে স্মার্টফোনে আসক্তি এখন ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পরিসর, এমনকি কর্মক্ষেত্রেও সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এতে অধিক সময় ব্যয় করা কেবল সময়ের অপচয় নয়, বরং মানসিকভাবে ক্লান্তিকরও বটে। মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার প্রায়ই নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা এতে আসক্ত হয়ে পড়েন। নোটিফিকেশন, রিঅ্যাকশন, কমেন্টস- এসব মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ করে, যা আনন্দের অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার ফোন হাতে নেয়ার প্রবণতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের এই আসক্তি অনেকটাই সংক্রামক। কোনো ঘরে বা কোনো আড্ডায় কেউ একজন হাতে স্মার্টফোন তুলে নিলে দ্রুতই অন্যরাও একে একে হাতে নিয়ে তাতে মত্য হয়ে পড়েন।
লক্ষ্যণীয় যে, তরুণ ও শিশু-কিশোরদের মধ্যে আসক্তি বাড়ার মাত্রা বেশি। গেম, কার্টুন বা সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো তাদের মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, ঘুমের সমস্যা ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতির কারণ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মানসিক বিকৃতি, স্থূলতা, এমনকি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়।
তাই স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা এবং সেই অনুযায়ী কমিয়ে ফেলা অবশ্যই একটি ভালো সিদ্ধান্ত।
আজকের আলোচনার বিষয় হলো, স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়।
স্মার্টফোনের আসক্তির কারণ জানুন
স্মার্টফোন ব্যবহারে অনেক উপকারিতা ও সুবিধার পাশাপাশি কিছু অপরকারিতাও আছে। সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাবটি পড়ছে মানুষের মনোজগতে। স্মার্টফোনে সময় কাটানোর হার বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে। তাতেই ঘটছে বিপত্তি। স্মার্টফোনে অত্যধিক নির্ভরশীলতা মানুষকে টেনে নিচ্ছে আসক্তির দিকে। নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে, কিছু ক্ষেত্রে জরুরি কাজ শিকেয় তুলে স্মার্টফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকছেন অনেকে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন হিসাবে বলা হচ্ছে, গড়ে প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার বেশি সময় স্মার্টফোনে খরচ করেন, এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। স্মার্টফোনে আসক্তি আদৌ সত্যি কি না, সেই বিষয়েও পুরোপুরি মনস্থির করতে পারেননি মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। তবে এটি যে নিত্যদিনের কাজে ছন্দপতনে ভূমিকা রাখছে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় ইন্টারনেটভিত্তিক নানা গেমস নিয়ে মেতে থাকে কিশোরদের দল।
স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট হাতের মুঠোয় থাকায় সহজেই পর্নো ভিডিওসহ অশ্লীল ও অনৈতিক ভিডিও দেখার সুযোগ অনায়াসেই পেয়ে যায় অপরিণত বয়সীরা। আর এসব শিশু-কিশোরই একটু বড় হলে জড়িয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্মে। দলবেঁধে আড্ডা দেওয়া, মাদকদ্রব্য গ্রহণ, মেয়েদের উত্তক্ত করাসহ নানা অপরাধমূলক কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছে তারা।
পরিবারের অসচেতনতার কারণেই কিশোররা বখাটে হয়ে যাচ্ছে। অপরিণত বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহারে বাধা না দেওয়ায় দিন দিন মোবাইল ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা। লেখাপড়া থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বাজারে, রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেওয়া এবং গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় তৈরি হচ্ছে তাদের একাধিক গ্রুপ। বড়দের সঙ্গে বেয়াদবি, শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করতেও দ্বিধা করে না উঠতি বয়সীদের একটা শ্রেণি। আধিপত্য নিয়েও পরস্পরকে বিরোধে জড়াতে দেখা যায়।
স্মার্টফোন আসক্ত উঠতি বয়সীরা আসক্তির চরম পর্যায়ে স্মার্টফোনের এমবি/টাকা যোগাতে পরিবার ও নিকট জনদের থেকে টাকা বা মূল্যবান জিনিস চুরি করতেও পিছপা হচ্ছে না।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার দমবন্ধ পরিবেশে গত দেড় বছরে দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে ৭০ শতাংশ শিশুই শারীরিক কোনো কাজ বা খেলাধুলার সুযোগ পায়নি। এতে বেড়েছে মানসিক নানা রোগ। গবেষণায় উঠে এসেছে, ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীই মোবাইলে আসক্ত।
দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ তরুণ তাদের স্মার্টফোনের উপর এতোটাই নির্ভরশীল যে এটি আসক্তির মতো হয়ে গেছে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের এক গবেষণায় সম্প্রতি এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুনঃ
- স্মার্টফোন স্লো হওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে জানুন
- মেবাইল অথবা কম্পিউটার দিয়ে অনলাইনে ইনকাম - জানুন বিস্তারিত
স্মার্টফোনের আসক্তির কুফল সম্পর্কে জেনে নিন
বর্তমানে প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রাকে করে দিয়েছে সহজ এবং আরামদায়ক তা বলার অবকাশ রাখে না। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন দুনিয়া হাতের মুঠোয় বলা যায়। প্রযুক্তির এই ব্যাপক উৎকর্ষ একদিকে যেমন সুফল বয়ে এনেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহারে রয়েছে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
একটি গবেষণায় জানা গেছে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-
- দৃষ্টি-শক্তির সমস্যাঃ স্মার্টফোনের নীল আলো আমাদের রেটিনার জন্য ক্ষতিকর। টানা অনেকক্ষণ ধরে অতিরিক্ত পরিমাণ স্মার্টফোন ব্যবহার রেটিনার মারাত্নক ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ম্যাকুলার ডিজেনারেশান বলা হয়।
