ইউরোপের প্রাচীনদেশ গ্রীস- ভিসা, মোট খরচ ও বেতন নিয়ে আলোচনা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, গ্রীস দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এক ঐতিহ্যবাহী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর ও প্রাচীনতম দেশ। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সেনজেনভুক্ত একটি দেশ। তবে দেশটি এখনও অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল এবং জীবনযাত্রার মান বেশ উন্নত।

ইউরোপের-প্রাচীনদেশ-গ্রীস--ভিসা,-মোট-খরচ-ও-বেতন-নিয়ে-আলোচনা

তাই বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশের মানুষের কাছে গ্রীস এখন একটি আকর্ষণীয় দেশ কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের দিক থেকে। আজকে আমরা ইউরোপের প্রাচীনদেশ গ্রীস- এর  ভিসা, মোট খরচ ও বেতন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো- ইনশাল্লাহ।

পেজ সূচিপত্রঃ ইউরোপের প্রাচীনদেশ গ্রীস- ভিসা, মোট খরচ ও বেতন নিয়ে আলোচনা

ইউরোপের প্রাচীনদেশ গ্রীস- ভিসা, মোট খরচ ও বেতন নিয়ে আলোচনা

গ্রীস ইউরপিয়ান সেনজেন ভুক্ত এক ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম সুন্দর দেশ। এখানে নন-ইইউ নাগরিকরা সহজেই গ্রীসের কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। গ্রীস কাজের ভিসা ইতালির সিজনাল ওয়ার্ক ভিসার মতো তুলনামূলকভাবে অধিকতর সহজ। গ্রীসে পিআর এবং ওয়ার্ক পারমিট এখন সবার জন্য উন্মুক্ত।

ইউরোপের-প্রাচীনদেশ-গ্রীস--ভিসা,-মোট-খরচ-ও-বেতন

গ্রীসে কাজের জন্য, পড়াশোনার জন্য এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক মূলক কাজের জন্য বসবাসের অনুমতি দিয়ে থাকে। এখানে কাজ করার জন্য গ্রীস এমপ্লয়ার ভিসা, সিজনাল ভিসা এবং ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার মতো অনেক বিকল্প রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে গ্রীক সরকারের গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রাম। যেমন- এখানে আপনি সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে অথবা এপার্টমেন্ট কেনার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়ে যেতে পারেন।

এই দেশে কাজের সর্বনিম্ন বেতন অনেক বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসা নিয়ে ইউরোপের এই দেশে গেলে বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। তাই ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের এই দেশে যেতে কত টাকা লাগে, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া, ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বয়সসীমা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করবো।

আরো পড়ুনঃ সৌদি আরবে ড্রাইভিং লাইসেন্স কত রিয়াল লাগে? জানলে চমকে যাবেন!

গ্রীস ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন করতে হয়

ইউরোপের এই প্রাচীনতম দেশ গ্রিসে যেতে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা ও কাজের ভিসা আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।

গ্রীস-ভিসা-আবেদন-প্রক্রিয়া

সর্ব প্রথমে গ্রীসের অফিসিয়াল ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে গিয়ে গ্রীস ভিসা আবেদন ফরম ডাউনলোড করে সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়। ভিসার জন্য সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ও ভিসা আবেদন ফি অনলাইনে জমা দিতে হয়।

অনলাইনে ভিসা আবেদন করার পর নির্দিষ্ট কোন তারিখে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত গ্রীস দূতাবাসে (৫১/বি, বোরাক মেহনুর, গুলশান, ঢাকা ১২১২) গিয়ে ভিসা আবেদন, বায়োমেট্রিক ইনফরমেশন ও সাক্ষাৎকার দিতে হয়।

গ্রীস চাকরির আবেদনের ওয়েবসাইটসমূহ

  • EURES Greece
  • LinkedIn Greece
  • Kariera.gr
  • XpatJobs Greece
  • Monster Greece
  • CareerJet Greece
  • Eurojobs Greece
  • JobFind.gr

গ্রীস ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

গ্রীস ভিসার ক্যাটাগরি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী গ্রীসে যাওয়ার কাগজপত্রাদিও আলাদা হয়ে থাকে।

  • জাতীয় পরিচয় পত্র
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • একাডেমিক সার্টিফিকেট
  • একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট
  • ভর্তির অফার লেটার (স্টুডেন্ট ভিসা)
  • কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট
  • ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট
  • স্পন্সর লেটার/চাকরির অফার
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার লেটার
  • বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদী)
  • মেডিকেল রিপোর্ট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অর্থাৎ পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট
  • ভাষা- ইংরেজী/গ্রীক সার্টিফিকেট (স্টুডেন্টদের জন্য আইইএলটিএস, জিআরই, টোফেল স্কোর)
  • বিমা
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

বাংলাদেশ থেকে গ্রীস যেতে মোট কত টাকা খরচ হয়?

বাংলাদেশ থেকে গ্রীস যেতে মোট কত টাকা খরচ হয় তা নির্ভর করে মূলত আপনি কোন ক্যাটাগরীতে যাচ্ছেন। ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী গ্রীসে যাওয়ার খরচ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন-

  • ওয়ার্ক ভিসার জন্য প্রায় ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। এখানেও খরচটা কাজের ধরন ও এজেন্সি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
  • টুরিস্ট ভিসার জন্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। কম সময়ের জন্য ভ্রমণ। 
  • আর স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা লেগে যায়। এটাও আপনার টিউশন ফ্রী ও ডকুমেন্ট নির্ভর।
  • তাছাড়া সরকার অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে গেলে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়ে থাকে। কিন্তু বেসরকারি দালাল বা অননুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

গ্রীসে গড় বেতন কত হয়ে থাকে?

