ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, ইসলাম ধর্মে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উৎসব হল- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। প্রতি বছর আরবি জ্বিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে উয্যাপিত হয় ‘ঈদুল আযহা’। আর এই দিনে আল্লাহ তায়ালার নামে পশু কোরবানি দেওয়া হয়ে থাকে। সামর্থ্যবান প্রত্যেক নর-নারীর উপর কোরবানি ওয়াজিব।
এটি মৌলিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। তাই আলোচ্য আর্টিকেলটিতে আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা’।
পেজ সূচিপত্রঃ ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা
- ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা
- ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে- গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
- ইসলামে হাদিসের আলোকে কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ দশ ফজিলতর
- প্রশ্ন ও উত্তরঃ ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা
ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা
কোরবানি মুসলমানদের একটি ঐতিহাসিক সুন্নত এবং ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)- এর জীবনের ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান চালু হয়। ইসলামী শরী‘আতে এর গুরুত্ব অনেক। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহ্র নিকটে পৌঁছে না। বরং তাঁর নিকটে পৌঁছে কেবলমাত্র তোমাদের ‘তাক্বওয়া’ বা আল্লাহভীতি’। *(হজ্জ, ৩৭)
তিনি অন্যত্র বলেন, ‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ছালাত আদায় কর এবং কোরবানি কর’ *(সূরা কাওছার, ২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘আর যে আল্লাহর নিদর্শনাবলীর সম্মান করল, তা মূলত অন্তরের তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতির পরিচায়ক’ *(সূরা হজ্জ, ৩২)।)
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্য থেকে পশু কোরবানি করার চেয়ে কোনো আমল আল্লাহ তাআলার নিকট অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন এই কোরবানিকে তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত করা হবে। আর কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ তাআলার নিকট কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি কর। *(জামে তিরমিযী, হাদীস: ১৪৯৩)
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে কঠোর ধমকি এসেছে,
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من وجد سعة لأن يضحي فلم يضح فلا يقربن مصلانا.
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ *(মুসনাদে আহমদ ২/৩২১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৭৬৩৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫)
ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে- গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
কোরবানি কী? উর্দূ ও ফার্সিতে কোরবানি শব্দটির ব্যবহার হলেও এটি করব বা কোরবান (قرب বা قربان) আরবি শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। যার অর্থ- ‘নৈকট্য বা সান্নিধ্য’। কোরবান হলো, প্রত্যেক সেই বস্তু, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। আর সেখান থেকেই ফার্সি বা উর্দু-বাংলাতে ‘কোরবানি’ শব্দটি গৃহীত হয়েছে।
কোরবানির ইতিহাস অতি প্রাচীন। কোরআনে হাবিল-কাবিলের ঘটনাই তার প্রমাণ। ইসলামে প্রথম কোরবানি এটি। হাবিল প্রথম মানুষ, যিনি আল্লাহর জন্য একটি পশু কোরবানি করেন। ধর্মীয় বিবরণ থেকে জানা যায়, হাবিল একটি ভেড়া এবং তার ভাই কাবিল তার ফসলের কিছু অংশ স্রষ্টার উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন।
সে সময় আল্লাহর নির্ধারিত শরিয়ত বা পদ্ধতি ছিল এই যে, আকাশ থেকে আগুন নেমে আসবে এবং যার কোরবানি কবুল হবে তার জিনিসকে আগুন গ্রহণ করবে। অর্থাৎ অগুন সে জিনিসকে জালিয়ে ভষ্ম করে দেবে। সেই অনুযায়ী, আকাশ থেকে নেমে আসা নেককার হাবিলের জবেহকৃত পশুটির কোরবানি গ্রহণ করে। অন্যদিকে কাবিলের ফসলস্বরূপ প্রদত্ত কোরবানি প্রত্যাখ্যাত হয়।
পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা ইসলামের নবি ও রাসুল, মুসলিম জাতির পিতা, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সাল্লামকে স্বপ্নযোগে এ মর্মে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার নির্দেশ দেন, ‘তুমি তোমার প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে কোরবানি করো।
আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার আশায় জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত কোরবানির নিয়তে উট, গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়া জবাই করাই হলো কোরবানি।
মুমিন মুসলমানের জন্য নির্ধারিত দিনে কোরবানি করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। কোরআন-সুন্নার নির্দেশনাও তাই। আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর।’ *(সূরা কাউসার: আয়াত ২) আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে নামাজ ও কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ দুটি ইবাদত সবচেয়ে বেশি করেছেন। তিনি যেমন বেশি নামাজ আদায় করেছেন তেমনি বেশি কোরবানিও করেছেন।
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোরবানি করা প্রসঙ্গে হাদিসে একাধিক বর্ণনা রয়েছে। যেমন-
- হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ (ও সুন্দর) দুই শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো মিশ্রিত (মেটে বা ছাই) রঙের দুইটি দুম্বা কোরবানি করেছেন।’ *(বুখারি, মুসলিম)
- হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০ বছর মদিনায় অবস্থান করেছেন। মদিনায় অবস্থানকালীন প্রত্যেক বছরেই কোরবানি করেছেন।’ *(মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)
- সামর্থ্যবানদের মধ্যে যারা কোরবানি করে না, তাদের প্রতি তিনি এভাবে হুশিয়ারী করেছেন। হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।’ *(মুসনাদে আহামদ, ইবনে মাজাহ, মুসতাদরেকে হাকেম)
- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো বছর কোরবানি থেকে বিতর থাকেননি। তিনি কর্মে দ্বারা যেমন কোরবানি করতে অনুপ্রাণিত করেছেন আবার বক্তব্য দিয়ে কোরবানির প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। হাদিসে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি (ঈদের) নামাজের আগে (পশু) জবেহ করে সে নিজের জন্য জবেহ করে। আর যে নামাজের পর জবেহ করে তার কোরবানি সিদ্ধ হয় এবং সে মুসলমানদের তরিকার অনুসারী হয়।’ *(বুখারি)।
আরো পড়ুনঃ
ইসলামে হাদিসের আলোকে কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ দশ ফজিলত
কোরবানির সুনির্দিষ্ট ফযীলত সম্পর্কে ছহীহ কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। যেগুলো এসেছে, তার সবগুলোই যঈফ বা দুর্বল। *(তুহফাতুল আহওয়াযী, ৫/৬৩; মির‘আতুল মাফাতীহ্, ৫/১০৪)।
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং বিশেষ ধরণের ইবাদত। কোরবানি ইসলামের অন্যতম শিআ‘র তথা পরিচয়-নিদর্শনমূলক একটি ইবাদত। আযান, জুমআ’, জামাআ‘ত ইত্যাদি যেমনিভাবে ইসলামের পরিচয় বহন করে তেমনি কোরবানিও ইসলামের পরিচয় বহন করে। একে ‘সুন্নাতে-ইবরাহিমি’ও বলা হয়। কেননা, কোরবানির এই বিশেষ পদ্ধতির সূচনা হযরত ইবরাহিম আলাইহিসালামের মাধ্যমেই হয়।
কোরবানি কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হল, নিয়ত পরিশুদ্ধ থাকা। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে হালাল উপার্জন হওয়া। এছাড়া রোগা, কৃশকায়, জীর্ণ-শীর্ণ, কানা, অন্ধ, ল্যাংড়া ইত্যাদি ত্রুটির যে সকল বিষয় ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে মুক্ত থাকলে কোরবানি কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।
কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ দশ ফজিলত নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
- রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতি বছর কোরবানি করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাযি. বলেন,
أَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي
রাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায় দশ বছর থেকেছেন এবং প্রতি বছর কোরবানি করেছেন। *(তিরমিযি ১৫০৭)
- এটি আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ
কোরবানির দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ তাআলার নিকট সবচাইতে পছন্দনীয় হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা ( কোরবানি করা)। *(তিরমিযি ১৪৯৩)
- কোরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদা পেয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إِنَّهَا لَتَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلاَفِهَا وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا
কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও ক্ষুরসহ হাযির হবে। তার ( কোরবানির পশুর) রক্ত যমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ তাআলার নিকটে এক বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কোরবানি কর। *(তিরমিযি ১৪৯৩)
- এটি ইবরাহিম আলাইহিসসালামের সুন্নাহ। হাদিস শরিফে এসেছে, যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. বলেন,
قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺـ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الأَضَاحِيُّ قَالَ سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই কোরবানি কী? তিনি বলেন, এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিসসালামের সুন্নাহ (ঐতিহ্য)। *(ইবনে মাজাহ ৩১২৭)
- প্রতিটি পশমের বিনিময়ে রয়েছে একটি করে নেকি। যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. বলেন,
قَالُوا فَمَا لَنَا فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعَرَةٍ حَسَنَةٌ . قَالُوا فَالصُّوفُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعَرَةٍ مِنَ الصُّوفِ حَسَنَةٌ
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এতে কি আমাদের জন্য সাওয়াব আছে? তিনি বললেন, কোরবানির পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তে একটি করে প্রতিদান রয়েছে। সাহাবীগণ আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পশমওয়ালা পশুদের ব্যাপারে কী হবে? (এদের পশম তো অনেক বেশী)? তিনি বললেন, পশমওয়ালা পশুদের প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকি রয়েছে। *(ইবনে মাজাহ ৩১২৭)
- প্রথম ফোঁটা জমিনে পড়ার পূর্বেই মাফ করে দেয়া হয়। আবু সাইদ খুদরি রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
يا فاطمةُ قومي إلى أُضحيتِك فاشهدِيها ، فإنَّ لكِ بأولِ قطرةٍ تقطُرُ مِنْ دمِها يُغفرْ لكِ ما سلف من ذنوبِكِ . قالت : يا رسولَ اللهِ هذا لنا أهلَ البيتِ خاصَّةً أو لنا وللمسلمِين عامَّةً ؟ قال : بل لنا وللمسلمين عامَّةً . مرَّتينِ
হে ফাতেমা! তুমি তোমার কোরবানির জন্তুর নিকট যাও। কেননা, কোরবানির জন্তু জবেহ করার পর রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার সাথে সাথে তোমার যাবতীয় গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। ফাতেমা রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! এটা কি শুধু আমরা যারা আহলে বাইত তাদের জন্য না আমদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য? রাসূলুল্লাহ ﷺ জবাব দিলেন, বরং এটা আমাদের জন্য এবং এটা সকল মুসলমানের জন্য। কথাটি তিনি দুই বার বললেন। *(মুসতাদরাকি হাকিম ৭৫২৪)
- প্রতিটি রক্তের ফোঁটার জন্য একটি নেকি। যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
بِكُلِّ قَطْرَةٍ حَسَنَةٌ
কোরবানির পশুর প্রতিটি রক্তের ফোঁটার জন্য একটি নেকি দেয়া হয়। *(বাইহাকি ১৭৪৯৫)
- পুলসিরাতের বাহন হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَظِّمُوا ضَحَايَاكُمْ فَإِنَّهَا عَلَى الصِّرَاطِ مَطَايَاكُمْ
তোমরা মোটা তাজা পশু কোরবানি কর। কেননা, এটি পুলসিরাতে তোমাদের বাহন হবে। *(কানযুল উম্মাল ১২১৭৭)।
- এটি জাহান্নামের ঢাল। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ ضَحَّى طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ، مُحْتَسِبًا لِأُضْحِيَّتِهِ؛ كَانَتْ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ
যে ব্যক্তি হাসি-খুশি মনে সাওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, তার জন্য ওই কোরবানি জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য দেয়াল হয়ে যাবে। *(তাবরানি ২৭৩৬)
- কোরবানির পশুর রক্ত গোবর ও পশম ইত্যাদি নেকীর পাল্লায় ওজন করা হবে। আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
ضَحُّوا ، وَطَيِّبُوا بِهَا أَنْفُسَكُمْ ، فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ مُسْلِمٍ يُوَجِّهُ ضَحِيَّتَهُ إِلَى الْقِبْلَةِ إِلا كَانَ دَمُهَا ، وَفَرَثُهَا ، وَصَوْفُهَا ، حَسَنَاتٍ مُحْضَرَاتٍ فِي مِيزَانِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তোমরা কোরবানি কর এবং এক্ষেত্রে হৃদয়কে প্রশস্ত রাখ। কেননা, কোন মুসলিম কোরবানির পশুকে কিবলামুখী করে জবাই করলে কিয়ামতের দিনে তার রক্ত গোবর ও পশম ইত্যাদিসহ কিয়ামতের মাঠে হাজির করা হবে এবং নেকীর পাল্লায় ওজন করা হবে। *(মুসান্নাফ আব্দুররাজ্জাক ৮১৬৭)

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url