রমজানের প্রথম ১০ দিনের দোয়া এবং আমল করার সঠিক নিয়ম

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, বিশ্ব মুসলিম উম্মার জন্য মাহে রমজান হচ্ছে সিয়াম সাধনা বা আত্মশুদ্ধির মাস। এই পবিত্র মাহে রমজান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম দশ দিন রহমত, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফেরাত এবং তৃতীয় দশ দিনকে বলা হয় নাজাতের দশক।

রমজানের-প্রথম-১০-দিনের-দোয়া-এবং-আমল-করার-সঠিক-নিয়ম

তাই আজকে আমাদের আলোচ্য আর্টিকেলে আলোচনা বিষয় হচ্ছে, ‘রমজানের প্রথম ১০ দিনের দোয়া এবং আমল করার সঠিক নিয়ম’

পেজ সূচিপত্রঃ রমজানের প্রথম ১০ দিনের দোয়া এবং আমল করার সঠিক নিয়ম

রমজানের প্রথম ১০ দিনের দোয়া এবং আমল করার সঠিক নিয়ম

ইসলামের ইতিহাস বলে, দ্বিতীয় হিজরিতে পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর উম্মতের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন,

“রমজান এমন এক মাস, যার শুরুতে রহমত, মাঝে মাগফিরাত এবং শেষে রয়েছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি।” (ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৭)

প্রথম দশকে আমরা কোরআনে বর্ণিত একটি দোয়া বেশি বেশি পাঠ করতে পারি-

وَقُل رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: ওয়া কুর রব্বিগফির ওয়ার হাম ওয়া আনতা খইরুর রহিমিন।

অর্থ: আর বলুন, ‘হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সূরা মুমিনুন: ১১৮)

প্রথম দশকে আল্লাহ বান্দার প্রতি রহমত নাজিল করেন। রমজান মাসের রহমতের দশকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। কপটতা না করে, মানুষের দোষত্রুটি অন্বেষণ না করে, রহমত-বরকত-মাগফিরাতের মাসে বেশি নেক আমল করতে হবে।

একজন মুমিন মুসলমান হিসেবে রহমতের মাস রমজানজুড়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নেক কাজে নিয়োজিত থাকা অনেক সহজ। তাই রমজানের রহমতের দশকে আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে রোজাদারের করণীয় বা আমল হলো:

  • দিনের বেলা একনিষ্ঠতার সঙ্গে রোজা পালন করা।
  • জামাতে নামাজ আদায় করা।
  • রাতের তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া।
  • কোরআন তিলাওয়াত করা।
  • দান-সদকা করা।
  • ফিতরা ও জাকাত দেওয়া।
  • আল্লাহর জিকির করা, তাকওয়া অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।

তাছাড়া, রমজানে রহমত বা অনুগ্রহ পাওয়ার ঘোষণা রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াব বা প্রতিদান পাওয়ার নিয়তে রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার বিগত জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’

আরো পড়ুনঃ ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত লাভের উপায়

রমজানের প্রথম ১০ দিনের দোয়াসমূহ সম্পর্কে জানুন

রমজানের প্রথম ১০ দিন যেহেতু রহমত নাজিল হয়, তাই এ সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি রহমত কামনা করে দোয়া করা যেতে পারে। দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে। এ কারণে দোয়া ছাড়া ইবাদত অসম্পূর্ণ থাকে। আর বিশেষ সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে উপযুক্ত দোয়া পড়া সুন্নত। এ ক্ষেত্রে কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে -

رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً وَّ هَیِّیٴۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا

উচ্চারণ: রব্বানা আ-তিনা মিল্লাদুনকা রহমাহ, ওয়াহায়্যি’লানা মিন আমরিনা রশাদা।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন।’ (সূরা কাহফ, আয়াত, ১০)

এছাড়াও, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে এই দোয়াগুলো পড়তেন। ‘আলবালাদুল আমিন’ ও ‘মিসবাহুল কাফআামি’ নামক গ্রন্থে এই দোয়াগুলো রয়েছে। দোয়াগুলো হলো-

