পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন সম্পর্কে - বিস্তারিত আলোচনা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু ্ আলাইকুম, আপনার পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন হলো তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার একটি অপরিহার্য উপায়। অর্থাৎ, বিড়ালের সুস্থ ভাবে দীর্ঘদিন বাঁচার জন্য তাকে যে টিকা দেয়া হয়ে থাকে সেটাকেই বিড়ালের ভ্যক্সিন বলে থাকে।

পোষা-বিড়ালের-ভ্যাকসিন-সম্পর্কে---বিস্তারিত-আলোচনা

তাই আজকে আমরা আলোচ্য আর্টিকেলটিতে পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো- ইন্শাল্লাহ্।

পেজ সূচিপত্রঃ পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন সম্পর্কে - বিস্তারিত আলোচনা

পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন সম্পর্কে - বিস্তারিত আলোচনা

বিড়ালের কিছু মারাত্মক রোগ আছে যা মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে। এর মধ্যে কিছুরোগ যেমন-rabies বা জলাতঙ্ক মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হলে মানুষ মারাও যেতে পারে। তাই পোষা বিড়াল এবং মানুষ উভয়ের সুরক্ষার জন্য ভ্যাকসিন প্রয়োজন।

বিড়ালের বয়স ২ থেকে ৩ মাস হলেই ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম। তবে ৪ মাস বয়সেও ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া যায়। প্রথম বার ভ্যাকসিন দেওয়ার ১ বছর (টিকাভেদে মেয়াদ কম বেশি হতে পারে) পর পর বুস্টার ডোজ দিতে হয়।

তাছাড়া, আপনার বিড়ালের বয়স যদি ৪ মাসের বেশি হয় তবে টিকা দেওয়া যাবে কিনা জানতে ভ্যাটেনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বিড়ালের সাধারণত দুই ধরনের ভ্যাকসিন দেয়া হয়ে থাকে যেমন- FVRCP ও Rabies এর টিকা।

আমরা আজকের এই আর্টিকেলটিতে পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন সম্পর্কে - বিস্তারিত আলোচনা করবো-

আরো পড়ুনঃ আপনার পোষ্য বিড়ালের সেরা ও সুন্দর সুন্দর নামের তালিকা

ভ্যাকসিন কি? এ সম্পর্কে জেনে নিন

আপনার আদরের পোষা বিড়ালের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। ভ্যাকসিন মানে হচ্ছে প্রতিষেধক যা বিড়ালের শরীরে এন্টিবডি তৈরি করে এবং রোগ-জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

তাছাড়া, আপনার সুরক্ষার জন্য ও বিড়ালের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার জন্য আপনার পোষা বিড়ালকে প্রতিবছর ভ্যাকসিন দেওয়া উচিৎ।

বাংলাদেশে বিড়ালের ভ্যাকসিনের নাম ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জানুন

বাংলাদেশে-বিড়ালের-ভ্যাকসিনের-নাম-ও-কার্যকারিতা

বাংলাদেশে বিড়ালের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করার জন্য অনেক ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে আমাদের দেশে ৩ টি ভ্যাকসিন বেশি দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন- 

  1. NOBIVAC® Feline 1-HCPCh
  2. RABISIN®
  3. QUADRICAT®

1. NOBIVAC® Feline 1-HCPC: Nobivac ভ্যাকসিন বিড়ালকে ৪টি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রাণনাশক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখে। এই ভ্যাকসিন বাংলাদেশে সহজলভ্য এবং বিড়ালের জন্য খুবই উপকারী। এই ভ্যাকসিন ৯ সপ্তাহ বয়স বা তার থেকে বেশি বয়সি বিড়াল কে দেয়া হয়। Nobivac® Feline 1-HCPCh সাধারণত প্রতি বছর একবার বুস্টার ডোজ হিসেবে দেওয়া হয়। এই ভ্যাকসিন যেসব রোগ প্রতিরোধ করে।

  • Feline Calicivirus (FCV) (cat flu /বিড়ালের জ্বর),
  • Feline Rhinotracheitis (নিউমোনিয়া এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা),
  • Feline panleukopenia (FPV).
  • Feline – Chlamydophila.

