ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, একসময় নারীরা ছিল সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত, উত্তরাধিকার বঞ্চিত, এমনকি কন্যা শিশুকে জীবিত কবর দেওয়া হতো। আর সেই যুগটা ছিল আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ।

ইসলামে-নারীর-মর্যাদা-কেমন-হওয়া-উচিত

আর আল্লাহর রাসূল, আমাদের প্রিয় নবী, শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ঐ সময় নারীদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান, মর্যাদা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাই আজকে আমরা ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত?’এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো, ইনশা-আল্লাহ।

পেজ সূচিপত্রঃ ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত?

ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত?

আইয়ামে জাহেলিয়াতের র্ববরতার যুগে নারীদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। ইয়াহুদী, খৃষ্টানরা নারীদের মর্যাদা দেয়নি। অমুসলিমরাও নারীদের মূল্যায়ন করেনি। বরং ইসলামই নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছে।

আইয়ামে জাহেলিয়াতের র্ববরতার যুগে নারীদের ব্যাপারে মূল্যায়ন করা হয়নি, এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ- يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ.

অর্থাৎ “তাদের কাউকেও যখন কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়, তার গ্লানী হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হ’তে আত্মগোপন করে; সে চিন্তা করে যে, হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দিবে, না মাটিতে পুঁতে দিবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে তা কতই না নিকৃষ্ট!” (নাহল ৫৮-৫৯)।

এক বর্ণনায় রয়েছে, কায়েস ইবনু আছিম বলেন, আমি জাহিলিয়াতের যুগে আমার ৮টি মেয়েকে জীবন্ত প্রোথিত করেছি। নবী করীম(সা.) বললেন, ‘তুমি প্রত্যেকটি মেয়ের বিনিময়ে একটি করে উট কুরবানী কর’ (ত্বাবারানী, ইবনু কাছীর হা/৭১৭২)।

ইবনু মাস‘ঊদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন, ‘যাকে জীবন্ত দাফন করা হয়েছে এবং যে দাফন করেছে উভয়েই জাহান্নামী’ (ত্বাবারানী, ইবনু কাছীর হা/৭১৬৮)।

আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দু’টি কন্যার লালন-পালন করবে তাদের পূর্ণ বয়স্কা হওয়া পর্যন্ত, ক্বিয়ামতের দিন সে আমার সাথে এভাবে আসবে। এ বলে তিনি নিজের আঙ্গুলিসমূহ একত্রিত করে দেখালেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫০)।

ওকবা ইবনু আমের (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যার তিনটি কন্যা সন্তান থাকবে সে যদি তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করে এবং নিজের সামর্থ্যানুযায়ী তাদের খাদ্য প্রদান করে, পান করার ব্যবস্থা করে এবং তাদের পোশাক পরিধান করায়, তাহলে তারা ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম হতে অন্তরাল হবে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৬৬৯, ছহীহাহ হা/২৯৪)।

নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.) এর ভূমিকা কি ছিল?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় কন্যা সন্তানদের প্রতি অসীম দয়া, মায়া মমতা ও ভালবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি কন্যা সন্তানের মর্যাদা অনেক উঁচুতে রেখে বলেন,

‘‘যে কন্যা সন্তানকে লালন-পালন করবে এবং তার প্রতি দয়া করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন।” (মুসলিম)

নারীর-মর্যাদা-প্রতিষ্ঠায়-মহানবী-(সা.)-এর-ভূমিকা

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নারীকে সম্মানজনক স্থানে প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়েছেন যে, নারী মা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে এবং সমাজের সদস্য হিসেবে অমূল্য, অতুলনীয়।

তিনি পুরুষদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন-

“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে।” (তিরমিজি)

তাছাড়া নবীয়ে করীম (সা.) নারীদেরকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, সম্পদ ব্যবহারের অধিকার এবং সমাজে সম্মানজনক ভূমিকা দেন। পাশাপাশি নারীদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। যেমন- সাহাবিয়ারা ইলম অর্জন, হাদিস বর্ণনা, যুদ্ধক্ষেত্রে সেবা—সর্বক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

সুতরাং আমরা নিঃসন্দেহে চক্ষু বন্ধ করে বলতে পারি, আমাদের প্রিয় নবী প্রাণের নবী আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামে নারীর মর্যাদা, সম্মান, ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা শুধুমাত্র ইসলামের ইতিহাসে নয় বরং মানবতার ইতিহাসেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