  • الیوم الاوّل : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ صِیامی فیهِ صِیامَ الصّائِمینَ، وَقِیامی فیهِ قیامَ الْقائِمینَ وَنَبِّهْنی فیهِ عَنْ نَوْمَةِ الْغافِلینَ، وَهَبْ لى جُرْمی فیهِ یا اِلـهَ الْعالَمینَ، وَاعْفُ عَنّی یا عافِیاً عَنْ الْمجْرِمینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার আজকের রোজাকে প্রকৃত রোজাদারদের রোজা হিসেবে গ্রহণ কর। আমার নামাজকে কবুল কর প্রকৃত নামাজীদের নামাজ হিসেবে। আমাকে জাগিয়ে তোলো গাফিলতির ঘুম থেকে। হে জগতের প্রতিপালক; এদিনে আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। ক্ষমা করে দাও আমার যাবতীয় অপরাধ। হে অপরাধীদের অপরাধ ক্ষমাকারী।

  • الیوم الثّانی : اَللّـهُمَّ قَرِّبْنی فیهِ اِلى مَرْضاتِکَ، وَجَنِّبْنی فیهِ مِنْ سَخَطِکَ وَنَقِماتِکَ وَوَفِّقْنی فیهِ لِقِرآءَةِ ایـاتِکَ بِرَحْمَتِکَ یا اَرْحَمَ الرّاحِمینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার রহমতের উসিলায় আজ আমাকে তোমার সন্তুষ্টির কাছাকাছি নিয়ে যাও। দূরে সরিয়ে দাও তোমার ক্রোধ আর গজব থেকে। আমাকে তৌফিক দাও তোমার পবিত্র কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করার। হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াময়।

  • الیوم الثّالث : اَللّـهُمَّ ارْزُقْنی فیهِ الذِّهْنَ وَالتَّنْبیهَ، وَباعِدْنی فیهِ مِنَ السَّفاهَةِ وَالَّتمْویهِ وَاجْعَلْ لى نَصیباً مِنْ کُلِّ خَیْر تُنْزِلُ فیهِ، بِجُودِکَ یا اَجْوَدَ الاْجْوَدینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, আজকের দিনে আমাকে সচেতনতা ও বিচক্ষণতা দান কর। আমাকে দূরে রাখো অজ্ঞতা, নির্বুদ্ধিতা ও ভ্রান্ত কাজ-কর্ম থেকে। এ দিনে যত ধরণের কল্যাণ দান করবে তার প্রত্যেকটি থেকে তোমার দয়ার উসিলায় আমাকে উপকৃত কর। হে দানশীলদের মধ্যে সর্বোত্তম দানশীল।

  • الیوم الرّابع : اَللّـهُمَّ قَوِّنی فیهِ عَلى اِقامَةِ اَمْرِکَ، وَاَذِقْنی فیهِ حَلاوَةَ ذِکْرِکَ وَاَوْزِعْنی فیهِ لاِداءِ شُکْرِکَ بِکَرَمِکَ، وَاحْفَظْنی فیهِ بِحِفْظِکَ وَسَتْرِکَ، یا اَبْصَرَ النّاظِرینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, এ দিনে আমাকে তোমার নির্দেশ পালনের শক্তি দাও। তোমার জিকিরের মাধুর্য আমাকে আস্বাদন করাও। তোমার অপার করুণার মাধ্যমে আমাকে তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য প্রস্তুত কর। হে দৃষ্টিমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিমান। আমাকে এ দিনে তোমারই আশ্রয় ও হেফাজতে রক্ষা কর।

  • الیوم الخامس : اَللّـهُمَّ اجْعَلْنی فیهِ مِنْ الْمُسْتَغْفِرینَ، وَاجْعَلْنی فیهِ مِنْ عِبادِکَ الصّالِحینَ اْلقانِتینَ، وَاجْعَلنی فیهِ مِنْ اَوْلِیائِکَ الْمُقَرَّبینَ، بِرَأْفَتِکَ یا اَرْحَمَ الرّاحِمینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, এই দিনে আমাকে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর। আমাকে শামিল কর তোমার সৎ ও অনুগত বান্দাদের কাতারে। হে আল্লাহ! মেহেরবানী করে আমাকে তোমার নৈকট্যলাভকারী বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর। হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াবান।

