আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, আমরা জানি - পার্সিয়ান বিড়াল তাদের লম্বা লোম, শান্ত স্বভাব আর সুন্দর চেহারার জন্য অনেকের কাছে প্রিয় পেট। তবে এই জাতের পোষা বিড়ালকে সুস্থ ও পরিষ্কার রাখতে হলে সাধারণ বিড়ালের তুলনায় একটু বেশি যত্ন দরকার হয়।

আপনার-পোষা-পার্সিয়ান-বিড়ালের-যত্ন-নেওয়ার-সহজ-নিয়ম

তাই আজকে আমাদের এই আর্টিকেলের আলোচনার বিষয় হলো, ‘আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম’

পেজ সূচিপত্রঃ আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম

আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম

বিশেষ এই প্রজাতির বিড়ালটি কিন্তু আর পাঁচটা সাধারণ প্রজাতির দেশি বিড়াল থেকে আলাদা। নাম শুনে আন্দাজ করাই যায় যে পারস্য দেশে এই প্রজাতির জন্ম। তবে এ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন, পশমের মতো লম্বা লোমযুক্ত বিড়ালের এই প্রজাতিটিকে ১৯ শতকে আফগানিস্তান এবং ইরান (সেই সময়ে পারস্য বা পার্সিয়া) থেকে আমদানি করা হয়েছিল।

মন মুগ্ধ করা ঘন লোম, শান্ত স্বভাব আর রাজকীয় চেহারার কারণে পার্সিয়ান বিড়াল এখন অনেকের পছন্দের পোষ্য। তবে তাদের এই সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত ও বিশেষ পরিচর্যা। সাধারণ বিড়ালের চেয়ে এদের যত্ন একটু বেশিই নিতে হয়। সঠিক যত্ন না নিলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পার্সিয়ান বিড়ালের কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। এদের মুখের গঠন ফ্ল্যাট হওয়ায় চোখ থেকে জল পড়া এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে। পার্সিয়ান বিড়ালের মধ্যে জিনগত কারণে পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ দেখা যেতে পারে।

বিড়ালকে বছরে অন্তত দুবার পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন দেওয়া এবং কৃমির ঔষধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুনঃ পুরুষ বিড়ালের নাম বাংলা আপনার বিড়ালের জন্য সেরা নামের তালিকা

পার্সিয়ান বিড়াল পোষার আগে যা জানা খুবই জরুরি

স্বভাবতই বিড়াল মিষ্টি এবং বন্ধুসুলভ প্রাণী। সামান্য যত্ন, আদর এবং খাবার দিলেই তারা সহজেই মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। বিশেষ করে পার্সিয়ান বিড়াল- যা মূলত মধ্য প্রাচ্য থেকে এসেছে এবং বাংলাদেশে পোষ্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আমাদের দেশে শহরে বসবাসকারী অনেক মানুষ পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়াল পালন করেন। বর্তমানে এটি পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় গৃহপালিত প্রাণী। বিড়াল স্বভাবতই আরামপ্রিয় ও শান্ত স্বভাবের প্রাণী।

বিড়াল যদি মেঝেতে খুব গড়াগড়ি খায় তখন আপনাকে বুঝতে হবে সে এই মুহূর্তে কিছুটা সময় চাচ্ছে এবং খেলতে চাচ্ছে। অনেক বিড়াল তার মনিবের বাইরে যাবার সময় এমনটি করে থাকে যাতে তাকেও সাথে নেয়া হয়। এটা দৃষ্টি আকর্ষণ করার এক সুন্দর পদ্ধতি।

পার্সিয়ান বিড়াল পোষতে যা যা জানা জরুরি-

  • দাম: পার্সিয়ান বিড়ালের দাম প্রজাতি ও গুণমানের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
  • প্রজাতি: বাজারে প্রধানত চারটি প্রজাতির পার্সিয়ান বিড়াল পাওয়া যায় - ‘ডল ফেস’, ‘পেকে-ফেস’, ‘এক্সটিক শর্টহেয়ার’ এবং ‘টিকাপ’। এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে ‘ডল ফেস’ বা পুতুলের মতো মুখবিশিষ্ট পার্সিয়ান বিড়ালের জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ।
  • গোসল: মাসে একবার গোসল করানো যথেষ্ট। লম্বা লোমের কারণে তাদের বিশেষ শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করে লোমের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
  • খাদ্য: এদের মাছ খেতে পছন্দ হলেও কাঁটা থাকা উচিত নয়। টুনা বা স্যামনের মতো সামুদ্রিক মাছ ভালোবাসে। এছাড়া হাড় ছাড়া সেদ্ধ মুরগিও খেতে দিতে পারেন।
  • চিকিৎসা: পার্সিয়ান বিড়ালের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো চোখ ও নাকের সমস্যা। অনেকসময় চোখ দিয়ে জল পড়ে বা নাক বন্ধ থাকে। কিছু প্রজাতি সহজে ঠান্ডা বা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়। তাই বছরে অন্তত দু’বার পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি।

পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের লোম ও শরীর পরিচর্যার সহজ নিয়ম জানুন

আমরা দেখতে পাই যে, পার্সিয়ান বিড়ালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো তাদের লম্বা ও ঘন লোম। কিন্তু এই লোমের কারণে তাদের নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। প্রতিদিন বিড়ালের লোম ব্রাশ করা উচিত। এতে লোম জট লেগে যাবে না এবং অতিরিক্ত লোম ঝরে যাওয়া কমে আসবে। এই প্রজাতির বিড়ালকে মাসে একবার গোসল করানো যথেষ্ট।
পোষা-পার্সিয়ান-বিড়ালের-লোম-ও-শরীর-পরিচর্যার-সহজ-নিয়ম-জানুন

তবে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে, বিড়ালের কানে যেন কোনোভাবেই পানি না ঢুকে। গোসলের সময় অবশ্যই বিড়ালের জন্য তৈরি বিশেষ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। মানুষের শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না। গোসলের পর ভালোভাবে মুছে বা হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে লোম শুকিয়ে দিতে হবে।

নিয়মিত চোখ ও নাক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নখ কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি গভিরভাবে কাটা না হয়। এতে বিড়ালের ক্ষতি হতে পারে। অনেক সময় বিড়ালের লোমে উকুনের সমস্যা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে বিড়ালের বয়স ৬ মাসের কম হলে উকুনাশক চিরুনী ব্যবহার করতে হবে।

আর বিড়ালের বয়স ৬ মাসের অধিক হলে নির্দেশনা অনুযায়ী উকুননাশক স্প্রে বা শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে।

পার্সিয়ান বিড়ালের খাদ্যাভ্যাসের দিকে খেয়াল রাখা কতটা জরুরি তা জেনে নিন

আমাদের পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। এরা মূলত মাংসাশী প্রাণী, তাই তাদের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকা উচিত। ৪ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধই তাদের প্রধান খাদ্য।
পার্সিয়ান-বিড়ালের-খাদ্যাভ্যাসের-দিকে-খেয়াল-রাখা-কতটা-জরুরি-তা-জেনে-নিন

যদি মা না থাকে, তবে কিটেন ফর্মুলা বা গরুর দুধের সাথে পানি মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। ১২ সপ্তাহের পর থেকে আস্তে আস্তে সেদ্ধ মাছ, মাংস ও কিটেন ফুড দেওয়া শুরু করা যায়।

প্রাপ্তবয়স্ক পার্সিয়ান বিড়ালকে সেদ্ধ কাঁটাবিহীন মাছ, মাংস, ডিমের কুসুম, মিষ্টিকুমড়া, গাজরের পাশাপাশি ভালো মানের ক্যাট ফুড দেওয়া যেতে পারে। তবে তেল, মসলা বা লবণযুক্ত খাবার ও কাঁচা মাছ-মাংস বিড়ালকে দেওয়া যাবে না।

পার্সিয়ান বিড়ালের হজমশক্তি তুলনামূলকভাবে সেনসিটিভ হয়। তাই খাবার বাছাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-

  • উচ্চ মানের প্রোটিন
  • ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬
  • হজমে সহজ ফর্মুলা
  • ত্বক ও লোমের জন্য উপকারী উপাদান
  • শুকনা খাবার দাঁতের জন্য ভালো
  • ভেজা খাবার শরীরে পানির ঘাটতি কমায়
শুকনো আর ভেজা দুটোই মিলিয়ে দিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, অতিরিক্ত ভাত বিড়ালের কৃমির কারণ হতে পারে। প্রয়োজনে টাটকা ঘাস রাখা যেতে পারে। এতে বিড়ালের হজমে সুবিধা হয়।

আরো পড়ুনঃ আপনার পোষ্য বিড়ালের সেরা ও সুন্দর সুন্দর নামের তালিকা

পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের গ্রুমিং সম্পর্কে জানুন

পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যত্ন হলো নিয়মিত গ্রুমিং। বিড়ালের গ্রুমিং- এর সবচেয়ে ভালো সময় হতে পারে ওর খাবারের পর, কারন ওইসময় ওদের মুড ভালো থাকে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। ওদের গ্রুমিং সময় নিয়ে এবং ধৈর্য্যসহকারে করতে হয়। তাই যেদিন আপনি অনেক বেশি ক্লান্ত থাকেবন, সেদিন গ্রুমিং না করাই ভালো।

