সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
প্রিয় পাঠক- আসসালামু আলাইকুম, প্রতি বছর আরবী বছরের রমজান মাসে একজন মুসলমান হিসেবে পুরোমাস রোজা রাখা ফরজ। আর তার জন্য সেহরি খাওয়া বাধ্যতামূলক। যেহেতু সেহরি খাওয়ার পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত কোন রকম খাবার বা পানীয় একেবারে নিষিদ্ধ। এ জন্য সেহরিতে সঠিক খাদ্য নির্বাচর করা খুব জরুরি।
সেহরিতে একটু ভালো, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পর্যাপ্ত এনার্জি পাওয়া যায়। তাই আজকে আমাদের আর্টিকেলতে আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি’।
পেজ সূচিপত্রঃ সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
- সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
- সেহরিতে যেসমস্ত খাবার খাওয়া জরুরি চলুন জেনে নেই
- সেহরিতে যেসমস্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়- জানা জরুরি
- প্রশ্ন ও উত্তরঃ সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
- পোস্টের শেষ-কথাঃ সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
আমরা জানি, রোজার গুরুত্বপূর্ণ দু’টি অংশ হলো সেহরি ও ইফতার। সেহেরির খাবার রোজাদারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয়। কারণ, সারা দিনের প্রয়োজনীয় এনার্জির জন্য সেহেরির খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই সেহেরির খাবার বাছাইয়ে যথেষ্ট যত্নবান হওয়া উচিত।
সেহরির খাবার আমাদের সারাদিনের শক্তির জোগান দেয়। তাই সেহরিতে কী খাচ্ছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সেহরির খাবারের তালিকায় এমন আইটেম রাখতে হবে যেগুলো আমাদের এনার্জি দেবে এবং অনেকক্ষন পর্যন্ত ক্লান্ত হতে দেবে না।
ডা. ইসমাইল আজহারি (ঢাকমেকহা) জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ২০০০ - ২৫০০ ক্যালোরি সমপরিমাণ খাবার গ্রহণ করতে হয়। তবে রোজার সময় ১০০০ থেকে ১৫০০ ক্যালোরি খাবার গ্রহণ যথেষ্ট। কারণ রোজায় অল্প খাবার গ্রহণ করলেই অটোফ্যাজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর কোষ সমূহ পরিষ্কার হয়। তাই অন্যান্য সময় যে পরিমাণ খাবার খাওয়া যায়, রোজায় তার চেয়ে এক তৃতীয়াংশ কম খেতে হবে।
সেহরি হবে সুপাচ্য, সহজে হজমযোগ্য, পর্যাপ্ত ক্যালোরি সমৃদ্ধ সুষম খাবারের সমন্বয়। খাদ্য তালিকায় সব গ্রুপের খাবার থাকতে হবে, যেমন- প্রোটিন, শর্করা, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেলযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার জাতীয় খাবার। সম্ভব হলে লাল চালের ভাত কিংবা লাল আটার রুটি খেতে পারলে ভালো।
আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সেহেরির যে খাদ্যাভ্যাস, সেটা পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বেশিরভাগ মানুষই সেহেরির খাবারের তালিকায় উচ্চ চর্বিসমৃদ্ধ ও তেলে ভাজা খাবার বেঁছে নেন। এগুলো খেয়ে রোজা রাখলে শরীর এমনিতেই ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
সেহরিতে যেসমস্ত খাবার খাওয়া জরুরি চলুন জেনে নেই
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সেহরিতে খাবার নির্বাচন করতে ভুল করে থাকি। ফলে অনেকের পেটে এসিডিটি ও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই সেহরিতে কি কি খাবার খাওয়া জরুরী বা খাওয়া উচিত তা নিম্নে আলোচনা করা যাক-
- ফাইবার বা আশঁযুক্ত খাবার: সেহরিতে যে সমস্ত খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ এনার্জি পাওয়া যায় তার মধ্যে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেহরিতে প্রচুর পরিমাণে আশঁযুক্ত খাবার খেতে হবে। কারণ, শরীর আশঁযুক্ত খাবার শোষণ করতে বেশি সময় নেয়। রোজা থাকা অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ শরীর শক্ত থাকে এবং খোদা কম পায়। আশঁযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে- ব্রকলি, ছোলা, ওটস, কলা, আম, আপেল, গাজর, ডাল ইত্যাদি জাতীয় খাবার।