গ্রীসে গড় বেতন কত? তা নির্ভর করে বিভিন্ন পেশা, অভিজ্ঞতা ও লোকেশনের ওপর। তাই নিম্নে কিছু সাধারণ পেশার মাসিক গড় বেতন দেখানো হলো-
  • হোটেল/রেস্টুরেন্ট কর্মী: ৭০০ – ১২০০ ইউরো
  • নির্মাণ কর্মী: ৮০০ – ১৫০০ ইউরো
  • পরিচ্ছন্নতা/জেনারেল শ্রমিক: ৬০০ – ১১০০ ইউরো
  • নার্সিং/কেয়ারগিভার: ১২০০ – ১৮০০ ইউরো
  • কৃষি শ্রমিক: ৫০০ – ৯০০ ইউরো
👉সাধারণ ন্যূনতম গড় বেতন: ৮৩০ ইউরো।

প্রতি ইউরো বাংলা টাকায় কনভার্ট করে দেখে নিবেন বর্তমান মূল্যে”

গ্রীসে মাসে কত টাকা খরচ হয়?

গ্রীসে মাসে কত টাকা খরচ হয় তার একটা সাধারণ হিসাব নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
  • বাসাভাড়া (শেয়ার) ২০০ - ৩০০ ইউরো
  • খাবার ১৫০ - ২৫০ ইউরো
  • ট্রান্সপোর্ট ৩০ - ৬০ ইউরো
  • মোবাইল/ইন্টারনেট ২০ - ৩০ ইউরো
  • অন্যান্য ৫০ - ৭০ ইউরো।
সুতরাং মাসে মোট খরচ- ৪০০ - ৬৫০ ইউরো।

গ্রীসে PR ও CITIZENSHIP কিভাবে পাওয়া যায় জানুন

গ্রীসে PR ও CITIZENSHIP পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই সেখানে নিয়মিত কাজ করতে হবে, যাবতীয় ট্যাক্স প্রদান করতে হবে, ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এসমস্ত কিছু আপনি করতে পারলে ৫ বছর পর PR অর্থাৎ PERMANENT RECIDENCE পাওয়া যাবে। এবং ৭ বছর পর বৈধ অবস্থান ও নাগরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে CITIZENSHIP পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ থেকে গ্রীস যাওয়ার বৈধ পথসমূহ

বাংলাদেশ থেকে গ্রীসে যাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ ও বৈধ পন্থা বা উপায় হলো সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন করা। যেমন –

  • প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
  • বোয়েসেল (BOESL)
  • বিএমইটি (BMET)

এছাড়াও VFS Global বা গ্রিসের অনুমোদিত ভিসা প্রসেসিং সেন্টারগুলোতেও আবেদন করা যায়।

  • বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে- স্টুডেন্ট ও টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে
  • বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে- ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রে।

সতর্কতা: অজানা বা আপনার  জানা-শোনা নেই এমন দালাল বা অবৈধ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার ঝুঁকি একেবারেই নেওয়া উচিত নয়।

প্রশ্ন ও উত্তরঃ ইউরোপের প্রাচীনদেশ গ্রীস- ভিসা, মোট খরচ ও বেতন নিয়ে আলোচনা

👉প্রশ্নঃ গ্রীসে পিআর পেতে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ গ্রীসে পিআর পেতে ৫ বছর সময় লাগে। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই সেখানে নিয়মিত কাজ করতে হবে, যাবতীয় ট্যাক্স প্রদান করতে হবে, ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

👉প্রশ্নঃ গ্রীসের বর্তমান নাম কি?
উত্তরঃ গ্রীসের সরকারি নাম হেলেনিক রিপাবলিক (Hellenic Republic) বাংলায় হেলেনিক প্রজাতন্ত্র, তবে প্রচলিত নামই হলো গ্রীস।

👉প্রশ্নঃ  বাংলাদেশ থেকে গ্রীসে যাওয়ার উপায়সমূহ কি কি ?
উত্তরঃ বাংলাদেশ থেকে গ্রীসে যাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ ও বৈধ পন্থা বা উপায় হলো সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন করা। যেমন –

  • প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
  • বোয়েসেল (BOESL)
  • বিএমইটি (BMET)

এছাড়াও VFS Global বা গ্রীসের অনুমোদিত ভিসা প্রসেসিং সেন্টারগুলোতেও আবেদন করা যায়।

👉প্রশ্নঃ বাংলাদেশের গ্রীস দূতাবাস কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ ৫১/বি, বোরাক মেহনুর, গুলশান, ঢাকা ১২১২।

👉প্রশ্নঃ গ্রীস কি সেনজেন ভুক্ত দেশ?
উত্তরঃ হ্যাঁ, গ্রীস ইউরোপের সেনজেন ভুক্ত দেশ।

আরো পড়ুনঃ 


পোস্টের শেষকথাঃ ইউরোপের প্রাচীনদেশ গ্রীস- ভিসা, মোট খরচ ও বেতন নিয়ে আলোচনা

পরিশেষে, ‘ইউরোপের প্রাচীনদেশ গ্রীস- ভিসা, মোট খরচ ও বেতন নিয়ে আলোচনা’ শিরোনামের এই আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, ইউরোপের প্রাচীনতম সুন্দর দেশ- গ্রীস যেতে ইচ্ছুকদের জন্য সঠিক প্রস্তুতি, বৈধ এজেন্ট নির্বাচন, ডকুমেন্টস যাচাই, এবং ভাষা জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

👉Official Greece Immigration Website: Hellenic Republic – Ministry of Foreign Affairs

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url