পোষা-পার্সিয়ান-বিড়ালের-গ্রুমিং

গ্রুমিং পদ্ধতিঃ

👉 আঁচড়ানো: আপনার বিড়ালের লোম যদি হয় ছোট ছোট, তাহলে যেভাবে আঁচড়ে দিবেন –

  • প্রথমে একটি metal চিরুনি দিয়ে বিড়ালের মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত আঁচড়ে দিতে হবে।
  • তারপর rubber চিরুনি দিয়ে আলগা লোমগুলো আঁচড়ে পরিস্কার করতে হবে।
  • বিড়ালের বুক এবং পেটের দিকে আঁচড়ানোর সময় একটু সাবধানে আঁচড়ে দিতে হবে।

অপরদিকে, আপনার বিড়ালের লোম যদি হয় বড় বড়, তাহলে যেভাবে আঁচড়ে দিবেন –
  • প্রথমে বিড়ালের পেট এবং পায়ের অংশ আঁচড়ে দিতে হবে। কোন জট থাকলে ধীরে ধীরে সেটা ছাড়িয়ে দিতে হবে।
  • তারপর নিচের দিক থেকে উপরের দিকে rubber এর চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে দিতে হবে।
  • বিড়ালের লেজ আঁচড়ে দেয়ার সময় লেজের ঠিক মাঝ বরাবর ভাগ করে দুই দিকে আঁচড়ে দিতে হবে।
👉 গোসল করানো:
  • প্রথমে লোমগুলো আঁচড়ে দিতে হবে যেন কোথাও গিঁট বেঁধে না থাকে।
  • যেখানে গোসল করাবেন সেখানে নিচে একটি রাবার প্যাড দিয়ে নিতে হবে। রাবার প্যাড এ ওদের পা পিছলে যাবেনা। সেক্ষেত্রে আপনার বিড়াল অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। রাবার প্যাড না থাকলে একটি মোটা চটের টুকরা দিয়ে নিতে পারেন।
  • এরপর যে tub বা গামলা তে গোসল করাবেন, সেখানে ৪-৫ ইঞ্চি উঁচু করে কুসুম গরম পানি নিবেন।
  • বিড়ালকে পানিতে বসিয়ে ছোট মগ দিয়ে আস্তে আস্তে পানি ঢালবেন শরীরে। সবচেয়ে ভালো হয় হ্যান্ড ওয়াশার দিয়ে পানি দিলে। তাহলে নিয়ন্ত্রন রাখতে সুবিধা হয়। খেয়াল রাখবেন যেন কানে, নাকে বা চোখে পানি না ঢুকে যায়।
  • এরপর শ্যাম্পু নিয়ে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত পুরো শরীরে মেসেজ করে লাগিয়ে দিন।
  • তারপর ধুয়ে দিন যেন কোন ফেনা না থাকে। ফেনা থাকলে পরবর্তীতে ওদের শরীর চুলকায় এবং অস্বস্তি বোধ করে।
  • সবশেষে একটি শুকনো তয়লা দিয়ে মুছে দিন। শীতের দিনে বিড়ালকে গোসল না করানোই ভালো। তারপরও করাতে হলে সাথে সাথে Hair Dryer দিয়ে শুকিয়ে দিতে হবে।
👉 নখ কাটা:

বিড়ালের নখ কাঁটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমাসে অন্তত একবার নখ কাটতে হবে কারন বেশি বড় হয়ে নখ বেঁকে যায় এবং বিড়াল হাটার সময় ব্যথা পায়। নখ বড় হলে রোগজীবাণু আঁটকে থাকে। কিন্তু খুব সাবধানে নখ কাটতে হবে কারন বেশি পরিমানে কাটলে রক্তক্ষরণ হয় তাই অভিজ্ঞ মানুষ দিয়ে নখ trimming করতে হবে অথবা nail clipper কিনে তা দিয়ে কাটতে হবে।
বাসায় নখ কাটলে যা যা মনে রাখতে হবে –
  • অবশ্যই ধারালো Nail Clipper ব্যাবহার করতে হবে।
  • নখ যেখান থেকে বাঁকানো শুরু করে সেখান থেকে কাটতে হবে। নখের ভেতরে গোলাপি রঙের একটি জায়গা দেখা যায়। নখ কাটার সময় অবশ্যই ওই অংশের পর থেকে কাটতে হবে, নতুবা রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।
👉 লোম কাটা: বিড়ালের লোম কেটে রাখলে শরীর পোকা মুক্ত এবং শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। কিছু বিড়ালের লোম খুব দ্রুত বড় হয়। এদেরকে অবশ্যই নিয়মিত লোম ছোট করে রাখতে হয়, না হলে তাদের চলাচলেও সমস্যা হয়।