ম্যাকুলার ডিজেনারেশানে আক্রান্ত ব্যক্তি তার চোখের দৃষ্টি অনেকটাই হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং এটি আস্তে আস্তে যে কাউকে চিরতরে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
স্মার্টফোনের নীল আলো সরাসরি আমাদের চোখে এসে পড়ায় এবং খুব কাছ থেকে এটি ব্যবহার করাই চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- স্নায়ু সমস্যাঃ স্মার্টফোন স্নায়বিক সমস্যার জন্যও দায়ী। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে আমাদের মেরুদন্ডের শুরু থেকে মস্তিষ্কে যে স্নায়ুর সাহায্যে সংযোগ স্থাপিত আছে তা অতিরিক্ত চাপে সংকুচিত হয়ে যায় কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যার ফলে দেখা দিতে পারে তীব্র মাথা ব্যাথাসহ মাইগ্রেইন সমস্যা। এই সমস্যাকে বলা হয় Occipital Neuralgia।
- মানসিক চাপ সৃষ্টিঃ অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার মানে সবাই আপনাকে সবসময় সুলভ ভাববে। ভাববে কল, টেক্সট, সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশান, মেইল এসব আপনি যে কোনো সময় রিপ্লাই দিতে সক্ষম।
কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণই ভুল। বরং এর জন্য আপনার কোন নির্দিষ্ট ওয়ার্কিং টাইম বলতে কিছুই থাকবে না, যা আপনার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।
স্মার্টফোন ব্যবহার করে আমরা দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে চাই। কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের সবার সাথে বেশি যোগাযোগ এর বদলে আরো বেশি দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। আমাদেরকে একা করে দেয়।
- ব্যাকপেইন সমস্যা সৃষ্টিঃ British Chiropractic Association এর মতে, গত কয়েক বছরে তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাকপেইন সহ মেরুদন্ডের নানা সমস্যা বহুগুণে বেড়ে গেছে।
- ঘুমের ব্যাঘাতঃ স্মার্টফোন যে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক গবেষণায় দেখা যায় যে, ঘুমানোর আগে ফোন বা ট্যাবলেট এর নীল আলো ঘুমের যতটা ব্যাঘাত ঘটায় তা একটা ডাবল এসপ্রেসো কফিও পারে না।
যদিও আমরা ঘুমানোর আগে ডাবল এসপ্রেসো কফি নিয়ে কেউ বিছানায় যাইনা। কিন্তু ফোন বা ট্যাবলেট ঠিকই নিয়ে যাই।
- শ্রবণ শক্তির সমস্যাঃ অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের খারাপ দিকগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো শ্রবণ শক্তির সমস্যা। সাধারণত স্মার্টফোনে চ্যাট, ব্রাউজিংয়ে আপনার কানের অর্থাৎ শ্রবণ শক্তির কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই।
স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হেডফোনে সর্বোচ্চ ১০৫ ডেসিবেল মাত্রার ভলিউম থাকে, যা কনসার্টে উৎপন্ন শব্দের মতোই। চার মিনিটয়ের বেশি এই সর্বোচ্চ ভলিউমে কেউ গান শুনলে তা কানের তথা শ্রবণ শক্তির মারাত্নক ক্ষতি করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের আসক্তি সম্পর্কে জেনে নিন
বর্তমান সময়ে দেখতে পাই, স্মার্টফোনের ব্যাপক প্রাপ্যতা এবং ব্যবহারের সাথে, শিক্ষার্থীরা ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের ফোনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সময় ব্যয় করছে, যা তাদের একাডেমিক কর্মক্ষমতা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং সামগ্রিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
- প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষমতাঃ স্মার্টফোন ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে ক্রমাগত সোশ্যাল মিডিয়া চেক করতে, গেম খেলতে বা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে দেখতে পারে, যার ফলে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। এটি খারাপ গ্রেডের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং তাদের শিক্ষাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
- সামাজিক মিথস্ক্রিয়াঃ শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের আসক্তি মুখোমুখি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে। শিক্ষার্থীরা সমবয়সীদের, পরিবারের সদস্যদের এবং তাদের চারপাশের শারীরিক জগতের সাথে কম সময় কাটাতে পারে। এটি বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি, বিচ্ছিন্নতা এবং শক্তিশালী আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা বিকাশে অক্ষমতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
- মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাঃ ফোনে অত্যধিক সময় ব্যয় করা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার বর্ধিত ঝুঁকির সাথে যুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্রমাগত এক্সপোজার অপ্রতুলতার অনুভূতি, মেনে চলার চাপ এবং হারিয়ে যাওয়ার ভয় (FOMO) তৈরি করতে পারে। এটি সাইবার বুলিং এবং অনলাইন হয়রানিতেও অবদান রাখতে পারে, যা ছাত্রদের মানসিক সুস্থতাকে আরও প্রভাবিত করে।
- শারীরিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগঃ স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার প্রায়ই একটি আসীন জীবনধারার দিকে পরিচালিত করে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শারীরিক কার্যকলাপে কম সময় ব্যয় করে। ব্যায়ামের এই অভাবের ফলে স্থূলতা, কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা এবং ঘাড় এবং পিঠে ব্যথার মতো পেশীর ব্যাধি সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়ঃ স্মার্টফোন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় কুফল হলো ঘুমের ব্যাঘাত। ফোনের পর্দা দ্বারা নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করে, একটি হরমোন যা ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে। মানসম্পন্ন ঘুমের অভাব শিক্ষার্থীদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা, একাগ্রতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
- বাচ্চাদের জন্য উপযোগী কোন ধরণের স্মার্টফোন কিনবেন?