ইসলামে নারীর মর্যাদা নিয়ে উক্তিসমূহ জানুন

ইসলামে নারীর মর্যাদা নিয়ে মহান ব্যক্তিদের মহান কিছু উক্তি আলোচনা করা হলো-

  • নারী ছাড়া পৃথিবী কখনই সুন্দর হয় না! নারী আছে বলেই পৃথিবী এতো সুন্দর।
  • যে নারী অর্থ নয় সম্মান চায়, উপহার নয় সময় চায়, সেই নারী আমার হোক!
  • পুরুষকে সবচেয়ে বেশী মানসিক শান্তি যদি কেউ দিতে পারে, সে হচ্ছে তার শখের নারী।
  • নারীকে যেটাই দেবেন সেটাই দ্বিগুণ ফিরে পাবেন। হোক সেটা ভালোবাসা কিংবা অবহেলা!
  • নারীকে হয় সবটা দিয়ে ভালোবাসুন, নয়তো ছেড়ে দিন! কারণ নারীর অল্প ভালোবাসা সহ্য হয় না। 
  • নারীকে সন্দেহ নয়, যত্ন করুন! কারণ নারী সন্দেহে পাল্টে যায়, আর যত্নে আটকে যায়।
  • বোরকা পরা নারী যদি হয় কালো, তাও সে বেপর্দা নারীর চেয়ে হাজার গুণ ভালো!
  • তুমি যদি নারী হও তবে মনে রেখো, তুমি কারো ছায়া নয়! তুমি নিজেই এক দীপ্ত সূর্য।
  • একজন পুরুষ যতই উন্নতি করুক না কেনো, নারী ছাড়া সে অসম্পূর্ণ।
  • নারী শুধু সম্পর্কের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ নন! বরং সমাজ এবং সভ্যতার ভিত গড়ার নেপথ্যের মূল শক্তি। 
  • আপনি তখনই সম্মান পাবেন, যখন আপনি একজন নারীকে সম্মান করবেন!
  • নারী বরাবরই সরলতার মায়াবী প্রতিচ্ছবি।

সন্তানরূপে নারীর মর্যাদা কেমন

নবীজী (সা.) বলেছেন, “মেয়ে শিশু বরকত (প্রাচুর্য) ও কল্যাণের প্রতীক। হাদীসে এসেছে, যার তিনটি বা দুটি বা একটি কন্যা সন্তান থাকবে, আর সে ব্যক্তি যদি তার কন্যাসন্তানকে সুশিক্ষিত ও সুপাত্রস্থ করে, তার জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়।”

এবং হাদীসে এসেছে :

مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ، وَأَطْعَمَهُنَّ، وَسَقَاهُنَّ، وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ، كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

‘তোমাদের কারও যদি তিনটি কন্যাসন্তান থাকে এবং তাদের ব্যাপারে সে ধৈর্য ধরে, তাদেরকে খাওয়ায়, পান করায় এবং তাদের আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করে তবে এ কন্যাসন্তানেরা তার জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে।’ (নাসায়ী)।

অন্য এক হাদীসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

مَنْ كَانَتْ لَهُ ثَلاثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَى لأْوَائِهِنَّ، وَعَلَى ضَرَّائِهِنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ، زَادَ فِي رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ: فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَاثْنَتَيْنِ ؟ قَالَ: وَاثْنَتَيْنِ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَوَاحِدَةً؟ قَالَ: وَوَاحِدَةً

‘যার তিনটি কন্যাসন্তান থাকবে এবং সে তাদের কষ্ট-যাতনায় ধৈর্য ধরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুসের বর্ণনায় এ হাদীসে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে এসেছে) একব্যক্তি প্রশ্ন করে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! যদি দুজন হয়? উত্তরে তিনি বললেন, ‘দুজন হলেও’। লোকটি আবার প্রশ্ন করে বলল, ‘যদি একজন হয় হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ‘একজন হলেও (বাইহাকী: শুআবুল ঈমান, সহীহ)।

ইসলামে স্ত্রীর রূপে নারীর মর্যাদা

আল কোরআনে বলা হয়েছে, 'আর তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে বসবাস করো সদাচারের সঙ্গে। আর যদি তোমরা কোনো কারণে তাদের অপছন্দ করো, তাহলে হয়তো তোমরা এমন একটি বস্তুকে অপছন্দ করলে, যাতে আল্লাহ তায়ালা প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন (সুরা নিসা : ১৯)।

এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে অপছন্দ না করে' (সহিহ মুসলিম : হাদিস : ১৪৬৯, সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১৯৭৯)।

যে তার স্ত্রীর সাথে প্রাণপূর্ণ, প্রেম ভরা কোমল আচরণে অভ্যস্ত, স্ত্রীর কোনো ভুল-ত্রুটি হলে রেগে আগুন হয়ে যায় না, বরং মমতার শীতল পরশ তাকে ধৈর্যধারণ করতে বাধ্য করে এবং যে স্ত্রীর প্রতি সদয় আচরণ করে ও স্ত্রীর দীনদারীতে সহায়তা দেয় তাকে উত্তম স্বামী বলে অভিহিত করা হয়েছে।

স্ত্রীর রূপে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে ইসলাম বলেছে-

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

‘তোমাদের মধ্যে সে সর্বোত্তম যে (সদাচারের জন্য) তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীর কাছে উত্তম’ (তিরমিযী, সহীহ)।

স্ত্রীর ভালো গুণগুলোর দিকে লক্ষ করে আল্লাহর শোকর আদায় করে এবং তার প্রশংসা করে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্বামীর জন্য রাসুল (সা.)-এর জীবনই উত্তম আদর্শ। রাসুল (সা.) যখন ঘরে যেতেন, স্ত্রীদের সঙ্গে ঘরের কাজে তিনি শরিক হতেন। তাঁদের সঙ্গে সদাচার করতেন। স্ত্রীদের সঙ্গে খোশগল্প করতেন।

আরো পড়ুনঃ আসমানী কিতাবের পরিচয় - বিস্তারিত আলোচনা

ইসলামে মায়ের রূপে নারীদের মর্যাদা

ইসলাম নারীদের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছে মা হিসেবে। নবীজি (স) বলেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। বুখারীর বর্ণনায় এসেছে, নবীজী (সা.) মায়ের খেদমতের কথা তিন বার বলেছেন এবং পিতার কথা বলেছেন একবার।

মায়ের খেদমত করেই হযরত ওয়াইস করনি (রা) নবীজি (স) এর কাছে না এসেও জুব্বা মুবারক পেয়েছেন এবং নবীজী উমর (রা) কে বলেছেন হে উমর! ওয়াইস করণির কাছ থেকে তুমি দোয়া নিয়ো।

মহানবী (সা.) নিজে মায়ের মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং উম্মতে মোহাম্মদী (সা.) কে মায়ের মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে বলিষ্ট ভূমিকা পালনের জন্য আদেশ দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে বুখারী এবং মুসলিম শরীফে এভাবে বর্ণিত আছে,

“এক ব্যক্তি নবীজি (সা.) কে জিজ্ঞেস করলেন মানুষদের মধ্যে আমার পক্ষ থেকে ভালো সাহচর্যের যোগ্য কে? নবীজি (সা.) বলেন তোমার মা, ব্যক্তিটি বলল তারপরে কে? নবী (সা.) বললেন এরপরও তোমার মা, ব্যক্তিটি আবার জিজ্ঞেস করল এরপর কে, নবী (সা.) বললেন এরপরও তোমার মা, ব্যক্তিটি বলল তারপরে কে, নবী (সা.) বললেন এরপর তোমার পিতা”।

অন্যদিকে মায়ের মনে কষ্ট দিলে, তার অবাধ্য হলে, সে যতবড় ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হউক না কেন তার বেহেশত লাভ করা কঠিন। এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফে নবীজি (সা.) উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে,

 “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মা’দের সাথে সর্ম্পক ছিন্ন করা, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, তাদের হক নষ্ট করাকে চিরদিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন”।

ইসলামে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত

ইসলামে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে আল-কুরআনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-

  • إنهم غطائك وأنت غطائهم.

অর্থাৎ "তারা তোমাদের আবরণস্বরূপ আর তোমরা তাদের আবরণ।" (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৭)

  • يا أيها الناس إنّا خلقناكم من ذكر وأنثى.