পার্সিয়ান বিড়ালের দৈনন্দিন যত্ন ও লাইফস্টাইল সম্পর্কে জানুন

👉 লিটার বক্স:
  • প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।
  • গন্ধহীন ও লো-ডাস্ট লিটার ব্যবহার ভালো।
  • বাতাস চলাচল আছে এমন জায়গায় রাখুন।

👉 থাকার পরিবেশ:

  • খুব গরম বা খুব ঠান্ডা নয়।
  • পরিষ্কার ও শান্ত পরিবেশ পার্সিয়ান বিড়ালের জন্য আদর্শ।

👉 খেলাধুলা:

পার্সিয়ান বিড়াল খুব বেশি দৌড়াদৌড়ি পছন্দ করে না, তবুও

  • প্রতিদিন অল্প সময় খেলানো দরকার।
  • এতে ওজন ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে কিছু কথা

পার্সিয়ান বিড়ালের কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে যেমন-
  • এদের মুখের গঠন ফ্ল্যাট হওয়ায় চোখ থেকে জল পড়া
  • শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।
  • পার্সিয়ান বিড়ালের মধ্যে জিনগত কারণে পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ দেখা যেতে পারে।
  • হেয়ারবল হতে পারে।
সমাধানে যা যা করতে হবে-
  • বিড়ালকে বছরে অন্তত দুবার পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
  • সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন দেওয়া এবং কৃমির ঔষধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ও উত্তরঃ আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম

প্রশ্নঃ পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়া কি খুব কঠিন কাজ?
উত্তরঃ না,পার্সিয়ান বিড়াল সাধারণত শান্ত ও স্নেহপ্রবণ হয়। তাই যারা প্রথমবারের মতো বিড়াল পোষছেন এবং তাদের যত্ন ও নিয়মিত পশুচিকিৎসকের পরিচর্যার ব্যাপারে যত্নশীল, তাদের জন্য এই বিড়াল উপযুক্ত।

প্রশ্নঃ আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়াল কি সবজি খায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সবজি খায়। বিড়ালদের পছন্দের কিছু সবজি হলো মিষ্টি কুমড়া, গাজর, ফুলকপি, আলু । এগুলো সেদ্ধ করে মাছ কিংবা মাংসের সাথে মাখিয়ে খাওয়াতে পারেন।

প্রশ্নঃ পার্সিয়ান বিড়াল কি দুধ পছন্দ করে?
উত্তরঃ বিড়াল দুধ পছন্দ করে না এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তবে বাস্তবে, বেশিরভাগ বিড়ালজাতীয় প্রাণীর মতোই পার্সিয়ান বিড়ালরাও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু। দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে তাদের হজমে গোলযোগ হতে পারে, যার ফলে ডায়রিয়া এবং পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

প্রশ্নঃ আপনার পার্সিয়ান বিড়াল কি বেশি ঘুমায়?
উত্তরঃ ম্যাকআর্থার বলেন, "এরা বিশ্বের সবচেয়ে অলস প্রজাতি। এরা দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা ঘুমায় । এমনকি বিড়ালছানারাও খুব বেশি খেলাধুলা করে না।"

প্রশ্নঃ পার্সিয়ান বিড়ালের দুর্বলতা কোথায়?
উত্তরঃ ছোট নাক এবং নাসারন্ধ্রের কারণে পার্সিয়ানদের শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। এর ফলে অনেকের হাঁপানি এবং চোখের সমস্যা দেখা দেয়। এই সবকিছু সত্ত্বেও, এটাই তাদের দুর্বল দিক এবং এর কারণে তারা অন্যান্য জাতের কুকুরের তুলনায় আগে খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়ি বন্ধ করে দিতে পারে।

 পোস্টের শেষ-কথাঃ আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম

পরিশেষে, ‘আপনার পোষা পার্সিয়ান বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম’ এই আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, পোষ্য হিসেবে পার্সিয়ান বিড়াল রাখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই উল্লেখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখা খুবই জরুরি। কারণ, সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url