ইসলামে পুরুষদের সোনার ব্যবহার হালাল না হারাম - আলোচনা করা যাক
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, সোনা মানুষের কাছে সৌন্দর্য, সম্পদ ও মর্যাদার প্রতীক। ইসলাম ধর্মে নারীদের জন্য সোনার গহনা অনুমোদিত হলেও, পুরুষদের জন্য সোনা পরা বা ব্যবহার স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবং আমাদের প্রিয় মহানবী (সা.) বলেন, “সোনা ও রেশম আমার উম্মতের মহিলাদের জন্য হালাল এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে।” তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হাদিস নং- ৪৩৪১।
তাই আজকে আমরা এই আর্টিকেলটিতে, ইসলামে পুরুষদের সোনার ব্যবহার হালাল না হারাম - এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্ঠা করবো ইন্শাল্লাহ।
পেজ সূচিপত্রঃ ইসলামে পুরুষদের সোনার ব্যবহার হালাল না হারাম - আলোচনা করা যাক
- ইসলামে পুরুষদের সোনার ব্যবহার হালাল না হারাম - আলোচনা করা যাক
- পুরুষদের জন্য কতটুকু সোনা ব্যবহার করা হালাল বা জায়েজ - জেনে নিন
- পোস্টের শেষ-কথা
ইসলামে পুরুষদের সোনার ব্যবহার হালাল না হারাম - আলোচনা করা যাক
যদিও পবিত্র কোরআনে সরাসরি পুরুষদের সোনা পরা বা ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে এতে সাজসজ্জার সীমা ও শালীনতার নীতি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “বল, কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র জীবনোপকরণ।” সূরা আ‘রাফ, আয়াত: ৩২
অতঃপর নবী করিম (সা.) চলে গেলে লোকটিকে বলা হল, ‘’তোমার আংটিটা কুড়িয়ে নিয়ে অন্য কাজে লাগাও। (অথবা তা বিক্রয় করে মূল্যটা কাজে লাগাও।) কিন্তু লোকটি বলল, “আল্লাহ্র কসম! আমি আর কক্ষনো তা গ্রহণ করব না, যা আল্লাহ্র রাসুল (সা.) ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন।” মুসলিম হাদিস নং- ২০৯০
ইসলাম হচ্ছে মানব সমাজে শালীনতা, পরিমিতি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ধর্ম। এটি শুধু ইবাদত নয়, বরং জীবনযাত্রার নান্দনিক ও নৈতিক দিকগুলোও নির্ধারণ করে। পুরুষ ও নারীর পোশাক, আচরণ, অলঙ্কার - সব ক্ষেত্রেই ইসলাম একটি স্পষ্ট পার্থক্য রেখেছে।
এর অন্যতম উদাহরণ হলো পুরুষের জন্য সোনা পরিধান ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ। এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশাসন নয়; বরং এটি সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রজ্ঞায় ভরপুর এক বিধান।
আরো পড়ুনঃ কোরআন ও হাদিসের আলোাকে- মেয়েদের সোনা ও রূপার যাকাতের পরিমাণ
পুরুষদের জন্য কতটুকু সোনা ব্যবহার করা হালাল বা জায়েজ - জেনে নিন
তিনি আরো বলেন, ‘যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা.) কে বিশ্বাস করে, সে সোনা এবং রেশম ব্যবহার করবে না’ ছহীহাহ হাদিস নং- ৩৩৭; ছহীহুল জামে‘ হাদিস নং- ৬৫০৯।
তাছাড়া ২ আনা ব্যবহার করতে পারবে যেন কোথাও মারা গেলে সেটা বিক্রি করে কাফনের কাপড় কিনতে পারে এই মর্মে কোন দলীল বা প্রমাণ নেই। অনুরূপভাবে সোনার পাত্র বা সোনার দ্বারা তৈরি কোন আসবাবপত্র যেমন- কলম, থালা ইত্যাদি মুসলিম নারী-পুরুষ সকলের জন্য হারাম। বুখারী হাদিস নং- ৫৪২৬; মুসলিম হাদিস নং- ২০৬৭; মিশকাত হাদিস নং- ৪২৭২।
👉ব্যতিক্রমভাবে - বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য সোনার নাক বা দাঁত বাঁধার অনুমতি রয়েছে ইসলামে। বর্ণিত আছে, সাহাবি আরফাজার নাক কাটা গেলে- রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সোনার নাক বানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুসনাদে আহমদ হাদিস নং- ১৮৫২৭।
প্রাকৃতিক দাঁত বা নাক কোনো কারণে ভেঙে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কৃত্রিম দাঁত ও নাক লাগানো যেতে পারে। এ ব্যাপারে শরিয়তের কোনো বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক দাঁত ফেলে দিয়ে কৃত্রিম দাঁত লাগানো ইসলাম সমর্থন করে না। তবে কারও দাঁত যদি অস্বাভাবিক রকম বাঁকা হয়, তাহলে তা সোজা করা বা তুলে ফেলে কৃত্রিম দাঁত লাগানো বৈধ।
আরো পড়ুনঃ পুরাতন সোনা বিক্রিতে দাম কমে কেন এবং বিক্রি করার নিয়ম
পোস্টের শেষ-কথাঃ
পরিশেষে, আমরা বলতে পারি যে, পুরুষদের জন্য সোনার ব্যবহার ইসলামের দৃষ্টিতে অর্থাৎ কুরআন ও হাদিসের আলোকে একেবারে নিষিদ্ধ। তাই একজন মুসলমান হিসেবে সোনার যে কোন ব্যবহার পুরুষের জন্য না করায় উত্তম।


গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url