 2. RABISIN®: জলাতঙ্ক বিড়ালের একটি মারাত্মক এবং প্রানঘাতী সংক্রামক রোগ। Rabisin ভ্যাকসিন বিড়ালকে জলাতঙ্ক (rabies) রোগ থেকে রক্ষা করে। এটি ৩বছর, ১বছর, ৬মাস বিভিন্ন মেয়াদী হয়ে থাকে।

3. QUADRICAT®: Quadricat ভ্যাকসিন বিড়ালকে calicivirus , rhinotracheitis, panleukopenia এবং rabies থেকে রক্ষা করে। এই ভ্যাকসিনটি ৩ মাস বয়সে দেয়া যায়। Quadricat® সাধারণত প্রতি বছর একবার দেওয়া হয়।

কোথায় পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়? জেনে রাখুন

বিড়ালের ভ্যাকসিন সাধারণত পশু চিকিৎসকের কাছে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ পশু চিকিৎসকই ভ্যাকসিন দেন। আপনার পরিচিত কোন বিড়ালের মালিকের কাছে জিজ্ঞাসা করে আপনার নিকটস্থ চিকিৎসকের ঠিকানা খুঁজে পেতে পারেন।

আপনাদের সুবিধার জন্য কিছু VET হাসপাতালের নাম ও ঠিকানা নিচে উল্লেখ করা হলঃ 
  • MR Veterinary Clinic: ঠিকানা: 126/6 Patwari Goli Chowrasta, Dhaka 121
  • Dhaka Pet Clinic: ঠিকানা: 11/2 Abhay Das Lane, Tikatuli, Dhaka-1203 ১১, ২ Abhay Das Ln, Dhaka 1203
  • Pet Cure Point & Orthopaedics Center: ঠিকানা: 741, Block- A Comilla Hotel Mor, Dhaka 1219
  • Biswas Veterinary Clinic: ঠিকানা: TA – 131, 109 Gulshan Badda Link Rd, Dhaka 1212

বিড়ালের ভ্যাকসিনের একটি মূল্য তালিকা দেখে নিন

ক্রমিক নং ভ্যাকসিনের নাম মূল্যসমূহ
১. NOBIVAC ১০০০-১৫০০ টাকা
২. RABISIN ৩০০-৫০০ টাকা
৩. QUADRICAT ১০০০-১৫০০ টাকা

👉বিঃদ্রঃ এখানে মূল্য তালিকা শুধুমাত্র ধারনা দেয়ার জন্য। এটা VET to VET পরিবর্তন হতে পারে।

বিড়ালের ভ্যাকসিন কেন দেওয়া প্রয়োজন হয়? চলুন দেখি

আপনার পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যাতে বিড়ালগুলি মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পায়। এই রোগগুলির মধ্যে রয়েছে:
  • র‍্যাবিস: এটি একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা মানুষের মধ্যেও মারাত্মক হতে পারে।
  • ভ্যাক্সিনিয়া: এটি একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা ফোস্কা এবং চুলকানি সৃষ্টি করে।
  • প্যারাসিটোমোসিস: এটি একটি পরজীবী সংক্রমণ যা রক্তস্বল্পতা এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
  • হেপাটাইটিস: এটি একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
  • ক্লামাইডিয়া: এটি একটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ যা প্রজনন সমস্যার কারণ হতে পারে।
পোষা বিড়ালকে এই রোগগুলি থেকে রক্ষা করার জন্য, তাদের ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। ভ্যাকসিন দেওয়ার ফলে বিড়ালের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় যা তাদের সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

তাছাড়া,
  • বিড়ালের ভ্যাকসিনগুলি সাধারণত ইনজেকশন আকারে দেওয়া হয়।
  • বিড়ালের ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি সাধারণত হালকা এবং স্বল্পস্থায়ী হয়।
  • আপনার পোষা বিড়ালকে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে আপনার পশু চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন

বেশির ভাগ বিড়ালেরই কোন রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি সাধারণত হালকা এবং স্বল্পস্থায়ী হয়। যদি আপনার আদরের বিড়ালের মধ্যে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেন তবে আপনাকে কি করতে হবে তা জেনে রাখা ভালো।