- শিশুদের মোবাইল ফোন আসক্তি প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায়
কিভাবে স্মার্টফোনের আসক্তি কমানো যায়?
স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়সমূহ-
- নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণঃ স্মার্টফোন থেকে অপ্রয়োজনীয় সব নোটিফিকেশন (শব্দ, ব্যানার, ভাইব্রেশন) বাদ দিতে হবে।
- সময় নির্ধারণঃ কোন অ্যাপ কতক্ষণ ব্যবহার করবেন তার সময় আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। চাইলে স্মার্টফোনের পর্দা চালুর সময় নির্ধারণ করে নিতে পারেন।
- ঘুমের সময় স্মার্টফোন দূরে রাখুনঃ অনেকেই ঘুমের সময় স্মার্টফোন কাছাকাছি রাখেন। এ অভ্যাস বাদ দিতে হবে। এ জন্য স্মার্টফোন সাইলেন্ট বা ভাইব্রেশন বন্ধ করে ঘুমানোর জায়গা থেকে দূরে রাখতে হবে।
- স্মার্টফোনের পর্দা গ্রেস্কেলঃ আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা স্মার্টফোনে গ্রেস্কেল মোডে সুইচ অন করে রাখতে হবে। পর্দা সাদা–কালো থাকলে স্মার্টফোনের আকর্ষণ কমে যায়, ফলে ব্যবহার কম হয়।
- সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপ লুকানোঃ যাঁরা ই–মেইল, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের মতো অ্যাপ ব্যবহার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারছেন না, তাঁরা চাইলে অ্যাপগুলো লুকিয়ে রাখতে পারেন। এ জন্য অ্যাপগুলো স্মার্টফোনের হোম স্ক্রিন থেকে সরিয়ে আলাদা ফোল্ডার রাখতে হবে।
- স্মার্টফোন থেকে দূরত্ব বজায়ঃ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে স্মার্টফোন দৃষ্টিসীমার বাইরে রাখতে হবে। প্রয়োজনে স্মার্টফোন সাইলেন্ট করে পর্দার দিক নিচে রেখে কাজ করতে হবে।
- কঠিন আনলক পদ্ধতিঃ স্মার্টফোনের আনলক পদ্ধতি কঠিন করতে হবে। প্রয়োজনে স্মার্টফোনের টাচ আইডি বা ফেইস আইডি সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে। খোলার পদ্ধতি কঠিন হলে বারবার আনলক করে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে মন চাইবে না।
- উজ্জ্বলতা কমানোঃ ফোনের ডিসপ্লে সেটিংস থেকে স্মার্টফোনের উজ্জ্বলতা যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখতে হবে। এতে ফোনের নীল আলো কমবে এবং চোখের জন্য উপকার হবে।
- স্মার্টফোনের কাজ কম্পিউটারে করাঃ যে কাজ আপনি কম্পিউটারে করতে পারেন সেগুলো স্মার্টফোনে করবেন না। এতে স্মার্টফোনের ব্যবহার ও আসক্তি কমবে।
- স্মার্টফোন রেখে বাইরেঃ যখন বাইরে যাবেন প্রয়োজন না হলে সঙ্গে স্মার্টফোন নেবেন না। যেমন কেনাকাটা বা ব্যায়াম করার সময় যতটা সম্ভব স্মার্টফোন ঘরে রেখে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে।
পোস্টের শেষ-কথাঃ স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়
পরিশেষে, ‘স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর কার্যকরী ও বৈজ্ঞানিক উপায়’ শিরোনামের আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, স্মার্টফোনের আসক্তি কমাতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সামনে ফোনের ব্যবহার সীমিত করা। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়, তাই বড়দের ফোন ব্যবহার দেখলে তারাও আগ্রহী হয়। এছাড়া স্কুল-কলেজে ও সামাজিকভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো যেতে পারে তাতে করে ভালো একটা ফলাফল বয়ে আনবে আশা করা যায়।



গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url