- ফল-মূল ও সবজি জাতীয় খাবার: সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল ও সবজি খান। ফল ও সবজির মধ্যে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন। এগুলো শরীরের জন্য জরুরি। সেহরিতে পানি জাতীয় ফল বেশি বেশি খাওয়া ভালো। এতে করে দিনের বেলা শরীর ঠান্ডা থাকে। তাই পানি শূন্যতার ঘাটতি পূরণ করতে সেহেরিতে তরমুজ, আপেল, তাল, কমলা, মালটা, কলা ও পেয়ারা খাওয়া ভালো।
- প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার: প্রোটিন হলো একটি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যা শরীর সহজেই হজম করতে পারে এবং শক্তি প্রদানেও কার্যকর। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্যও পরিচিত। সেহরির মেন্যুতে ডিম, মুরগির মাংস, পনির, বাদাম, বাদাম-মাখন, ছোলা, ডাল ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
- কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার: রমজান মাসে সেহরি খাওয়ার পর ইফতারের আগ পর্যন্ত কার্বোহাইড্রেট এর কোন বিকল্প নেই। তাই সেহেরির খাদ্য তালিকায় এই উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য পরিমানমত ভাত, আলু, কর্ণ স্যুপ কিংবা দুধ জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে।
- পানি: সেহরিতে অন্তত এক লিটার পানি পান করুন। এই পানি শরীরের ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে ক্ষুধার চাহিদাকে অনেকটা কমাবে। এতে হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে আবার হজম ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
সেহরিতে যেসমস্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়- জানা জরুরি
সেহরিতে কি কি খাবার খাওয়া উচিত নয় তা নিম্নে আলোচনা করা যাক-
- অতিরিক্ত ঝাল খাবার, চর্বিজাতীয় খাবার কিংবা তেলে ভাজা খাবার সেহরিতে খাওয়া উচিত নয়।
- সেহরিতে চা/কফি বা ক্যাফিনেটেড পানীয় পান করলে অ্যাসিডিটি, ডিহাইড্রেশন এবং দিনের বেলায় পেট জ্বালাপোড়া করতে পারে। এগুলো অনিদ্রাও তৈরি করতে পারে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
- সেহরিতে অতিরিক্ত তেল ও মসলাজাতীয় খাবার রাখবেন না। এগুলো অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করে।
- এ সময় শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাবেন না। এ ধরনের খাবার শরীরকে পানিশূন্য করে।
- সেহেরিতে লবণাক্ত খাবার পরিহার করুন। যেমন: আচার, বেশি মসলাজাতীয় খাবার, প্রকিয়াজাত খাবার, ভারি ডেজার্ট ও কোমল পানীয় ইত্যাদি।
- পাকস্থলীতে অস্বস্তি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন।
প্রশ্ন ও উত্তরঃ সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
পোস্টের শেষ-কথাঃ সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি
পরিশেষে, ‘সেহরিতে যেসমস্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখে -জানা জরুরি’ শিরোনামের এই আর্টিকেলটি আলোচনা করে আমরা বলতে পারি যে, রমজান মাস শুধু আত্মিক শুদ্ধি ও ইবাদতের মাস নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার একটি অনন্য সুযোগ। সেহেরিতে সঠিক খাবার খেলে রোজা রাখা অনেকটা সহজ হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। তাই সেহেরিতে সঠিক খাবার বেঁছে নেওয়া জরুরি।
বিশেষকথা: এই পোস্টে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান এবং তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বদা একজন যোগ্যতাসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।



গ্রো কেয়ার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url