👀 সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে,

  • জ্বর: আপনার বিড়ালটিকে কিছুটা দুর্বল বা ক্লান্ত দেখাতে পারে। জ্বর সাধারণত কয়েক ঘন্টা পরে চলে যায়।
  • বমি এবং ডায়রিয়া: আপনার বিড়ালটি কয়েক ঘন্টার জন্য কিছু খেতে নাও চাইতে পারে। যদি লক্ষণগুলি কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয় তবে আপনার পশু চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।
  • ইনজেকশন সাইটের প্রতিক্রিয়া: ইনজেকশন সাইটে ব্যথা, লালভাব এবং ফোলাভাব হতে পারে। এই প্রতিক্রিয়াগুলি সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে চলে যায়।

👀 আবার গুরুতর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেমন-

অ্যানাফিল্যাক্সিস: এটি একটি গুরুতর প্রতিক্রিয়া যা শ্বাসকষ্ট, শক এবং এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অ্যানাফিল্যাক্সিসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
  • ত্বকের ফোলাভাব, বিশেষ করে মুখ এবং গলায়
  • শ্বাসকষ্ট
  • বুকে ব্যথা
  • বমি এবং ডায়রিয়া
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন
  • মাথা ঘোরা

যদি আপনার পোষা বিড়ালের মধ্যে অ্যানাফিল্যাক্সিসের কোনও লক্ষণ দেখা যায় তবে অবিলম্বে আপনার পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন ও উত্তরঃ পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন সম্পর্কে - বিস্তারিত আলোচনা

প্রশ্নঃ বিড়ালের ফ্লু ভ্যাকসিনের নাম কি?
উত্তরঃ বিড়ালের ফ্লু বা শ্বাসতন্ত্রের সাধারণ রোগ প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও পরিচিত ভ্যাকসিন হলো Nobivac Feline 1-HCPCh এবং Biofel PCH

প্রশ্নঃ বিড়ালের ভ্যাকসিনের মেয়াদ কতদিন থাকে?
উত্তরঃ বিড়ালের সব টিকার মেয়াদ বা কার্যকারিতা সাধারণত ১ বছর থাকে। তবে টিকা দেওয়ার প্রাথমিক কোর্স শেষ হওয়ার পর প্রতি বছর নিয়মিত একটি করে বুস্টার ডোজ (booster dose) দিতে হয়।

প্রশ্নঃ বিড়ালের ভ্যাকসিন কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তরঃ বিড়ালের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন (যেমন: FVRCP ও Rabies) মূলত যেকোনো পশুচিকিৎসা কেন্দ্র (Veterinary Clinic) বা সরকারি প্রাণিসম্পদ অফিসে পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ ভ্যাকসিনের দেওয়ার পর বিড়াল কম বা না খাওয়া কি স্বাভাবিক?
উত্তরঃ ভ্যাকসিন দেওয়ার পর কিছু বিড়াল ২৪ ঘণ্টা কম খায়। যদি আপনার বিড়াল এক বা দুই দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া শুরু করে, তবে এটি সাধারণ বিষয়।

প্রশ্নঃ বিড়ালের বয়স কয় সপ্তাহ হলে প্রথম ভ্যাকসিন দিতে হয়?
উত্তরঃ আপনার বিড়ালের বয়স ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ (দেড় থেকে দুই মাস) হলে প্রথম টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করতে হয। বিড়ালের বাচ্চাকে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর কয়েকটি ধাপে টিকা দিতে হয়।

পোস্টের শেষ-কথাঃ পোষা বিড়ালের ভ্যাকসিন সম্পর্কে - বিস্তারিত আলোচনা

যারা আমরা বাসায় বিড়াল পোষে থাকি তাদের কাছে বিড়াল তাদের পরিবারের একজন খুদে সদস্য হয়ে যায়। তাই আপনার পোষা বিড়ালের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে নিয়মিত তাকে প্রতিবছর ভ্যাক্সিনেশন করানো অত্যন্ত জরুরী। প্রতিবছর ফ্লু হয়ে অসংখ্য বিড়াল মারা যায়।

আমাদের একটু অসচেতনতা যেন একটি প্রাণ কেড়ে না নেয় তাই আমাদের এই ব্যাপারে অনেক সতর্ক থাকা দরকার। চলুন, নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের পরিবারের খুদে সদস্যের যত্ন নেই। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url