  • الیوم السّادس : اَللّـهُمَّ لا تَخْذُلْنی فیهِ لِتَعَرُّضِ مَعْصِیَتِکَ، وَلاتَضْرِبْنی بِسِیاطِ نَقِمَتِکَ، وَزَحْزِحْنی فیهِ مِنْ مُوجِباتِ سَخَطِکَ، بِمَنِّکَ وَاَیادیکَ یا مُنْتَهى رَغْبَةِ الرّاغِبینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার নির্দেশ অমান্য করার কারণে এ দিনে আমায় লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করোনা। তোমার ক্রোধের চাবুক দিয়ে আমাকে শাস্তি দিও না। সৃষ্টির প্রতি তোমার অসীম অনুগ্রহ আর নিয়ামতের শপথ করে বলছি তোমার ক্রোধ সৃষ্টিকারী কাজ থেকে আমাকে দূরে রাখো। হে আবেদনকারীদের আবেদন কবুলের চূড়ান্ত উৎস।

  • الیوم السّابع : اَللّـهُمَّ اَعِنّی فِیهِ عَلى صِیامِهِ وَقِیامِهِ، وَجَنِّبْنی فیهِ مِنْ هَفَواتِهِ وَآثامِهِ وَارْزُقْنی فیهِ ذِکْرَکَ بِدَوامِهِ، بِتَوْفیقِکَ یا هادِیَ الْمُضِلّینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, এ দিনে আমাকে রোজা পালন ও নামাজ কায়েমে সাহায্য কর। আমাকে অন্যায় কাজ ও সব গুনাহ থেকে রক্ষা করো। তোমার তৌফিক ও শক্তিতে সবসময় আমাকে তোমার স্মরণে থাকার সুযোগ দাও। হে পথ হারাদের পথ প্রদর্শনকারী।

  • الیوم الثّامن : اَللّـهُمَّ ارْزُقْنی فیهِ رَحْمَةَ الاَْیْتامِ، وَاِطْعامَ اَلطَّعامِ، وَاِفْشاءَ السَّلامِ وَصُحْبَةَ الْکِرامِ، بِطَولِکَ یا مَلْجَاَ الاْمِلینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার উদারতার উসিলায় এ দিনে আমাকে এতিমদের প্রতি দয়া করার, ক্ষুধার্তদের খাদ্য দান করার, শান্তি প্রতিষ্ঠা করার ও সৎ ব্যক্তিদের সাহায্য লাভ করার তৌফিক দাও। হে আকাঙ্খাকারীদের আশ্রয়স্থল।

  • الیوم التّاسع : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ لی فیهِ نَصیباً مِنْ رَحْمَتِکَ الْواسِعَةِ، وَاهْدِنی فیهِ لِبَراهینِکَ السّاطِعَةِ، وَخُذْ بِناصِیَتی اِلى مَرْضاتِکَ الْجامِعَةِ، بِمَحَبَّتِکَ یا اَمَلَ الْمُشْتاقینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, এদিনে আমাকে তোমার রহমতের অধিকারী কর। আমাকে পরিচালিত কর তোমার উজ্জ্বল প্রমাণের দিকে। হে আগ্রহীদের লক্ষ্যস্থল। তোমার ভালোবাসা ও মহব্বতের উসিলায় আমাকে তোমার পূর্ণাঙ্গ সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাও।

  • الیوم العاشر : اَللّـهُمَّ اجْعَلْنی فیهِ مِنَ الْمُتَوَکِّلینَ عَلَیْکَ، وَاجْعَلْنی فیهِ مِنَ الْفائِزینَ لَدَیْکَ، وَاجْعَلْنی فیهِ مِنَ الْمُقَرَّبینَ اِلَیْکَ، بِاِحْسانِکَ یا غایَةَ الطّالِبینَ

অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার প্রতি যারা ভরসা করেছে আমাকে সেই ভরসাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর। তোমার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে শামিল করো সফলকামদের মধ্যে এবং আমাকে তোমার নৈকট্যলাভকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও হে অনুসন্ধানকারীদের শেষ গন্তব্য।

আরো পড়ুনঃ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের প্রথম ১০ দিন আমল করার সঠিক নিয়ম জেনে নিন

একজন মুমিন মুসলমান হিসেবে রহমতের মাস রমজানজুড়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নেক কাজে নিয়োজিত থাকা অনেক সহজ। তাই রমজানের রহমতের দশকে আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে রোজাদারের করণীয় বা আমল করার সঠিক নিয়ম হলো:

  • রোজা রাখা: দিনের বেলা একনিষ্ঠতার সঙ্গে রোজা পালন করলে আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য লাভ করা যায়।
  • জামাতে নামাজ আদায় করা: রমজানের রোজা রেখে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা অন্যান্য মাসে তুলনা ৭০ গুণ বেশি সওয়াব দান করেন।
  • নফল ইবাদত বৃদ্ধি: রাতের তারাবি নামাজ ও তাহাজ্জুদ বা চাষতে নামাজ ইত্যাদি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জন।
  • কোরআন তিলাওয়াত করা: রমজান হলো কোরআনের মাস। এই মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা, এর অর্থ ও তাফসীর নিয়ে গবেষণা করা। কোরআনের প্রতিটি অক্ষর পাঠে অগণিত সওয়াব রয়েছে।
  • দান-সদকা করা: গরীব দুঃখীদের সাহায্য করা, ইফতার করানো, সদকা করা দান আল্লাহর রহমত আকর্ষণ করে।
  • ফিতরা ও জাকাত দেওয়া: এই মাসে ফিতরা ও যাকাত দেওয়ায় আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
  • আল্লাহর জিকির ও তাসবিহ পাঠ: সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি জিকির বেশি বেশি করা।
তাছাড়া, রমজানে রহমত বা অনুগ্রহ পাওয়ার ঘোষণা রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াব বা প্রতিদান পাওয়ার নিয়তে রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার বিগত জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’

রোজাদার যেন একাগ্রচিত্তে মহান আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন, সে জন্য রমজানের প্রথম রাতেই অর্থাৎ প্রথম দশকে শয়তানকে বন্দী করা হয়। রহমতস্বরূপ রোজাদারেরা শুরু থেকে কোনো রোজা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য মনে হয় না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.)–এর বর্ণনায় আছে যে রাসুল (সা.) বলেছেন,

‘রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে বন্দী করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। কোনো দরজা খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। কোনো দরজা বন্ধ রাখা হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৬৮২)।

জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়ার অর্থ হলো নেক আমল করা সহজ হয়ে যাওয়া। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার অর্থই হলো বদ আমলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। আর শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলার অর্থই হলো রমজানের আগে তারা স্বাধীনভাবে যথেচ্ছ বিচরণ করেছে এবং বান্দাকে কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা দিয়ে যে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; রমজানের প্রথম রাতেই তাদের বন্দী করা হয়, যেন রোজাদারকে ধোঁকা ও প্রতারণা দিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

পােস্টের শেষ-কথাঃ রমজানের প্রথম ১০ দিনের দোয়া এবং আমল করার সঠিক নিয়ম

পরিশেষে, আমরা বলতে পারি যে, রমজান মাসে বিভিন্ন দোয়া করার পাশাপাশি রোজার সকল আদব রক্ষা করা- শুধু পানাহার থেকে বিরত না থেকে নিজেদের চোখ, কান, জিহ্বা এবং সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পাপ থেকে মুক্ত রাখা। গীবত, মিথ্যাচার, অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা। 

রমজানের এই প্রথম ১০ দিন একটি ভিত্তির মত। এই দশকে আমরা যত বেশি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা চাইবো এবং নেক আমল করব ততই আমাদের পুরো রমজান মাস বরকতময় হয়ে উঠবে। আর তাই এই মাসে আল্লাহ তায়ালার রহমতের জন্য বিশেষভাবে সচেষ্ট হওয়া উচিত।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url