অর্থাৎ “হে মানব জাতি, নিশ্চয় আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি পুরুষ ও নারী থেকে।" (সূরা হুজুরাত, আয়াত-১৩)

  • من عمل صالحاً من ذكر أو أنثى وهو مؤمن فلنحيينه حياة طيبة

অর্থাৎ "যে সৎকর্ম করবে, পুরুষ হোক বা নারী, মুমিন অবস্থায়, তাকে অবশ্যই উত্তম জীবন দান করব..." (সূরা আন-নাহল, আয়াত-৯৭)

  • يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا ۖ وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا

অর্থাৎ “হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।” (সূরা নিসা: ১৯)

ইসলামে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে হাদিস জেনে নিন

ইসলামে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে হাদিস সমূহ:

  • রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি তোমাদের নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিচ্ছি।” (বুখারি ও সহীহ মুসলিম)
  • নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে তাদের প্রতি ধৈর্য ধরে ও তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।" (সুনানে তিরমিযী)

  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ না রাখে। যদি তার কোনো স্বভাব অপছন্দ হয়, তবে অন্য একটি স্বভাব তার ভালো লাগবে।" (সহীহ মুসলিম)
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর প্রতি সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করে।" (সুনানে তিরমিযী)
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা নারীদের সম্মান করো।" (সহীহ মুসলিম)
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "যার অধীনে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে, এবং সে তাদের প্রতি কোনো অন্যায়-অবিচার করে না, তাদের প্রতি কোনোপ্রকার বৈষম্য করে না, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, তাহলে সেই কন্যাগুলো তাকে অবশ্যই জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে।" (সহীহ মুসলিম)

কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত বিখ্যাত নারীগণের নামসমূহ

পবিত্র কুরআন ও হাদীসে অনেক বিখ্যাত নারীর উল্লেখ আছে, তাঁরা নিজ নিজ অবস্থানে সেরা ছিলেন। যেমন :

  • বিশ্ব মানব জাতির মা হাওয়া (আ)
  • আদম কন্যা আকলিমা
  • হযরত ইব্রাহীম (আ) এর পত্নী সারা
  • ইসমাইল (আ) এর মাতা হাজারা
  • মিশর পতির স্ত্রী জুলায়খা
  • ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া
  • আইয়ুব (আ) এর স্ত্রী বিবি রহিমা
  • ঈসা (আ) এর মাতা বিবি মরিয়াম
  • নূর নবীজির মাতা আমেনা ও দুধমাতা হালিমা সাদিয়া
  • উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা) হাফসা
  • আয়িশা, মারিয়া (রা) সহ নবী পত্নগণ
  • নবী নন্দিনী রুকাইয়া
  • জয়নব
  • কুলসুম ও ফাতিমা (রা)
  • আবু বকরের কণ্যা আসমা
  • ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়া (রা) সহ আরোও অনেকজন।

প্রশ্ন ও উত্তরঃ ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত?

প্রশ্নঃ ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে সম্মানিত নারী কারা?

উত্তরঃ ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে সম্মানিত নারী চারজন। যার মধ্যে রয়েছেন: যীশুর মা মরিয়ম; মুহাম্মদের (সা.) স্ত্রী খাদিজা; এবং মুহাম্মদের (সা.) কন্যা ফাতিমা। আর ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়াহ পৃথিবীর চারজন শ্রেষ্ঠ নারীর একজন এবং চারজন "স্বর্গের নারীর" একজন হিসেবে সদ্গুণের আদর্শকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

প্রশ্নঃ ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর নারী কে?

উত্তরঃ ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর নারী হচ্ছেন, জুওয়াইরিয়া। সে সময়ের অন্যতম সম্ভ্রান্ত পরিবারে লালিত-পালিত হয়ে তিনি কেবল সুন্দরীই ছিলেন না বরং ছিলেন লাবণ্যময়, মার্জিত এবং বাগ্মী।জুওয়াইরিয়া "পরীর মতো সুন্দর" ছিলেন।

প্রশ্নঃ ইসলামের সবচেয়ে বরকতময় নারী কাকে বলা হয়?

উত্তরঃ ইমরানের কন্যা মরিয়মকে ইসলামের সবচেয়ে বরকতময় নারী কাকে বলা হয়। পবিত্র কুরআনে সত্তরবার তাঁর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং স্পষ্টভাবে তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ছিলেন ইসলামে এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

পোস্টের শেষ-কথাঃ ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত?

‘ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত?’ শিরোনামের আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা জানতে পারলাম যে, রাসূল সা.-এর হাদিস এবং কোরআনের বাণীগুলোতে নারীর মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করার প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামে নারীর মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এখন মুসলিম সমাজে নারীদের সম্মানে চোখে দেখা হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url